স্বামী যদি বলে "তোমার যদি মনে হয় যে,আমি তোমাকে ভালোবাসি না,তাহলে তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, প্রতিউত্তরে স্ত্রী যদি এর থেকে আমার মৃত্যু ভালো, তাহলে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Shafei

Question No: 247
Questioner: Umme Sumaiya
Question Asked: 17 May 2026, 10:24 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 10:37 PM
Views: 27
Tokens: 4,298
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হুজুর আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসি, সারাজীবন তার সাথেই থাকতে চাই। আমার বিয়ের আগে থেকেই ওয়াসওয়াসা জনিত অনেক সমস্যা ছিল বিশেষ করে নামাজ পড়ার সময় বা ইসলামিক বিষয়ে বেশি ফেস করতাম আগে ওয়াসওয়াসা তখনো অনেক পেরেশান হতাম।
একদিন
আমার স্বামী তার রাগের সময় আমাকে হুবহু এই কথা বলেছিল মেসেজে যে - "তোমার যদি মনে হইয়া থাকে তোমার বান্ধবীরা ঠিক, আমি তোমাকে ভালোবাসি না, কেয়ার করি না, প্রোটেক্টিভ না তোমার জন্য তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, Soon।"
​এর বিপরীতে আমি তাকে উত্তর দিয়েছিলাম:
​"এর থেকে আমার মৃত্যু ভালো। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি অনেক বেশি সারাজীবন বাসবো এই কালেও ওই কালেও"
​স্বামী (পুনরায় জোর দিয়ে) বলে:
​"যেটা বলছি সেটাই করবা, যদি বিন্দু মাত্র মনে হইয়া থাকে, তুমি আমাকে বলছিলা আমি তোমাকে ভালোবাসিনা, তোমাকে নিয়ে প্রোটেক্টিভ না" এরপর আমি বলেছিলাম "তুমি আমাকে ফিল করাইছিলা যে তুমি আমাকে ভালোবাসোনা, কেয়ার করোনা, প্রোটেক্টিভ না"

তারপর আমাদের মধ্যে অন্য বিষয়ে কথা হয় আর আল্লাহর রহমতে ওই রাতেই সবকিছু ঠিক হয়ে যায় আমাদের মধ্যে।

​প্রশ্ন ১: হুজুর আমাদের ওই কথোপকথনে আমার তালাক প্রদানের কোনো ক্ষমতা আসছে? নাকি তার বলা কথাগুলার উত্তরে আমার বলা কথায় বা তখন ওই অধিকার গ্রহণ না করায় সেই অধিকার তখন প্রত্যাখ্যান হয়েছে? ওই ঘটনার দুই মাস হয়ে গেছে আমাদের মধ্যে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক আছে, ওই অধিকার বাতিল হয়ে গেছে নাকি তার শর্তের জন্য এখনো আছে?
হুজুর ওই অধিকার বা ক্ষমতা থাকলে আমার পক্ষে এখন কোনোভাবে কিছু বলে বাতিল করার সুযোগ আছে??

​হুজুর আমার স্বামীর ওই কথার পর থেকে আমার মধ্যে চিন্তা ঢুকে যায়। আর শয়তান বারবার আমার মধ্যে ওই শব্দ উচ্চারণের জন্য ওয়াসওয়াসা দেয় এমন হয় আমি নরমাল কোনো কাজ করতে গেলেও, স্বামীর কাছে গেলেও আমার মনে ওই শব্দ আসে আর মনে হয় ওই শব্দ আমি উচ্চারণ করে ফেলতেছি, এটা নিয়ে অনেক টেনশন এ পড়ে যাই, স্বামীর সাথে কোনো বিষয়ে মন খারাপ হইলে ওই চিন্তা গুলা আরো বেশি আসে।


​প্রশ্ন ২: এমনতাবস্থায় যদি তালাক দেওয়ার কথা চিন্তা থেকে মনে "তালাক" শব্দ আসলে এরকম যে মুখ থেকে ঐ শব্দ উচ্চারণ হতে নিছিল কিন্তু এমন অবস্থায় মুখ থেকে শুধু "উম" আওয়াজ বের হয় কিন্তু সেই আওয়াজ "তালাক" শব্দের কোনো অক্ষর উচ্চারণ এর আওয়াজ হয়নাই , মানে "তালাক" শব্দের স্পষ্ট কোনো অক্ষর বা হরফ উচ্চারণ হওয়ার আওয়াজ হইছে কিনা আমি নিশ্চিত না কিন্তু আওয়াজ পাইছি অনেকটা ঠোঁট বন্ধ রেখে উচ্চারণের চেষ্টায় "উম" বা এধরণের উচ্চারণের আওয়াজ হয় তাহলে কি তালাক হবে?

