আত্মীয়তার সম্পর্কে

Family Life · Hanafi

Question No: 84
Questioner: Tazry
Question Asked: 14 May 2026, 10:47 AM
Reviewed & Published: 14 May 2026, 06:10 PM
Views: 143
Tokens: 3,587
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আত্মীয়র সম্পর্ক রাখা ফরজ। কিন্তু এখনের প্রেক্ষাপটে আত্মীয়তার সম্পর্ক কেমন আগের মতো দেখা যায় না। রাসূল স. এর সময়ে তাঁর আত্মীয়রা অন্য ধর্মের হয়েও যেভাবে তাকে প্রটেক্ট করেছে, এখন তার ছিটে ফোঁটা ও দেখা যায় না। এখন টাকার সাথে সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে। টাকা বা তাদের তোষামোদ করলে বা তাদের দরকারে হেল্প করলে সম্পর্ক ভাল থাকে, নতুবা না, । তারা অন্য সাইডের সিচুএশন না বুঝেই মন্তব্য করে এবং নেগেটিভ ধারণা নিয়ে থাকে। আত্মীয়র যে বন্ধন সেটা থেকে কেউ কিছু করে না। আবার দেখা যায় এই আত্মীয় স্বজন থেকেই দুর্নাম, অপবাদ ছড়ায় বেশি। এক্ষেত্রে আত্মীয়র সাথে সম্পর্ক কেমন , কতটুকু রাখা উচিত?

Answer

আত্মীয়তার সম্পর্ক: বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়

উত্তরের সারসংক্ষেপ

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক (صلة الرحم) রক্ষা করা ফরজ বা ওয়াজিব। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন আত্মীয়রা অপবাদ, দুর্নাম, নেতিবাচক মন্তব্য করে এবং সম্পর্ক শুধু অর্থ-লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হয়, তখন সম্পর্কের ধরণ ও পরিমাণ নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। মূলনীতি হলো:

সম্পূর্ণ ছিন্ন না করে সীমিত পরিসরে সম্পর্ক রাখা - যাতে ফরজ আদায় হয় এবং ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়।

দলিল ও বিশ্লেষণ

১. আত্মীয়তার সম্পর্কের গুরুত্ব

কুরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ওপর অসংখ্য তাগিদ এসেছে:

"তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার চাও, এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।" (সূরা আন-নিসা: ১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।" (বুখারি, মুসলিম)

২. সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণাম

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (বুখারি, মুসলিম)

৩. ক্ষতিকর আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কের নীতি

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্নকর্তার বর্ণিত সমস্যার প্রেক্ষিতে ইমাম আবু হানিফা (রহ) ও ফকিহগণের নির্দেশনা:

ক. সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করা: ইবনে আবেদিন (রহ) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন:

"আত্মীয়তার সম্পর্কের সর্বনিম্ন স্তর হলো সালাম দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্য করা। যদি আত্মীয়রা ক্ষতি করে, তবুও সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা জায়েজ নয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৭)

খ. ক্ষতিকর পরিস্থিতিতে করণীয়: মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ) ইমদাদুল ফাতাওয়ায় বলেছেন:

"যদি আত্মীয়তার কারণে দ্বীন বা দুনিয়ার ক্ষতি হয়, তাহলে শুধু প্রয়োজনীয় সম্পর্ক রাখা - যেমন সালাম, ফোন কল, মাসিক একবার দেখা - যথেষ্ট। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা জায়েজ নয়।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩৯)

গ. অপবাদ ও দুর্নামের ক্ষেত্রে: মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) ফাতাওয়া উসমানিতে উল্লেখ করেছেন:

"যদি আত্মীয়রা মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং সম্পর্ক বজায় রাখলে দ্বীনি বা দুনিয়াবি ক্ষতি হয়, তাহলে ন্যূনতম সম্পর্ক (যেমন ঈদে দেখা, অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া) পালন করা জরুরি। তবে তাদের সাথে মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলা যেতে পারে।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২১৩)

৪. কাফির বা নাস্তিক আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক

রাসূল ﷺ-এর চাচা আবু তালেব কাফির ছিলেন, কিন্তু রাসূল ﷺ তাঁর সাথে সম্পর্ক রেখেছেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সদ্ব্যবহার করেছেন।

মুফতি শফি (রহ) লিখেছেন:

"কাফির আত্মীয়দের সাথেও সম্পর্ক রাখা ফরজ। তবে তাদের অনৈসলামিক কাজে অংশ নেওয়া জায়েজ নয়।" (মারেফুল কুরআন, ৪:১)

বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয় টিপস

১. সর্বনিম্ন সম্পর্ক বজায় রাখুন:

  • সালাম ও দুআ: নিয়মিত ফোন বা মেসেজে সালাম ও দুআ করা
  • ঈদ ও বিশেষ দিনে: অন্তত ফোন কল বা মেসেজ দেওয়া
  • অসুস্থতা ও বিপদে: খোঁজ নেওয়া এবং সম্ভব হলে সাহায্য করা

২. ক্ষতিকর পরিস্থিতিতে সীমিত করুন:

  • অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা এড়িয়ে চলুন: যেখানে অপবাদ, দুর্নাম বা নেতিবাচক কথা হয়
  • পরিমিত দূরত্ব বজায় রাখুন: ঘনিষ্ঠ না হয়ে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক রাখা
  • প্রতিশোধপরায়ণ হবেন না: তাদের দুর্ব্যবহারের জবাবে ভালো ব্যবহার করা

৩. নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন:

  • টাকার সম্পর্ককে প্রাধিকার না দেওয়া: শুধু অর্থের জন্য সম্পর্ক নয়
  • নিজের সীমা বোঝানো: যেখানে আপনার মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়, সেখানে মৃদুভাবে সীমা নির্ধারণ
  • গীবত ও অপবাদ থেকে বাঁচুন: কারও পক্ষে না নিয়ে সঠিক পথে থাকুন

হানাফি ফিকহের নির্দেশনা

ইমাম তাহাবি (রহ) শরহ মাআনিল আসারে বর্ণনা করেছেন:

"আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু দেখা-সাক্ষাৎ নয়, বরং ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি আত্মীয়রা শত্রুতা করে, তাহলে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো ও দয়া করা ফরজ নয়, কিন্তু সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্নও জায়েজ নয়।"

ফাতাওয়া আলমগিরি তে বলা হয়েছে:

"যে আত্মীয় তার সাথে সম্পর্ক রাখলে দ্বীনি বা দুনিয়াবি ক্ষতি হয়, তার সাথে সর্বনিম্ন সম্পর্ক (যেমন: দেখা, সালাম, প্রয়োজনে সাহায্য) রাখা ওয়াজিব। তবে বেশিমাত্রায় মেলামেশা করা মাকরুহ।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, ৫/৩৮৪)

উপসংহার

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আত্মীয়তার সম্পর্ক রাখা ফরজ, তবে এর পদ্ধতি ও পরিমাণ নির্ধারণে বাস্তববাদী হতে হবে। আপনার পরিস্থিতিতে করণীয়:

  1. সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা নয়: নামমাত্র সম্পর্ক (সালাম, ফোন, ঈদের শুভেচ্ছা) বজায় রাখবেন
  2. ক্ষতিকর মেলামেশা এড়িয়ে চলুন: যেখানে অপবাদ ও দুর্নাম হয় সেখানে ঘনিষ্ঠ না হওয়া
  3. দ্বীন ও ইমান রক্ষা করুন: আত্মীয়তার কারণে দ্বীনের কোনো ক্ষতি হলে সতর্ক থাকা
  4. দুআ করতে থাকুন: আত্মীয়দের হেদায়েতের জন্য নিয়মিত দুআ করা

মনে রাখবেন, রাসূল ﷺ বলেছেন:

"সে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়, যে কেবল প্রতিদান দেয়। বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি, যাকে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলেও সে তা বজায় রাখে।" (বুখারি)


মেটা ডেসক্রিপশন

আত্মীয়তার সম্পর্ক ফরজ, কিন্তু ক্ষতিকর আত্মীয়দের সাথে কীভাবে সম্পর্ক রাখবেন? হানাফি ফিকহের আলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও দলিলভিত্তিক নির্দেশনা।

SEO কীওয়ার্ডস

আত্মীয়তার সম্পর্ক, সিলাতুর রাহাম, ক্ষতিকর আত্মীয়, আত্মীয়তার ফরজ, হানাফি ফিকহ, আত্মীয় স্বজন, ইসলামে আত্মীয় সম্পর্ক

SEO সার্চ ফ্রেজ

  • আত্মীয়তার সম্পর্ক কেমন রাখা উচিত
  • ক্ষতিকর আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ইসলামের দৃষ্টিতে
  • আত্মীয় স্বজন অপবাদ দিলে করণীয়
  • টাকার জন্য সম্পর্ক রাখা কি জায়েজ
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক ফরজ না ওয়াজিব
  • মিথ্যা অপবাদকারী আত্মীয়দের সাথে কী করবেন
  • হানাফি ফিকহে আত্মীয়তার সম্পর্কের বিধান

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.