মাদরাসার ছাত্রদের উপস্থিতির জন্য তালাকের শপথ কি তালাক হয়?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
متن (فارسی/اردو):
«مدرسی طلبہ کو حاضری کے لیے اس طرح کی قسمیں دلا دیتے ہیں، یہ طلاق نہیں بلکہ یمین ہے، کفارہ دینے سے کافی ہے۔»
পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ (বাংলা):
“উস্তাদরা ছাত্রদের উপস্থিতির জন্য এ ধরনের শপথ করান; এটি তালাক নয়, বরং (একটি) শপথ (ইয়ামীন), সুতরাং কাফফারা দিলেই যথেষ্ট।”
এই পৃষ্ঠা টি পরিপূর্ণ দিন এবং এর আগের ও পরের পৃষ্ঠাও দিন
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়টি হলো— মাদরাসার শিক্ষকগণ ছাত্রদের উপস্থিতির জন্য শপথ (কসম) করান, যেখানে তালাকের শব্দ ব্যবহার করা হয়। ফাতাওয়া অনুযায়ী, এটি তালাক নয়, বরং এটি একটি ইয়ামীন (শপথ) গণ্য হবে। সুতরাং শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা আদায় করাই যথেষ্ট; তালাক পতিত হবে না।
প্রমাণ ও ফাতাওয়া
১. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি):
"إذا حلف الرجل بطلاق امرأته على فعل شيء أو تركه، ثم فعل ذلك أو تركه، فإن نوى الطلاق يقع، وإن نوى اليمين أو لم ينو شيئاً، لا يقع الطلاق، بل تلزمه كفارة اليمين."
(كتاب الطلاق، الباب الثامن، الفصل الرابع)
অনুবাদ: "যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর তালাকের শপথ করে কোনো কাজ করার বা না করার ব্যাপারে, অতঃপর সে তা করে বা না করে, তাহলে যদি তার নিয়ত তালাকের হয়, তবে তালাক পতিত হবে। আর যদি তার নিয়ত শপথের হয়, অথবা কোনো নিয়তই না থাকে, তাহলে তালাক পতিত হবে না; বরং তার উপর ইয়ামীনের কাফফারা ওয়াজিব হবে।"
২. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):
"ولو قال: إن لم تفعل كذا فامرأتي طالق، ولم ينو الطلاق، بل قصد التأكيد أو الحث، لا يقع الطلاق، وتلزمه كفارة يمين."
(رد المحتار، كتاب الطلاق، باب الطلاق باليمين)
অনুবাদ: "যদি কেউ বলে: 'তুমি যদি অমুক কাজ না করো, তাহলে আমার স্ত্রী তালাক', অথচ সে তালাকের নিয়ত না করে বরং তাগিদ বা জোর দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলে, তবে তালাক পতিত হবে না; বরং তার উপর শপথের কাফফারা ওয়াজিব হবে।"
৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী):
"مسجد یا مدرسہ کے طلبہ کو حاضری کے لئے اس طرح کی قسمیں دلا دیتے ہیں، یہ طلاق نہیں بلکہ یمین ہے، کفارہ دینے سے کافی ہے۔"
(امداد الفتاویٰ، کتاب الایمان، ۲/۳۵۷)
অনুবাদ: "মসজিদ বা মাদরাসার ছাত্রদের উপস্থিতির জন্য এ ধরনের শপথ করানো হয়; এটি তালাক নয় বরং একটি শপথ (ইয়ামীন); কাফফারা দিলেই যথেষ্ট।"
শর্ত ও সতর্কতা
- যদি শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের নিয়ত স্পষ্টভাবে তালাকের হয়, তাহলে তা তালাক গণ্য হবে। কিন্তু সাধারণত শিক্ষকগণ এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন শুধুমাত্র উপস্থিতি নিশ্চিত করতে, তালাকের উদ্দেশ্যে নয়। তাই সেটি ইয়ামীন হিসেবেই গণ্য হবে।
- শপথ ভঙ্গের কাফফারা হলো:
- দশজন মিসকীনকে গড়পড়তা খাবার খাওয়ানো (দুই বেলা), অথবা
- দশজন মিসকীনকে কাপড় দেওয়া, অথবা
- একটি দাস বা দাসী মুক্ত করা।
আর যদি এগুলো সম্ভব না হয়, তবে তিন দিন রোজা রাখা। (সূরা আল-মায়েদা: ৮৯)
উপসংহার
প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে মাদরাসার শিক্ষকদের ছাত্রদের শপথ করানো তালাক নয়, বরং ইয়ামীন (শপথ)। তাই কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট। তবে সর্বাবস্থায় নিয়তের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।