ফরজ নামাজ কাযা পড়রে কি শাস্তি

Faith and Belief · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 22
Questioner: Super Admin
Question Asked: 09 May 2026, 06:36 AM
Reviewed & Published: 09 May 2026, 06:37 AM
Views: 164
Tokens: 1,895
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফরজ নামাজ কাযা পড়রে কি শাস্তি

Answer

ফরজ নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া বা দেরি করে কাযা পড়ার শাস্তি

ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করা বা নির্ধারিত সময়ের পর কাযা পড়া একটি গুরুতর গুনাহ। এর শাস্তি সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে:

১. কুরআনের আয়াত:
﴿فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا﴾
"অতঃপর তাদের পরে এলো অযোগ্য উত্তরসূরি, যারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। অচিরেই তারা 'গাই' (জাহান্নামের একটি উপত্যকা বা ধ্বংস) দেখতে পাবে।" (সূরা মারিয়াম: ৫৯)

২. হাদিস:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ"
"যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ছেড়ে দিল, তার আমল নিষ্ফল হয়ে গেল।" (সহিহ বুখারি: ৫৫৪)

অন্য হাদিসে এসেছে:
"الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ"
"আমাদের ও তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে চুক্তি হলো নামাজ। যে তা ছেড়ে দিল, সে কুফরি করল।" (সুনান আত-তিরমিজি: ২৬২১, সহিহ)

৩. সালাফি স্কলারদের বক্তব্য:

  • শাইখ ইবনু বাজ (রহ.) বলেন: "ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ এবং এটি এমন কুফরি যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (যদি নামাজের ফরজিয়াত অস্বীকার না করেও ছেড়ে দেয়, তবে অধিকাংশ সালাফের মতে এটি কুফরি নয়, বরং কবিরা গুনাহ; তবে এ ব্যাপারে মতভেদ আছে)। তবে যে ব্যক্তি অলসতার কারণে নামাজ ছেড়ে দেয়, তার ওপর তওবা ও কাযা করা ওয়াজিব।" (মাজমু ফাতাওয়া ইবনু বাজ, ১০/২৫৫)

  • শাইখ ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন: "ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বিলম্ব করে কাযা পড়া জায়েজ নয়। বরং নামাজ তার নির্ধারিত সময়েই আদায় করতে হবে। যে ব্যক্তি বিনা ওজরে দেরি করে, সে গুনাহগার হবে এবং তার কাযা আদায় করলেও গুনাহ মাফ হবে না যতক্ষণ না তওবা করে।" (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৩৪৪)

সারসংক্ষেপ:

  • ফরজ নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া বা নির্ধারিত সময়ের পর কাযা পড়া কবিরা গুনাহ।
  • শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
  • তবে কাযা পড়া ফরজ, এবং এর পাশাপাশি তওবা করতে হবে।
  • কাযা পড়ার কারণে শাস্তি কমে না, বরং মূল গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

রেফারেন্স:

  • ইসলামকিউএ (ইংরেজি ও আরবি ফতোয়া): "Punishment for delaying prayer" ও "Making up missed prayers intentionally"
  • সূরা মারিয়াম: ৫৯
  • সহিহ বুখারি: ৫৫৪
  • সুনান তিরমিজি: ২৬২১
  • মাজমু ফাতাওয়া ইবনু বাজ, ১০/২৫৫
  • ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম (ইবনু উসাইমিন), পৃষ্ঠা ৩৪৪

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.