শায়েখ আল মাহফুজের আল কুরআনের সহজ ভাবানুবাদ কি পড়া যাবে?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
শায়েখ আল মাহফুজ এর আল কুরআন সহজ ভাবঅনুবাদ কেমন হবে এটা পড়া যাবে কি?
Answer
উত্তর: শায়েখ আল মাহফুজ রচিত "আল কুরআন সহজ ভাবানুবাদ" পড়া যাবে কি?
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
মহান আল্লাহ কুরআন মাজিদকে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নাযিল করেছেন। কুরআন বোঝার জন্য অনুবাদ ও তাফসিরের প্রয়োজন হতে পারে। তবে অনুবাদ যেহেতু মানবিক প্রচেষ্টা, তাই অনুবাদককে অবশ্যই আমানতদার, বিশ্বস্ত ও বিদ্বান হতে হবে।
শায়েখ আল মাহফুজ (রহ.) একজন স্বনামধন্য ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষক। তাঁর রচিত অনুবাদ সম্পর্কে আলেমদের অভিমত নিম্নরূপ:
১. অনুবাদের বৈশিষ্ট্য: শায়েখ আল মাহফুজের অনুবাদ "সহজ ভাবানুবাদ" নামে পরিচিত। তিনি কুরআনের আয়াতের সরল ও সহজ অর্থ বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তবে কখনো কখনো এই ধরণের "ভাবানুবাদ"-এ শব্দানুবাদ ও তাফসিরি অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়। কারণ কুরআনের প্রতিটি শব্দের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে এবং ভাবানুবাদে অনেক সময় শাব্দিক সূক্ষ্মতা হারিয়ে যেতে পারে।
২. আলেমদের মতামত: অধিকাংশ হানাফি আলেমগণ মনে করেন, সাধারণ মুসলমানদের জন্য সহজবোধ্য অনুবাদ পড়া জায়েয আছে, তবে শর্ত হলো অনুবাদটি যেন সঠিক ও নির্ভরযোগ্য হয়। শায়েখ আল মাহফুজের অনুবাদ তাফসিরি দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণত গ্রহণযোগ্য। তবে কিছু সময় তাঁর অনুবাদে ব্যতিক্রমী মতামত বা তাফসিরি অভিমত থাকতে পারে, যা মূলধারার হানাফি তাফসিরের (যেমন তাফসিরে উসমানি, মাআরিফুল কুরআন) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
৩. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার অনুসারীগণ কুরআন বোঝার জন্য অনুবাদ ও তাফসির পড়ার অনুমতি দিয়েছেন, তবে মূল আরবি তিলাওয়াতের ইবাদত হিসেবে গুরুত্ব বজায় রাখতে বলেছেন। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, কিতাবুস সালাত)
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তার তাফসির "মাআরিফুল কুরআন"-এ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের অনুবাদ পড়া জায়েয, কিন্তু তা যেন সহি আকিদার ভিত্তিতে হয় এবং যথাযথ জ্ঞানসম্পন্ন আলেম কর্তৃক রচিত হয়।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এ এসেছে, সাধারণ মানুষ কুরআনের অর্থ বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য তাফসির ও অনুবাদ পড়তে পারবে, তবে নিজের মতামত বা অনুভূতি দিয়ে অর্থ না করে আলেমের তদারকিতে পড়া উচিত।
সিদ্ধান্ত:
- যদি শায়েখ আল মাহফুজের অনুবাদটি তাঁর স্বনামধন্য জ্ঞান ও আমানতদারির ভিত্তিতে হয়, এবং তাতে কুরআনের মূল অর্থ ও আকিদার সাথে কোনো স্পষ্ট বিরোধ না থাকে, তাহলে তা পড়া জায়েয ও বৈধ।
- তবে সতর্কতা হিসেবে, কুরআনের অনুবাদ পড়ার সময় সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা উচিত সেইসব অনুবাদের উপর যা প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য আলেমদের সমর্থন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ছাপানো হয়েছে। যেমন: মাআরিফুল কুরআন, তাফহিমুল কুরআন, কুরআনুল কারিমের বাংলা অনুবাদ (মুজাফফর বিন মুহসিন প্রমুখের) ইত্যাদি।
- উত্তম পদ্ধতি: কুরআন তিলাওয়াতের সময় সরাসরি আরবি পাঠ করা এবং অর্থ বুঝতে নির্ভরযোগ্য তাফসিরের সহায়তা নেওয়া। আর অনুবাদ পড়ার সময় কখনো কখনো শব্দানুবাদ ও তাফসিরি অনুবাদের মধ্যে পার্থক্য বুঝে নেওয়া ভালো।
সারকথা: শায়েখ আল মাহফুজের "সহজ ভাবানুবাদ" পড়া যাবে, তবে কুরআনের মূল আরবি তিলাওয়াতের পাশাপাশি তা অর্থ বুঝার মাধ্যম হিসেবে গণ্য করবেন। এবং কোনো জটিল আয়াতের অনুবাদ বুঝতে সংশ্লিষ্ট আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরআন বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)