মকসুদুল মোমিনিন, বেহেশতী জিওর, ফাযায়েলে আমল, কাসাসুল আম্বিয়া বই সম্পর্কে
Faith and Belief · Hanafi
Question No:
113
Questioner:
Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan
Question Asked:
15 May 2026, 06:49 AM
Reviewed & Published:
16 May 2026, 05:01 PM
Views:
83
Tokens:
2,318
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
মকসুদুল মোমিনিন, বেহেশতী জিওর, ফাযায়েলে আমল, কাসাসুল আম্বিয়া সহ আরও কিছু বই ভুল মাসলা মাসায়েল দিয়ে ভরা। কিছু বইয়ে শিরকি আকিদা, তাবিজ,জাদু ইত্যাদি টপিকস দিয়ে ভরা। তোমার কি মনে হয় এই সম্পর্কে বলো? বিভিন্ন মাজহাব অনুযায়ী বইগুলোর বিশ্বস্ততার বা শুদ্ধতার মানদণ্ড কিরকম? একই বিষয়ে অন্যান্য বিশ্বনন্দিত বই থাকলে বলো? দেশীয় বই সম্পর্কেও জানাও?
Answer
উল্লিখিত বইগুলোর সমালোচনা ও হানাফি মাজহাবের দৃষ্টিভঙ্গি
বইগুলোর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে হানাফি মাজহাবের অবস্থান
১. বেহেশতী জেওর (بہشتی زیور)
- উপকারিতা: মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) রচিত এটি নারীনির্দেশিকা ও ফিকহি মাসআলার একটি গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ। ইমদাদুল ফাতাওয়া (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৮) ও ফাতাওয়া উসমানি (৪/৩০৫) এটিকে বিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করেছে।
- সমালোচনার জবাব: বেহেশতী জেওরের বর্তমান সংস্করণে কিছু পরিবর্তন এসেছে। মূল গ্রন্থটি তাবিজ-জাদু ইত্যাদির প্রতি নিরুৎসাহিত করে এবং শিরকি বিশ্বাসের বিরোধী। তবে কিছু অননুমোদিত সংস্করণে ভুল তথ্য থাকতে পারে।
২. ফাযায়েলে আমল (فضائل الأعمال)
- স্থান: মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) রচিত এটি ফাযায়েল (গুণাগুণ) সংক্রান্ত একটি বিশুদ্ধ গ্রন্থ। ফাতাওয়া উসমানি (৬/১৫০) এটিকে সুন্নি বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে গ্রহণ করেছে।
- ভুলের বক্তব্য: গ্রন্থটির উদ্দেশ্য আমলের ফযিলত বর্ণনা করা, ফিকহি মাসআলা নয়। কিছু পাঠক এর সাথে নিজের ব্যাখ্যা যোগ করে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে।
৩. কাসাসুল আম্বিয়া (قصص الأنبياء)
- বিশ্বস্ততা: ইবনে কাসির (রহ.) ও ইমাম সুয়ুতি (রহ.) রচিত কাসাসুল আম্বিয়া অধিক নির্ভরযোগ্য। তবে কিছু লোকাল সংস্করণে ইসরাইলি রেওয়ায়েত (ইহুদি-খ্রিস্টান কিংবদন্তি) যোগ করা হয়েছে। রদ্দুল মুহতার (২/৪৮৬) ও শারহ মা'আনিল আসার (১/২৬) ইসরাইলি বর্ণনার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
৪. মকসুদুল মোমিনین (مقصود المؤمنين)
- বিশ্লেষণ: এটি একটি সম্মিলিত গ্রন্থ যা বিভিন্ন সময়ে সম্পাদিত হয়েছে। ফাতাওয়া আলমগিরি (ফাতাওয়া হিন্দিয়া) ও ইমদাদুল ফাতাওয়ায় এর কিছু অংশ সমালোচিত হয়েছে। বিশেষ করে তাবিজ-জাদু সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো শিরকি বিশ্বাসকে উৎসাহিত করতে পারে।
হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী কোন গ্রন্থ গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তাবলী:
- কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের অনুসরণ: উসুল শাশী (১/২৬) অনুসারে, কিতাব অবশ্যই কুরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
- জাল ও দুর্বল হাদিসের ব্যাখ্যা: শারহ মা'আনিল আসার (১/২২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪৬) জাল হাদিস ও ইসরাইলি বর্ণনা পরিহারের নির্দেশ দেয়।
- মাসায়েলের প্রমাণ: হানাফি কিতাবের মাসলা মাসায়েলের জন্য ফাতাওয়া উসমানি (১/১-১০) ও ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৪৫) প্রমাণ ও ইজতিহাদি নীতি নির্ধারণ করে।
নির্ভরযোগ্য বইয়ের সুপারিশ
ফিকহ ও মাসায়েলের জন্য:
- ফাতাওয়া আলমগিরি (ফাতাওয়া হিন্দিয়া)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি)
আকিদা ও বিশ্বাসের জন্য:
- আল-ফিকহুল আকবার (ইমাম আবু হানিফা)
- বাহারে শরিয়ত (মাওলানা মুহাম্মদ আমিন জাফরপুরী)
- মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি)
হাদিসের জন্য:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক (ইমাম মালিক)
- সহিহ বুখারি ও মুসলিম (সহিহ সিত্তাহ)
দেশীয় বই সম্পর্কে সতর্কতা
দেশীয় বইগুলোতে (বাংলাদেশ ও ভারতের) নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:
- লেখকের যোগ্যতা: লেখক কী হানাফি ফিকহ ও সুন্নি আকিদায় বিশ্বস্ত কিনা।
- হাদিসের গ্রেড: অপ্রমাণিত হাদিস বা ইসরাইলি বর্ণনার ব্যবহার।
- তাবিজ-জাদু: শিরকি প্রচলনের বিরোধীতা ও এর বৈধতা নিশ্চিত করা। ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩০) তাবিজকে কেবল কুরআনের আয়াত ও সহিহ দোয়ার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
পরামর্শ
- কাসাসুল আম্বিয়া পড়তে ইবনে কাসির বা ইমাম সুয়ুতি কর্তৃক রচিত সংস্করণ গ্রহণ করুন।
- বেহেশতী জেওর ও ফাযায়েলে আমল মূল সংস্করণ এবং অননুমোদিত সংস্করণের পার্থক্য বুঝে পড়ুন।
- তাবিজ-জাদু সম্পর্কিত জানতে ف-তাওয়া উসমানি (৯/৩৭২) ও রদ্দুল মুহতার (৫/২৫০) দেখুন।
- ফিকহি মাসআলার জন্য ফাতাওয়া আলমগিরি ও ইমদাদুল ফাতাওয়া অগ্রাধিকার দিন।
সারমর্ম: উল্লিখিত বইগুলোর মধ্যে বেহেশতী জেওর ও ফাযায়েলে আমল হানাফি দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য, তবে সতর্কতা প্রয়োজন। কাসাসুল আম্বিয়ার বিশুদ্ধ সংস্করণ নির্বাচন জরুরি। মকসুদুল মোমিনিনের ভুল অংশ বর্জন করা উচিত। ফাতাওয়া উসমানি (৬/১৫০-১৫৫) ও ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৮) এর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আল্লাহ সর্বোত্তম জ্ঞানী।