তোমার ভালো না লাগলে চলে যাও” বললে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
একদিন আমার হাসবেন্ডের সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছিল ঝগড়ার পরে আমার হাসবেন্ড বাজারে চলে গিয়েছেন বাজার থেকে আসার পর আমার হাসবেন্ড কে আমি বলেছি আমার আম্মাকে আমি সবকিছু বলেছি আপনি আমার সাথে কেমন আচরন করেন আর বলেছি আমার আম্মা বলেছেন টাকা পয়াসা থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।আমার হাসবেন্ড বললেন আমাকে তোমার ভালো না লাগলে এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও।
এরপর আমি মুফতি ইমদাদুল হক হুজুরের কাছ থেকে মাসালা জানতে চেয়েছি যে আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এই কথা বলায় কি আমি তা** আধিকার পাইছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।সেইম প্রশ্ন""কোরানের জ্যোতি "" ওয়েবসাইটের পরিচালক শায়েখ উমায়ের কোববাদির কাছে আমি প্রশ্ন করেছি উনি বলেছেন আমি সারাজীবনের জন্য অধিকার পাইছি।আবার আমি মুফতি ওলি উল্লাহ কাছে ফোন দিয়ে প্রশ্ন জানতে চেয়েছি উনি বলছেন আমি অধিকার পাই নি।আমি কার মাসালা মানবো প্লিজ আমাকে বলেন।
১।আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন এখন তখন যেকোনো সময় আমাকে তোমার ভালো না লাগলে চলে যাইও এ কথা বলায় আমি কি তা* অধিকার পাইছি??? প্লিজ জানাবেন আমার চিন্তা দূর করতে আমাকে সাহায্য করেন।
২।আগে আপনাদের ইফতা বিভাগে যেভাবে প্রশ্ন করা যেতো সরাসরি মুফতিদের কাছে এইভাবে কি এখন প্রশ্ন করা যায় না???
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী শরী‘আতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে বলা “তোমার ভালো না লাগলে চলে যাও” বা “এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও”—এরূপ বাক্য তালাক (ডিভোর্স) হিসেবে গণ্য হয় না এবং তা স্ত্রীকে নিজেকে তালাক দেওয়ার কোনো অধিকারও প্রদান করে না। কেননা তালাকের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ বা স্পষ্ট ইঙ্গিতের সাথে তালাকের নিয়ত জরুরি, যা এখানে অনুপস্থিত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭১)
১. আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাব
আপনার স্বামীর উক্ত বাক্য “এখন তখন যেকোনো সময় তুমি চলে যাইও”—এর দ্বারা শরী‘আতের দৃষ্টিতে আপনি তালাক বা খুলার অধিকার পেয়েছেন।" (শরহু মা‘আনিল আছার, ৩/২১১; আল-হিদায়া, ২/৩৪০)
আপনার উল্লেখিত কয়েকজন মুফতির মধ্য থেকে যারা বলেছেন আপনি “সারাজীবনের জন্য অধিকার পেয়েছেন”—তাদের এই মতামত সঠিক যদি স্বামীর তালাকের অধিকার দেয়ার নিয়ত থাকে। নতুবা মুফতি ওলিউল্লাহ সাহেবের বক্তব্য সঠিক।
পরামর্শ: আপনার স্বামীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকুন। উভয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। যদি সত্যিই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়, তাহলে আপনি স্বামীর সম্মতিক্রমে খুলা (ছাড়পত্র) নিতে পারেন অথবা স্থানীয় ইসলামী আদালতে ফয়সালার জন্য যেতে পারেন।
২. আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব
পূর্বে ইফতা বিভাগে সরাসরি মুফতিদের কাছে প্রশ্ন করার যে পদ্ধতি ছিল, তা এখনও বন্ধ হয়নি; বরং ওয়েবসাইট ও ফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু সময় ও সাংগঠনিক কারণে বর্তমানে অধিকাংশ ইফতা বিভাগ লিখিতভাবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই প্রশ্ন গ্রহণ করে এবং উত্তর প্রদান করে। ইনশাআল্লাহ আপনিও আমাদের এই প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে নিয়মিত প্রশ্ন করতে পারেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
- স্বামীর উক্ত বাক্যের দ্বারা আপনি তালাক বা বিচ্ছেদের অধিকার পেয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা আপনার বিবাহে বরকত দিন এবং আপনাদের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপন করুন। আমীন।