মনের মিল না হলে স্ত্রী কি তালাক নিতে পারে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2348
Questioner: মণি
Question Asked: 05 Jul 2026, 11:39 AM
Reviewed & Published: 05 Jul 2026, 11:48 AM
Views: 106
Tokens: 19,842
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,বিয়ের ছয় বছর।আমারা পাঁচ বোন একটা ছোটো ভাই।বোনের সংখ্যা বেশি হওয়ার জন্য আমার বাবা আগে খুবই মারতো আমার মাকে,পরকীয়া করে এখনও(আমার জন্মের পর থেকেই পরকীয়া করে,আমার আগে দুটো দিদি আছে,তারপর আমার জন্ম,তৃতীয়বারও মেয়ে হতে দেখে বাবার ব্যবহার পাল্টে যায়,তারপর আবার পর পর দুটো মেয়ে হলে বাবা যত খারাপ কাজ আছে সব করতে শুরু করে,লাস্টে একটা ভাই হলে তখন কিছুটা কমে কিন্তু বড় দুই দিদি আর ছোটো ভাই ছাড়া নিজের সন্তান আছে বলে মনে করে না,সারাক্ষণ মা কে দোষারোপ করতে থাকে।আমরা ছোটো তিন বোন বাবার ভালোবাসা পাইনি)
ছোটো থেকে এইসব দেখতে দেখতে একটা ধারনা হয়েছিল,ভয় ছিল,ভালোবাসার অভাব ছিল তাই ভাবতাম স্বামী যেন এমন না হয়।কিন্তু ভাগ্যে তেমনটাই পেলাম।ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে প্রথম দুই দিন বছর ভালো ছিলাম।আমার স্বামীর দ্বিনদারি দেখে বিয়ে করেছিলাম,ছোটো হাইট,ইনকাম নেই(স্টুডেন্ট ছিল),একদম রোগা পাতলা(40 কেজি ওজনের পুরুষ)তবুও বিয়ের আগে এই কটা জিনিসে ছাড় দিয়েছিলাম কারণ আমার বাবা ভালো না,কত তারাতারি বাড়ি থেকে বের করতে পারবে এটাই ভাবে সবসময় সেই হিসেবে মনে হয়েছিল এটাই ঠিক আমার জন্য,অন্তত মার খেতে তো হবে না,ভালোবাসা তো পাবো,টাকা এখন ইনকাম করছে না ভবিষ্যতে করবে,তিন বছর পর সরকারি চাকরি পাবে বলেছিল যেটা বিয়ের প্রথম বছরেই বুঝতে পারি মিথ্যে ছিল।জুনিয়র ডক্টর হিসেবে দুই বছর শুধু একটা অল্প টাকা পাবে,পড়াশোনা চলমান তাই।তারপর আবার বেকার।এটা বলেনি তারা।এমনিতেই বাপের বাড়ি থেকে কিছু দেয়নি দেবেও না,হেল্প ও পাবো না তারপর ওপর স্বামীর আর্থিক হালাত এমন,এইসব মানতে কষ্ট হলেও নিজেকে বুঝিয়ে চললাম মিশনে টিচিং করতে।মাসে সাত হাজার মতো পেতাম সব স্বামীকে দিতাম কারণ ওর বাপ মা ওকে ঠিক মতো পড়ার খরচ দিতো না(ইঙ্গিতে আমাকে আমার বাপ কে টাকা দিতে বলতে বলতো,আমার বাপ কেমন তা তো আমি জানি তাই না বলে নিজের জমানো সব দিতাম,ইনকাম করে দিতাম এই আশায় যে একদিন ওর ইনকাম হবে আর সব কষ্ট মুছবে।কিন্তু ইনকাম শুরু হলো যখন তখন ওর পরিবর্তন শুরু হলো,কিপটেমু করা,না খেয়ে টাকা বাঁচানো,যেন ফকির হঠাৎ বড়লোক হয়েছে এমন।আমাকেও আর সময় দেওয়া,যত্ন নেওয়া,কল করা,মুখের ভাষা ভালো করা কিছুই করে না।গালি দেওয়া,খোঁটা দেওয়া(বাপ খারাপ এই বিষয়ে ওকে বলেছিলাম স্বামী তাই,কষ্টের কথা শেয়ার করেছিলাম কারণ ওকে অন্ধের মতো ভালতবাসতাম)কিছু কিনে চাইলে ইনকাম করে খেতে বলে(আমি এখন বাচ্চার জন্য কোনো ইনকাম করি না)ইনকাম করতে রাজি না হলে নিজের রাস্তা দেখ এমন বলে,স্ত্রী হিসেবে ওর কোনো বিষয় অপছন্দ হচ্ছে বললে সেই গুলো আরো বেশি করে করতে থাকে,সহবাসে দুর্বলতা,কারণ ওর শরীরে বিয়ের আগে থেকে রোগ(টিবি হয়েছিল সেই থেকে বুকে ব্যথা,মাথা ব্যথা,পায়ে পিঠে ব্যথা সবসময়ই)কিছু বললেই বলবে আমার শরীর খারাপ পারবো না?