পিরিয়ড চলাকালীন চোখে সুরমা লাগানো যাবে কি?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 2472
Questioner: SADIYA KHATUN
Question Asked: 09 Jul 2026, 12:55 PM
Reviewed & Published: 09 Jul 2026, 01:14 PM
Views: 60
Tokens: 3,098
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় চোখে সুরমা লাগানো যাবে কি?

Answer

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

হ্যাঁ, পিরিয়ড (হায়েজ) চলাকালীন অবস্থায় মহিলাদের জন্য চোখে সুরমা (কাজল) লাগানো জায়েজ (অনুমোদিত) ও বৈধ। এতে কোনো ধরনের পাপ বা গুনাহ নেই, কারণ সুরমা লাগানো ইবাদত বা এমন কোনো কাজ নয় যার জন্য পবিত্রতা (তাহারাত) শর্ত।


বিস্তারিত দলিল ও বিশ্লেষণ:

১. মৌলিক নীতি: হায়েজের অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ

ইসলামী শরিয়তে হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় একজন নারীর জন্য যা কিছু নিষিদ্ধ, তা সুস্পষ্টভাবে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো নিষিদ্ধ:

  • সালাত (নামাজ) আদায় করা
  • রোযা রাখা (পরবর্তীতে কাজা করতে হবে)
  • কাবা শরীফের তওয়াফ করা
  • কুরআন মাজিদ স্পর্শ করা (পর্দার আড়ালে বা তিলাওয়াতের নিয়তে স্পর্শ না করা)
  • মসজিদে অবস্থান করা
  • স্বামীর সাথে সহবাস করা

(সূত্র: সূরা আল-বাকারা, ২:২২২; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮৯)

২. সুরমা লাগানোর বিধান

সুরমা বা কাজল লাগানো মূলত একটি জায়েজ (অনুমোদিত) কাজ। এটি কোনো ইবাদত (যেমন নামাজ, রোজা) নয়, বরং এটি একটি সৌন্দর্যবর্ধক বা চোখের পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম। হায়েজের অবস্থায় নারীরা তাদের স্বামীর জন্য সাজগোজ করতে পারবেন, তবে অশ্লীলতা বা গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। (সূত্র: আল-মুহীত আল-বুরহানি, ১/৪১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৯)

৩. হানাফি ফিকহের দলিল ও মতামত

হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, হায়েজ অবস্থায় নারীদের জন্য সুরমা লাগানো, চুল আঁচড়ানো, নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা – সবই জায়েজ।

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): এ কিতাবে বলা হয়েছে, "হায়েজ অবস্থায় নারীর জন্য মেহেদি লাগানো, সুরমা লাগানো, চুল আঁচড়ানো – এসব কাজ জায়েজ। কেননা এগুলো শুধুমাত্র সাজসজ্জা, যা থেকে তাকে বিরত রাখা হয়নি।" (উদ্ধৃতি: রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩; কিতাবুত তাহারা, বাবুল হায়েজ)

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরি): এ কিতাবে লেখা হয়েছে, "হায়েজ অবস্থায় মহিলা তার প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারবে, সুরমা লাগাতে পারবে, এবং নিজেকে সাজাতে পারবে। এতে কোনো দোষ নেই।" (উদ্ধৃতি: ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ): তিনি একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করেন, "হায়েজ অবস্থায় মহিলার জন্য সুরমা লাগানো, চুল বাঁধা, আয়নায় দেখা – সব জায়েজ আছে।" (উদ্ধৃতি: ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৬৯)

৪. ভুল ধারণা নিরসন

অনেকের মনে ভুল ধারণা থাকে যে, হায়েজ অবস্থায় মহিলা অপবিত্র (নাপাক) থাকার কারণে কোনো সাজসজ্জা বা সৌন্দর্য বর্ধন করবে না। এটি শরিয়তের কোনো নির্দেশনা নয়। অপবিত্রতা (হাদাস) শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ইবাদতের জন্য বাধা, দৈনন্দিন জীবনের জন্য নয়। হায়েজ অবস্থায় মহিলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, শুধু উল্লেখিত ইবাদতগুলি থেকে বিরত থাকবেন।


সারসংক্ষেপ:

  • পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে চোখে সুরমা লাগানো সম্পূর্ণ জায়েজ এবং বৈধ।
  • এটি কোনো ইবাদত নয়, তাই এর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়।
  • হায়েজ অবস্থায় নারীর জন্য সাজগোজ করা, সুরমা লাগানো, চুল আঁচড়ানো সবই অনুমোদিত।
  • উল্লেখিত হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহ (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ইমদাদুল ফাতাওয়া) এর স্পষ্ট দলিল দেয়।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.