উপন্যাস পড়া যাবে কি না

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2387
Questioner: Afra Aroya
Question Asked: 06 Jul 2026, 02:56 PM
Reviewed & Published: 06 Jul 2026, 03:10 PM
Views: 23
Tokens: 2,915
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ফেসবুকে কিছু পেজ থেকে কয়েক পর্বের উপন্যাস পোস্ট করা হয় এগুলো পড়া যাবে কি না। যেমন, কাজিন রিলেটেড,ভার্সিটি রিলেটেড।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উপন্যাস (কল্পকাহিনী) পড়ার বিধান

প্রশ্নে উল্লিখিত ‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ ইত্যাদি উপন্যাস সাধারণত প্রেম-প্রীতি, অবৈধ সম্পর্ক, অশ্লীলতা বা সময় নষ্টকারী বিষয়ে লিখিত হয়। এ ধরনের উপন্যাস পড়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নিম্নোক্ত কারণে নিষিদ্ধ (হারাম) বা অন্তত অত্যন্ত নিরুৎসাহিত (মাকরূহ):

১. মিথ্যা ও বাস্তবতাবর্জিত ঘটনা

উপন্যাস অধিকাংশই কাল্পনিক কাহিনী, যাতে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ থাকে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মিথ্যা ও অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছেন:

“আর যারা অনর্থক কাজ থেকে বিমুখ থাকে।” (সূরা আল-মুমিনুন: ৩)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: “গল্প-উপন্যাস, কবিতা ও বিনোদনমূলক কথাবার্তা যদি সত্য হয় এবং উপকারী হয়, তবে তা অনুমোদিত। কিন্তু যদি মিথ্যা, অশ্লীলতা বা অপচয় হয়, তবে তা নিষিদ্ধ।” (আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যা)

২. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রচার

‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ জাতীয় উপন্যাসে প্রায়শই অবৈধ প্রেম, মেয়ে-ছেলের মেলামেশা, খোলামেলা দৃশ্য ইত্যাদি থাকে। এগুলো মুসলিম যুবক-যুবতীর মনে কুমারীত্ব ও পর্দার গুরুত্ব নষ্ট করে এবং ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

“নিশ্চয়ই ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় ঈমান সম্পন্ন হয় না যে অবস্থায় সে ব্যভিচার করে।” (বুখারী: ২৪৭৫, মুসলিম: ৫৭)
শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন: “যে সকল বই-পুস্তক, গল্প-উপন্যাস, নাটক বা চলচ্চিত্র অশ্লীলতা ও অপকর্ম প্রচার করে, সেগুলো পড়া, দেখা বা শোনা হারাম।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া: ৯/২৭২)

৩. সময় নষ্ট করা

উপন্যাস পড়তে অনেক সময় ব্যয় হয়, যা নামায, কুরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন বা পরিবারের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ বলেন:

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে।” (সূরা আল-মুনাফিকুন: ৯)
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: “বর্তমান যুগে অনলাইনে অশ্লীল ও বিনোদনমূলক গল্প-উপন্যাসের পিছনে সময় নষ্ট করা একটি বড় ফিতনা। মুমিনের উচিত তার প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করা।” (আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান: ২/২৮৪)

৪. হারাম সম্পর্কের প্রতি উৎসাহ

এ ধরনের উপন্যাস পড়লে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কাজিন প্রেম’, ‘ভার্সিটি ক্যাম্পাস প্রেম’ ইত্যাদি স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় মনে হয়। অথচ ইসলাম বিবাহের পূর্বে কোনো পুরুষ-নারীর অবৈধ সম্পর্ক বা ‘প্রেম’ নিষিদ্ধ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:

“যখন কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে নিভৃতে মিলিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন শয়তান হয়।” (তিরমিযী: ২১৬৫)

সুতরাং,

‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ ইত্যাদি প্রেম-প্রীতি ও কল্পকাহিনীমূলক উপন্যাস পড়া জায়েয নয়। মুসলিমের কর্তব্য হলো নিজের ও পরিবারের জন্য উপকারী ইসলামী বই, সীরাত, তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ইত্যাদি পড়া।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.