আশুরার দিন ভালো খাওয়ার বিধান কি?
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
কারন শিয়া কা--ফি--রদের জন্য এটা মাতমের দিন, মুসলিম দের জন্য এটা আনন্দের দিন।
Answer
উত্তর: আশুরার দিন উত্তম খাওয়ার বিধান
আশুরার দিন (১০ই মুহাররম) উত্তম রান্না করে পরিবার-পরিজনকে খাওয়ানো একটি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) কাজ। হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে এটি কোনো ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং একটি নফল আমল।
দলিল ও রেফারেন্স
হাদিস শরিফ: হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
مَنْ وَسَّعَ عَلَى عِيَالِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ অর্থ: “যে ব্যক্তি আশুরার দিন তার পরিবার-পরিজনের জন্য (খরচে) প্রশস্ততা করে, আল্লাহ তায়ালা সারা বছর তার জন্য প্রশস্ততা দান করেন।”
এই হাদিসটি ইমাম বায়হাকি, ইমাম তাবারানি, ইমাম ইবনে আসাকির প্রমুখ মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন। যদিও সনদের দিক থেকে কিছু ত্রুটি আছে, তবুও মুহাদ্দিসগণের একটি বড় অংশ একে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, ইমাম সুয়ুতি, ইমাম মুনাবি প্রমুখ একে আমলযোগ্য বলে গ্রহণ করেছেন।
হানাফি ফিকহের কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) - আশুরার দিন পরিবারের জন্য খরচ বৃদ্ধি করার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, ২/৫২৪)
- ফতোয়া আলমগিরি (হিন্দিয়া) - আশুরার ফজিলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে— এ দিনে সাধ্যমতো উত্তম খাদ্য প্রস্তুত করা ও দান-সদকা করা মুস্তাহাব। (ফতোয়া আলমগিরি, ১/২০৪)
- ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভী) - আশুরার দিন মুসলমানদের জন্য শোক পালন নয়, বরং আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। তাই উত্তম খাবার রান্না করা এবং পরিবারে প্রশস্ততা আনা একটি কল্যাণকর আমল। (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৩৫)
- ফতোয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) - আশুরার দিনে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা ও বেশি খরচ করা সম্পর্কে তিনি বলেন— এটি একটি মুস্তাহাব কাজ, তবে এটিকে ওয়াজিব মনে করা বা নির্দিষ্ট কোনো খাবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। (ফতোয়া উসমানি, ৮/৫৮৩)
শিয়া-মাতম প্রসঙ্গ
প্রশ্নকারী যেমন উল্লেখ করেছেন, কাফের শিয়ারা এই দিনটিকে হুসাইন (রা.)-এর শোক ও মাতমের দিন হিসেবে পালন করে। অপরদিকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের বিশ্বাস— এদিন আল্লাহ তায়ালা বহু নবীর বিপদ দূর করেছিলেন এবং হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত বেদনাদায়ক হলেও মুসলমানেরা শোক ও নাজায়েজ কাজ করে না। বরং আশুরার ফজিলত বুঝে কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি কাটায়। সুতরাং শিয়াদের বিপরীতে মুসলমানদের জন্য উত্তম খাবার রান্না করে পরিবার-পরিজনকে খুশি করা সুন্নতের দৃষ্টিতে উৎসাহিত।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- আশুরার দিন ভালো রান্না করা মুস্তাহাব, তবে কোনো নির্দিষ্ট পদ (যেমন হালুয়া, জর্দা ইত্যাদি) বাধ্যতামূলক নয়। ফকিহগণ বলেছেন— সামর্থ্য অনুযায়ী যা সম্ভব (সাধারণ দিনের তুলনায় উন্নতমানের) খাবার রান্না করাই যথেষ্ট।
- একে ওয়াজিব বা ফরজ মনে করা বা নির্দিষ্ট রীতি বানিয়ে ফেলা বিদআত হতে পারে। নিয়ত হবে— আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং পরিবারকে খুশি করার সওয়াব লাভ।
- আশুরার মূল আমল হলো— রোজা রাখা, দান-সদকা করা, বেশি বেশি ইবাদত করা। রান্না-বান্না শুধু পরিবারের প্রতি সদয়তার একটি অংশ।
উপসংহার
আশুরার দিনে সাধ্যের মধ্যে উত্তম রান্না করে পরিবার-পরিজনকে খাওয়ানো হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মুস্তাহাব এবং ফজিলতপূর্ণ একটি কাজ। এর জন্য বিশেষ দলিল হাদিসে বিদ্যমান। তবে এটিকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা মনে না করে শুধু নফল আমলের নিয়তে করা উচিত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আশুরার পূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমীন।