কোরিয়াতে রেস্টুরেন্টে কাজের প্রসঙ্গে শূকরের মাংস প্যাকেট করা বা হালাল নয় এমন মাংস হ্যান্ডেল করার বিধান কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
তো সেখানে মুরগী বা গরুর মাংস তো হালাল হয়না
এখন বর্তমানে যেখানে কাজ করছেন সেখানে সমস্যা থাকায়
নতুন এক রেস্টুরেন্টে কাজ করার প্রস্তাব এসেছে যেখানে শূকরের মাংস প্যাকেট করতে হতে পারে
এই কাজ কী তার জন্য হালাল হবে?
Answer
প্রশ্ন: আমার স্বামী কোরিয়াতে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। সেখানে মুরগি বা গরুর মাংস হালাল হয় না (অর্থাৎ, ইসলামী নিয়মে জবাই করা হয় না)। এখন বর্তমান কাজের জায়গায় কিছু সমস্যা থাকায় তিনি একটি নতুন রেস্টুরেন্টে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছেন, যেখানে শূকরের মাংস প্যাকেট করতে হতে পারে। এই কাজটি কি তার জন্য হালাল হবে?
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين
প্রথমত, এটা স্পষ্ট যে শূকরের মাংস খাওয়া, বিক্রি করা, বিতরণ করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজ (যেমন প্যাকেটিং, পরিবহন, রান্না ইত্যাদি) ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। কোরআন মজীদে শূকরের মাংসকে নাপাক ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে:
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ
(সূরা আল-বাকারা, ২:১৭৩)
অর্থ: “তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশু, রক্ত ও শূকরের মাংস।”
এছাড়া, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ حَرَّمَا بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالأَصْنَامِ
(সহিহ বুখারী, হাদীস: ২২৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৮১)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত পশু, শূকর ও মূর্তি বিক্রি হারাম করেছেন।”
সুতরাং, শূকরের মাংস প্যাকেট করার কাজটি সরাসরি হারাম বস্তুকে সেবা বা সহায়তা করার শামিল। এটি হারাম আয়ের মাধ্যম এবং গুনাহের কাজ।
বর্তমান কাজের প্রসঙ্গে, যেখানে মুরগি বা গরুর মাংস কোনো বৈধ পদ্ধতিতে জবাই করা হয় না (অর্থাৎ, ‘হালাল’ নয়), সেখানেও কাজ করা জায়েয নয়। কারণ ইসলামী নিয়মে জবাই না করা যেকোনো প্রাণীর মাংস হারাম (যতক্ষণ না জবাইয়ের বৈধ বিকল্প যেমন ‘আহলে কিতাব’-এর জবাইয়ের বিধান প্রযোজ্য হয়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়)। তাই বর্তমান চাকরিটিও সমস্যাযুক্ত।
এখন নতুন প্রস্তাবিত কাজ – শূকরের মাংস প্যাকেট করা – তা আরো কঠোরভাবে হারাম। নিম্নলিখিত দলিল থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়:
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহাদের মতে, হারাম বস্তুর লেনদেন, পরিবহন, প্যাকেটিং বা যেকোনো প্রকার সহায়তা করা হারাম। ইবনে আবিদীন (রহঃ) ‘রদ্দুল মুহতার’ এ বলেন:
وَمَنْ أَعَانَ عَلَى مَعْصِيَةٍ فَقَدْ أَعَانَ عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৫)
“যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করে, সে পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করে।”
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
(সূরা আল-মায়েদা, ৫:২)
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।”
অতএব, শূকরের মাংস প্যাকেট করার কাজ পাপের সহযোগিতা এবং স্পষ্টতই হারাম।
পরিশেষে, আপনার স্বামীর উচিত: ১. বর্তমান চাকরি থেকে বের হয়ে আসা, কারণ সেখানে হালাল নয় এমন মাংস ব্যবহৃত হচ্ছে। ২. যত দ্রুত সম্ভব এমন কোনো হালাল রেস্টুরেন্ট বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি খোঁজা যেখানে হালাল খাবার পরিবেশন বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। যদি কোরিয়াতে হালাল মাংসের জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সোর্স না থাকে, তাহলে ভেজিটেবল রেস্টুরেন্ট বা অন্য কোনো হালাল কাজ (যেমন ডেলিভারি, ক্লিনিং, সাধারণ রান্না যাতে হারাম মাংস জড়িত না) বিবেচনা করা উচিত। ৩. শুধুমাত্র মাংস নয়, বরং অ্যালকোহল বা অন্য কোনো হারাম বস্তুর সাথেও সংশ্লিষ্ট কাজ এড়িয়ে চলা ফরজ।
উপার্জনের পবিত্রতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
(সূরা আত-তালাক, ৬৫:২-৩)
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য (সংকট থেকে) উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।”
সিদ্ধান্ত:
আপনার স্বামীর জন্য নতুন রেস্টুরেন্টে শূকরের মাংস প্যাকেট করার কাজ করা হারাম এবং গুনাহের কাজ। বর্তমান রেস্টুরেন্টের কাজও সমস্যাযুক্ত হওয়ায় উভয় স্থান ত্যাগ করে হালাল উপার্জনের সন্ধান করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তায়ালা আপনার স্বামীকে হালাল রিজিক দান করুন এবং সত্য পথে চলার তৌফিক দিন। আমীন।
والله اعلم بالصواب