মোবাইল নিয়ে বসে থাকবে সারাক্ষণ,বিয়ের শুরুতে এমন করতো না,ভালোবাসতো,সময় দিতো,কল করতো,যেন মনে হয়েছিল মনের মতো পেলাম,বিনিময়ে ইনকাম করে দিতাম তাই এমন করতো এখন মনে হয়।এর পরে মনের কোনো মিল নেই,আমার কোনো কথার সাথে ও এক মত হয় না ইনকাম শুরুর পর থেকে(যদিও দুই বছরের জন্য ইনকাম পাবে)এইভাবে এক পর্যায়ে এতোটাই দূরত্ব তৈরি হয় যে আমাকে তালাক দিয়ে দেয়(এক তালাক,এতে আমি যেন আরাম পেয়েছিলাম)বলতো দুজনে মিলে ইনকাম করে সংসার করবো,সে নাকি একা সামলাতে পারছে না,আমি শিক্ষিত মানুষ হয়ে ওর ঘাড়ে চেপে খাচ্ছি,ওর বোঝা,ইনকাম কর না হলে নিজের রাস্তা দেখ,বাপের বাড়ি থেকে লোক ডেকে আন দিয়ে চলে যা,আমার সাথে থাকতে হলে এরকমই থাকতে হবে,যখন পারবো দিবো আর না পারলে নাই,তখন আমি বলতাম না দিলে তখন কি করব?বলতো বাপের বাড়ি থেকে আনবি,ইনকাম করবি,সেগুলো যদি না করি তবে যেন নিজের রাস্তা দেখি,নিজের রাস্তা দেখে নিবো এর মানে কি?তালাক দিবে বলছো নাকি?না অন্য কিছু?নিজের রাস্তা তখনই দেখবো যখন আমার স্বামী থাকবে না,স্বামী থাকতে কেন আমি ইনকাম করতে যাবো!এতো দিন তোমার অভাব থাকায় সাহায্য করেছিলাম।ইসলামিক পরিবেশ পাওয়ার জন্য কত্ত ত্যাগ করেছি আর আজ তুমি আমাকে ইনকাম করে খেতে বলছো?স্বামী থাকতে কেন ?তোমার খাবো,এইভাবে বলতাম।উল্লেখ্য আমি খুবই সাদামাটা,অতিরিক্ত খরচ করি না ।এইসব ভেবে ভেবে এখন পাগল আমি।তালাক দুই হয়ে গিয়েছে দিয়ে আবার নতুন করে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করে এনেছে কিন্তু স্বাভাব চেঞ্জ হয়নি।চেঞ্জ হবে কথা দিয়েছিল তাই আবার এসেছিলাম স্বামীর ঘরে।
এইসব ভেবে ভেবে ওর হক আদায় করতে পারছি না।মেনে নিতেই পারছি না ওকে।দেখলেই অসহ্য লাগে।ও সহবাসের জন্য ডাকলে বিরক্ত লাগে।মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি দিন দিন।কেন এমন জীবন হলো আমার এটা ভেবে আফসোস করছি সারাক্ষণ।ওকে ছাড়তে চাই কিন্তু আমার মা বাপ রাজি না,ছাড়লে বাপের বাড়িতে আর উঠতে দিবে না,এদিকে স্বামীর হক আদায়,ভালোবাসতে পারছি না।প্রচুর ভালোবাসার কাঙাল আমি,অভাবী আমি।এগুলো সব খোলাখুলি আলোচনা করেছি স্বামীর সাথে কিন্তু কোনো পরিবর্তন নেই।
আর্থিক সচ্ছলতা নেই আমার(কারণ ওকে সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছি)যে আলাদা ভাড়া ঘরে ছেলে নিয়ে থাকবো।সব দিক ভেবে ভালোবাসা খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি।পরকীয়াতে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় করছি প্রতিনিয়ত।এটা আমার জন্য কঠিন পরীক্ষা,আমি পারছি না,করণীয় কি?বেশি লম্বা লেখা হয়ে গেলো কিন্তু এই ছয় বছরে অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে তার কিছু অংশ লিখেছি শুধু,এর বাইরে আরো অনেক কথা আছে,সব বলা কঠিন!
দয়াকরে করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবেন,আমি কোথাও আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি।
(স্বামীর পরিবারের সদস্যরাও অত্যাচার করে,সেইগুলো পাত্তা দিই না,স্বামীকে বলেছিলাম তুমি এমন করো না যেন কিন্তু সেও দেখি তাই করে)

