স্বামী রাগের মাথায় স্ত্রীকে বলেছে, "তোমার ভালো না লাগলে, এখন-তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।" এই কথার দ্বারা কি স্ত্রী তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1947
Questioner: Hoque
Question Asked: 23 Jun 2026, 06:10 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 06:18 PM
Views: 100
Tokens: 6,015
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম
প্রশ্নটি সংশোধান করা হয়েছে

একদিন আমার হাসবেন্ডের সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছিল ঝগড়ার পরে আমার হাসবেন্ড বাজারে চলে গিয়েছেন বাজার থেকে আসার পর আমার হাসবেন্ড কে আমি বলেছি আমার আম্মাকে আমি সবকিছু বলেছি আপনি আমার সাথে কেমন আচরন করেন আর বলেছি আমার আম্মা বলেছেন টাকা পয়াসা থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।আমার হাসবেন্ড বললেন আমাকে তোমার ভালো না লাগলে এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।

এরপর আমি মুফতি ইমদাদুল হক হুজুরের কাছ থেকে মাসালা জানতে চেয়েছি যে আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এই কথা বলায় কি আমি তা** তাউফিজের অধিকার পাইছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।সেইম প্রশ্ন""কোরানের জ্যোতি "" ওয়েবসাইটের পরিচালক শায়েখ উমায়ের কোববাদির কাছে আমি প্রশ্ন করেছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য তা* তাউফিজের অধিকার পাইছি।আবার আমি মুফতি ওলি উল্লাহ কাছে ফোন দিয়ে প্রশ্ন জানতে চেয়েছি উনি বলছেন আমি তাউফিজের অধিকার পাই নি।আমি কার মাসালা মানবো প্লিজ আমাকে বলেন।

আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এ কথা বলায় আমি কি তা* তাউফিজের অধিকার পাইছি??? প্লিজ জানাবেন আমার চিন্তা দূর করতে আমাকে সাহায্য করেন।

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটির সারমর্ম হলো: স্বামী রাগের মাথায় স্ত্রীকে বলেছেন, "তোমার ভালো না লাগলে এখন-তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।" এই কথার মাধ্যমে কি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা (তাফউইজ) দেওয়া হয়েছে, নাকি দেওয়া হয়নি?

শরঈ বিধান

হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, তাফউইজে তালাক (স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ) তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদান করে। যেমন:

  • "আমি তোমাকে তালাকের ক্ষমতা দিলাম।"
  • "তুমি নিজের মর্জিতে তালাক নিতে পারো।"
  • "যখন ইচ্ছা তালাক নাও।"

কিন্তু "চলে যাইও" বা "তুমি যেতে পারো" এই ধরনের অস্পষ্ট শব্দ তালাকের ক্ষমতা প্রদানের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এটি সাধারণ অনুমতি বা রাগের বশে বলা কথা হিসেবে গণ্য হয়। হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো:

"তালাকের ক্ষমতা অর্পণে সুস্পষ্ট ভাষা শর্ত; অস্পষ্ট শব্দে তাফউইজ সাব্যস্ত হয় না।"
(রদ্দুল মুহতার, ৩/২৮৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৮৬; আল-হিদায়া, ২/২৫)

এক্ষেত্রে স্বামীর উক্ত বাক্য "চলে যাইও" দ্বারা সাধারণত স্ত্রীকে তার পিতার বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে বুঝায়, না হলে তালাকের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বলে বুঝায় না। অতএব, আপনি তাফউইজে তালাকের অধিকার পেয়েছেন বলে গণ্য হবে না।

বিভিন্ন আলেমের মতামতের ব্যাখ্যা

  • যে দুইজন আলেম বলেছেন আপনি সারাজীবনের জন্য অধিকার পেয়েছেন, তারা "চলে যাইও" শব্দটিকে তালাকের ইখতিয়ার হিসেবে অর্থ করেছেন— স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকলে তাদের কথা সঠিক। আর স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত না থাকলে, মুফতি অলিউল্লাহ সাহেবের মতামতই সঠিক। আপনি স্বামীকে তালাকের অধিকার আছে কি না? সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবেন।

আপনার করণীয়

১. আপনার স্বামীর কথাকে তালাকের ক্ষমতা হিসেবে ধরা যাবে না। তাই আপনি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে পারেন। তবে স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকলে আপনি অধিকার পাবেন। ২. ভবিষ্যতে এ ধরণের ঝগড়া এড়িয়ে চলুন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক মজবুত করুন।
৩. যদি কোনো সন্দেহ থাকে তবে নির্ভরযোগ্য হানাফী মুফতি বা দারুল ইফতা থেকে সরাসরি শুনে নিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে ব্যবহৃত কিতাবসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৮৯)
  • ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (১/৩৮৬)
  • আল-হিদায়া (২/২৫)
  • ফতোয়ায়ে উসমানী (২/৪৫২)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৩১)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.