Answer

উত্তর (বাংলায়):


প্রশ্ন ১: স্বামীর কথোপকথনে কি স্ত্রীর তালাক প্রদানের অধিকার এসেছে?

উত্তর:
না, আপনার স্বামীর ওই কথোপকথনে আপনার তালাক প্রদানের কোনো ক্ষমতা আসেনি। শাফিʿঈ মাজহাব অনুযায়ী, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেন (তাফউইদ/كتابة الطلاق) তবে তা গ্রহণের জন্য স্ত্রীর স্পষ্ট বা ইঙ্গিতপূর্ণ সম্মতি আবশ্যক। আপনার স্বামী শর্তসাপেক্ষে বলেছিলেন: “তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, Soon” – কিন্তু আপনি তা গ্রহণ করেননি; বরং আপনি বলেছিলেন: “এর থেকে আমার মৃত্যু ভালো” এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলেন। সুতরাং, আপনি ওই অধিকার গ্রহণ না করায় তা বাতিল হয়েছে। পরে পুনরায় স্বামী জোর দিয়ে বললেও আপনি শুধু তার অনুভূতির কথা বলেছেন, অধিকার গ্রহণ করেননি। তাই দুই মাস পরও কোনো অধিকার অবশিষ্ট নেই। (সূত্র: আল-উম্ম, ৫/২৪৯; আল-মাজমূʿ, ১৭/১১৮; মিনহাজ আল-তালিবীনমুগনি আল-মুহতাজ, ৩/৩৫৪)।

উল্লেখ্য: স্বামীর কথায় “তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবা” বলা সত্ত্বেও গ্রহণ না করায় তা দায়মুক্ত। দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকায় এখন আর কোনো উদ্বেগ নেই। আপনি চাইলে কোনো বিশেষ দোয়া বা পরিস্থিতির মাধ্যমে অধিকার বাতিলের দরকার নেই – কারণ তা আদৌ গৃহীত হয়নি।


প্রশ্ন ২: ওয়াসওয়াসার কারণে "উম" শব্দ উচ্চারণ করলে কি তালাক হবে?

উত্তর:
না, আপনার বর্ণিত অবস্থায় কোনো তালাক হয়নি। শাফিʿঈ ফিকহে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্পষ্ট ও অর্থপূর্ণ শব্দ উচ্চারণ জরুরি। আপনি যদি শুধু “উম” (ঠোঁট বন্ধ রেখে আওয়াজ) বের করে থাকেন, যা “তালাক” শব্দের কোনো হরফ উচ্চারণ নয়, তবে তা তালাক বলে গণ্য হবে না। এমনকি যদি আপনার মনে ওয়াসওয়াসার কারণে “তালাক” শব্দটি আসে এবং মুখ দিয়ে অস্পষ্ট আওয়াজ বের হয়, কিন্তু শব্দটি পরিষ্কার না হয়, তবুও তালাক হবে না। ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “তালাক কেবলমাত্র স্পষ্ট উচ্চারণে এবং সুস্পষ্ট অর্থে কার্যকর হয়। ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ কোনো প্রভাব ফেলে না।” (আল-মাজমূʿ, ১৭/২৪)।

আপনার জন্য নির্দেশনা:

  • ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না। শয়তান আপনাকে উত্তেজিত করতে চায়।
  • নামাজ, দাম্পত্য জীবন ও স্বাভাবিক কাজে মনোযোগ দিন।
  • যদি মনে হয় আপনি “তালাক” বলে ফেলেছেন কিন্তু নিশ্চিত না হন, তাহলে তা উপেক্ষা করুন। নিশ্চিত না হলে কোনো তালাক হয় না। (সূত্র: মুগনি আল-মুহতাজ, ৩/৩৫৬; ফাতহ আল-মুʿইন, ৪/৫০; ইসলামকিউএ.ইনফো ফতোয়া নং ১০১০৭২)।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার স্বামীর কথায় আপনার কোনো তালাক দেওয়ার অধিকার হয়নি, কারণ আপনি তা গ্রহণ করেননি।
  • ওয়াসওয়াসার কারণে অস্পষ্ট শব্দ উচ্চারণে কোনো তালাক হয়নি। আপনি নিরাপদ।
  • দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক রাখুন এবং ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন।

আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য দিন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.