উপন্যাস পড়া যাবে কি না
Family Life · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উপন্যাস (কল্পকাহিনী) পড়ার বিধান
প্রশ্নে উল্লিখিত ‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ ইত্যাদি উপন্যাস সাধারণত প্রেম-প্রীতি, অবৈধ সম্পর্ক, অশ্লীলতা বা সময় নষ্টকারী বিষয়ে লিখিত হয়। এ ধরনের উপন্যাস পড়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নিম্নোক্ত কারণে নিষিদ্ধ (হারাম) বা অন্তত অত্যন্ত নিরুৎসাহিত (মাকরূহ):
১. মিথ্যা ও বাস্তবতাবর্জিত ঘটনা
উপন্যাস অধিকাংশই কাল্পনিক কাহিনী, যাতে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ থাকে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মিথ্যা ও অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছেন:
“আর যারা অনর্থক কাজ থেকে বিমুখ থাকে।” (সূরা আল-মুমিনুন: ৩)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: “গল্প-উপন্যাস, কবিতা ও বিনোদনমূলক কথাবার্তা যদি সত্য হয় এবং উপকারী হয়, তবে তা অনুমোদিত। কিন্তু যদি মিথ্যা, অশ্লীলতা বা অপচয় হয়, তবে তা নিষিদ্ধ।” (আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যা)
২. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রচার
‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ জাতীয় উপন্যাসে প্রায়শই অবৈধ প্রেম, মেয়ে-ছেলের মেলামেশা, খোলামেলা দৃশ্য ইত্যাদি থাকে। এগুলো মুসলিম যুবক-যুবতীর মনে কুমারীত্ব ও পর্দার গুরুত্ব নষ্ট করে এবং ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
“নিশ্চয়ই ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় ঈমান সম্পন্ন হয় না যে অবস্থায় সে ব্যভিচার করে।” (বুখারী: ২৪৭৫, মুসলিম: ৫৭)
শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন: “যে সকল বই-পুস্তক, গল্প-উপন্যাস, নাটক বা চলচ্চিত্র অশ্লীলতা ও অপকর্ম প্রচার করে, সেগুলো পড়া, দেখা বা শোনা হারাম।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া: ৯/২৭২)
৩. সময় নষ্ট করা
উপন্যাস পড়তে অনেক সময় ব্যয় হয়, যা নামায, কুরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন বা পরিবারের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে।” (সূরা আল-মুনাফিকুন: ৯)
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: “বর্তমান যুগে অনলাইনে অশ্লীল ও বিনোদনমূলক গল্প-উপন্যাসের পিছনে সময় নষ্ট করা একটি বড় ফিতনা। মুমিনের উচিত তার প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করা।” (আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান: ২/২৮৪)
৪. হারাম সম্পর্কের প্রতি উৎসাহ
এ ধরনের উপন্যাস পড়লে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কাজিন প্রেম’, ‘ভার্সিটি ক্যাম্পাস প্রেম’ ইত্যাদি স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় মনে হয়। অথচ ইসলাম বিবাহের পূর্বে কোনো পুরুষ-নারীর অবৈধ সম্পর্ক বা ‘প্রেম’ নিষিদ্ধ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
“যখন কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে নিভৃতে মিলিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন শয়তান হয়।” (তিরমিযী: ২১৬৫)
সুতরাং,
‘কাজিন রিলেটেড’, ‘ভার্সিটি রিলেটেড’ ইত্যাদি প্রেম-প্রীতি ও কল্পকাহিনীমূলক উপন্যাস পড়া জায়েয নয়। মুসলিমের কর্তব্য হলো নিজের ও পরিবারের জন্য উপকারী ইসলামী বই, সীরাত, তাফসীর, হাদীস, ফিকহ ইত্যাদি পড়া।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন।