পাত্র পাত্রীর ম্যাসেজে সালাম বিনিময় প্রসঙ্গে
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
প্রশ্ন: বিয়ে করার সম্ভাবনা আছে এমন পাত্র-পাত্রী যদি মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া অন্য কোনো কথা না বলে শুধু মেসেজে সালাম বিনিময় করে, তবে কি গুনাহ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি গুনাহের কাজ হবে। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অমাহরাম পুরুষ ও নারীর মধ্যে কথা বলা, এমনকি সালাম বিনিময় করাও সাধারণত নিষিদ্ধ, যদি কোনো শরয়ি প্রয়োজন না থাকে। সালাম একটি কথোপকথনের সূচনা এবং তা অন্য কথার দরজা খুলে দিতে পারে। তাই শুধু সালাম আদান-প্রদান করলেও তা নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত।
দলিল ও ব্যাখ্যা
১. কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا”
“আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না; নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৩২)
অমাহরামের সাথে কথোপকথন, এমনকি শুধু সালামও ব্যভিচারের পথ খুলে দিতে পারে। হাদিসে এসেছে:
“চোখের জিনা (অবৈধ দৃষ্টি), কানের জিনা ও জিহ্বার জিনা আছে...” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬২৪৩)
জিহ্বার জিনা হলো অমাহরামের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা। সালামও এ কথারই অংশ।
২. হানাফি ফিকহের মত:
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) ‘রাদ্দুল মুহতার’ এ বলেন:
“অমাহরাম মহিলার সাথে কথা বলা জায়েজ নয়, যদি তা ফিতনার আশঙ্কা হয় অথবা প্রয়োজন না থাকে। তবে প্রয়োজনের জন্য (যেমন কেনাবেচা, চিকিৎসা ইত্যাদি) শুধু সীমিত ও সতর্কতার সাথে কথা বলা জায়েজ।” (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৭)
প্রয়োজনবিহীন অমাহরামের সাথে সালাম বিনিময়ও এর আওতায় পড়ে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, অমাহরাম মহিলাকে সালাম দেওয়া মাকরুহ। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২৪)
৩. বিবাহের প্রসঙ্গে:
বিবাহের প্রস্তাবের জন্য অমাহরাম পাত্র-পাত্রীর মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথা বলার অনুমতি রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট শর্তে—মাহরামের উপস্থিতি, নির্জনতা পরিহার, এবং প্রয়োজন সীমায় থাকা। কিন্তু শুধু সালাম বিনিময় কোনো প্রয়োজন পূরণ করে না; বরং এটি অপ্রয়োজনীয় কথার শামিল। তাই একে বৈধ বলা যায় না।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ‘মা’আরিফুল কুরআন’-এ বলেন:
“বিবাহের জন্য পাত্র-পাত্রী দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ, তবে তা মাহরামের উপস্থিতিতে ও শালীনতার সাথে হতে হবে। মেসেজ বা ফোনে প্রয়োজনীয় কথা সীমিতভাবে জায়েজ, কিন্তু শুধু সালাম বিনিময় কোনো প্রয়োজন নয়।” (মা’আরিফুল কুরআন, ৬/৪৯০)
উপসংহার
প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায়—বিয়ের সম্ভাবনা আছে এমন পাত্র-পাত্রী মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া শুধু মেসেজে সালাম বিনিময় করলে—তা গুনাহ হবে। কারণ এটি গায়রে মাহরামের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথোপকথনের অন্তর্ভুক্ত। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা চাইলে পরিবারের মাধ্যমে বা মাহরামের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় করতে পারেন। সরাসরি ব্যক্তিগত মেসেজিং বা ফোনালাপ পরিহার করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হালাল ও হারাম বুঝার তাওফিক দিন। (আমিন)