Answer

উত্তর: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
একজন বিবাহিতা নারী ৬ বছর দাম্পত্য জীবনে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার। স্বামী দ্বীনদার হলেও তার আচরণ ক্রমশ খারাপ হয়েছে—কৃপণতা, গালাগালি, মানসিক নির্যাতন, শারীরিক দুর্বলতা ও সহবাসে অক্ষমতা। ইতোমধ্যে দুটি তালাক দিয়ে আবার নতুন করে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছে, কিন্তু স্বভাব পরিবর্তন হয়নি। স্ত্রী এখন স্বামীকে সহ্য করতে পারছে না, তার হক আদায় করতে পারছে না, এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ভয় করছে। বাবা-মা তালাক দিলে ঘরে নেবে না। প্রশ্ন: স্ত্রী কি তালাক নিতে পারে? করণীয় কী?


১. স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের ইসলামী বিধান:

প্রথম কথা: ইসলামী শরিয়তে তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে। স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিতে পারে না। তবে কিছু বৈধ উপায় আছে:

(ক) খুলা (خلع):
স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে বসবাস করা অসম্ভব মনে করে এবং স্বামীর প্রতি ঘৃণা বা বিরক্তি কাজ করে, তাহলে সে খুলা নিতে পারে। খুলা হলো স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু অর্থ (সাধারণত মোহরানা ফিরিয়ে দিয়ে) তালাক গ্রহণ করা। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

"যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমা রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে স্ত্রী যা ফিদিয়া (মুক্তিপণ) দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেয়, তাতে উভয়েরই কোনো পাপ নেই।" (সূরা বাকারা, ২:২৯)

হাদিসে এসেছে:
হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সাবিত ইবনে কায়েসের স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে এসে বললেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ! সাবিতের মধ্যে আমি ধর্ম ও চরিত্রের কোনো ত্রুটি পাই না, কিন্তু আমি তার সঙ্গ পছন্দ করি না (তাকে ঘৃণা করি)।" রাসূল (সাঃ) বললেন: "তুমি কি তার বাগান (মোহরানা) ফিরিয়ে দেবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন রাসূল (সাঃ) সাবিতকে আদেশ করলেন যেন তিনি তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। (বুখারি, হাদিস: ৫২৭৩)

(খ) ফাসখ (فسخ) বা বিচারকের মাধ্যমে বাতিল:
যদি স্বামী অক্ষম হয় শারীরিকভাবে (যেমন সহবাসে অক্ষম), অথবা নির্যাতন করে, অথবা খরচ দেয় না, তাহলে স্ত্রী ইসলামী বিচারকের (কাজী/মুফতি) কাছে আবেদন করে বিবাহ বাতিল করাতে পারে। কিন্তু বিচারক না থাকলে অলিমা-মাশায়েখের মাধ্যমে সমাধান নেওয়া যায়।

আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ:
আপনি স্বামীকে সহ্য করতে পারছেন না, তার হক আদায় করতে পারছেন না, এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ভয় পাচ্ছেন। এটি খুলা বা ফাসখের জন্য একটি বৈধ কারণ। আপনি স্বামীকে খুলা প্রস্তাব দিতে পারেন। যদি তিনি রাজি হন, তাহলে মোহরানা বা কিছু অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে তালাক নিন। যদি না রাজি হন, তাহলে স্থানীয় ইসলামী স্কলার বা মুফতির মাধ্যমে মধ্যস্থতা করিয়ে ফাসখ করান।

ইবনে আবেদিন শামী (রহ.) লিখেছেন:

"যদি স্ত্রী স্বামীকে ঘৃণা করে এবং স্বামীর সঙ্গ সহ্য করতে না পারে, তাহলে সে খুলা নিতে পারে। এটি জায়েজ।" (রদ্দুল মুহতার: ৩/৪৫০)

ফাতাওয়া উসমানী (৪/২২৩) এ আছে:

"স্ত্রীর জন্য বৈধ যে, সে যদি স্বামীর সাথে বসবাস করা অসম্ভব মনে করে, তাহলে কিছু অর্থের বিনিময়ে তালাক নিতে পারে, যাকে খুলা বলে।"

ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/২৩০) এ আছে:

"যদি স্বামী নির্যাতন করে, গালাগালি করে, অথবা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে স্ত্রী কাজী বা মুফতির কাছে ফাসখের জন্য আবেদন করতে পারে।"


২. বাবা-মায়ের অসম্মতি:

ইসলামে পিতা-মাতার আনুগত্য ওয়াজিব, কিন্তু তা শুধুমাত্র বৈধ বিষয়ে। যদি বাবা-মা আপনাকে জুলুমের জীবনে আটকে রাখে এবং আপনি যদি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার বা নিজের দ্বীন নষ্ট করার ভয় পান, তাহলে তাদের কথা না মানা জায়েজ। আল্লাহ বলেন:

"তারা যদি তোমাকে আমার সাথে শিরক করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের আনুগত্য করো না।" (সূরা লুকমান: ১৫)

মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) বলেছেন:

"পিতামাতার আনুগত্য ফরজ, কিন্তু যদি তা হারাম কাজে বা দ্বীনের বিপরীতে হয়, তাহলে তা জায়েজ নয়। স্ত্রী যদি স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয় এবং বাবা-মা তাকে তালাক দিতে বাধা দেয়, তাহলে সে বাবা-মাকে অমান্য করে তালাক নিতে পারে।" (ইসলাহী খুতুবাত, ২/৮৫)

আপনার বাবা যদি আপনাকে ঘর থেকে বের করে দেন বা মেনে নিতে না চান, তাহলে আপনার জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা ফরজ নয়। আপনি যদি স্বামীকে তালাক দিয়ে বাবা-মায়ের কাছে থাকতে পারেন, তবে থাকবেন। কিন্তু যদি বাবা-মা আপনাকে না নেয়, তাহলে আপনার জন্য অন্য ব্যবস্থা দেখা। সম্প্রদায়ের সাহায্য নিন।


৩. স্বামীর হক আদায় ও নিজের অবস্থা:

প্রশ্ন: আপনি স্বামীর হক আদায় করতে পারছেন না—অর্থাৎ স্ত্রী হিসেবে তার প্রতি ভালোবাসা, সহবাস, সেবা ইত্যাদি। এ অবস্থায় কী করবেন?

উত্তর: আপনি যদি স্বামীকে সহ্য করতে না পারেন এবং তার হক আদায় না করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য গুনাহ হবে। বরং শরিয়ত আপনার জন্য খুলা বা বিবাহবিচ্ছেদকে বৈধ করেছে, যাতে আপনি গুনাহ থেকে বাঁচতে পারেন। রাসূল (সাঃ) বলেছেন:

"যে নারী কোনো কারণ ছাড়া স্বামীর কাছে তালাক চায়, সে জান্নাতের সুগন্ধি পাবে না।" (আবু দাউদ, তিরমিজি: ১১৮৭)

অর্থাৎ কারণ থাকলে তালাক চাওয়া জায়েজ। আর আপনার কারণ আছে—আপনি তার নির্যাতনের শিকার, তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম, মানসিকভাবে দুর্বল, এবং আপনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ভয় পাচ্ছেন। এটি একটি বড় কারণ।

নিজের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন:
(ক) আপনি নিজে ইনকাম করেন না, সন্তান আছে, আলাদা থাকার সামর্থ্য নেই।
(খ) বাবা-মা তালাক দিলে ঘর দেবে না।
(গ) স্বামীর পরিবার অত্যাচার করে।

সর্বোত্তম সমাধান:
আপনি একজন ইসলামী স্কলার বা মুফতির কাছে যান (অনলাইনে বা স্থানীয় কোনো মাদরাসায়)। তিনি উভয় পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত দেবেন। যদি স্বামীকে খুলা প্রস্তাব দেন এবং তিনি রাজি না হন, তাহলে মুফতি ফাসখের (বিবাহ বাতিলের) সুযোগ দেবেন।

মাসআলা: ফাসখের জন্য আপনাকে কোনো অর্থ দিতে হবে না যদি স্বামীর জুলুম প্রমাণিত হয়। ইবনে আবেদিন (রহ.) লিখেছেন:

"যদি স্বামী নির্যাতন করে বা খরচ না দেয়, তাহলে বিচারক স্ত্রীকে বিবাহ বাতিলের অনুমতি দেবেন, এবং এক্ষেত্রে স্ত্রীকে মোহরানা ফিরিয়ে দিতে হবে না।" (রদ্দুল মুহতার: ৪/১৪২)


৪. পরকীয়ার ভয়:

আপনি বলেন, প্রচুর ভালোবাসার অভাবী এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ভয় করছেন। এটি একটি বাস্তব ভয়। শরিয়ত বলে, যদি কোনো ব্যক্তি জিনার (ব্যভিচার) ভয় করে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে বিবাহবিচ্ছেদ জায়েজ। ইমাম ইবনে হাজাম (রহ.) লিখেছেন:

"যদি স্ত্রী জিনার ভয় করে, তাহলে সে খুলা নিতে পারে। কারণ জিনা কাবিরা গুনাহ, এবং তা থেকে বাঁচতে খুলা নেওয়া জায়েজ।" (মুহাল্লা: ১০/১৩৪)

তবে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে সাবধান! আপনি এখন একা নন, আপনার সন্তান আছে। আপনি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও আল্লাহর ভয়ের মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করুন। যদি তালাক নেন, তাহলে ইদ্দত পালন করুন এবং পুনরায় নেক স্বামী খোঁজার চেষ্টা করুন।


সারসংক্ষেপ ও করণীয়:

  1. স্বামীকে খুলা প্রস্তাব দিন:
    তাকে বলুন, "আমি তোমার সাথে থাকতে পারছি না। তুমি যদি আমাকে খুলা দাও, তাহলে আমি তোমার কাছে থাকা আমার মোহরানা এবং কিছু অর্থ ছেড়ে দেব।"
    শর্ত: খুলা তালাকে রজয়ী (ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ) নয়; এটি একবারেই চূড়ান্ত তালাক।

  2. স্থানীয় ইসলামী স্কলারের কাছে যান:
    একজন মুফতি বা আলিমের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করুন। তারা ফাসখের ব্যবস্থা করতে পারেন। ফাতাওয়া দেওয়ার জন্য আপনি অনলাইনেও সাহায্য নিতে পারেন।

  3. দ্বীনের ওপর অটল থাকুন:
    যত কষ্টই হোক, নামাজ, জিকির ও দোয়া চালিয়ে যান। আল্লাহ বলেন:

    "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)

  4. পরকীয়া থেকে বাঁচুন:
    এই সময়ে আপনার দুর্বলতা বুঝে শয়তান আক্রমণ করবে। অন্যদের সাথে মixing কমান, ফোন/সোশ্যাল মিডিয়ায় অনর্থক সময় নষ্ট করবেন না।

  5. সন্তানের দায়িত্ব:
    তালাকের পর সন্তানের হেফাজত স্ত্রীরই থাকে (সন্তান ছোট থাকলে)। স্বামীকে খরচ দিতে হবে। যদি না দেয়, তাহলে ইসলামী পদ্ধতিতে আদায় করতে পারেন।

শেষ কথা:
আপনার অবস্থা খুবই কঠিন। আল্লাহ আপনার ধৈর্যের বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আপনি দোষী নন যে স্বামী খারাপ। তবে আপনার উচিত শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে সমাধান খোঁজা। তালাক আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় হলেও প্রয়োজনে বৈধ। নিজেকে এবং আপনার দ্বীনকে রক্ষা করতে তালাক নেওয়াই উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.