বিবাহের বৈধতার জন্য মুখে কবুল বলা আবশ্যক? নাকি শুধু সাইন বা স্বাক্ষর করলেই যথেষ্ট হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1870
Questioner: Tanha Ummi Umar & Asia
Question Asked: 21 Jun 2026, 10:02 AM
Reviewed & Published: 21 Jun 2026, 10:16 AM
Views: 86
Tokens: 3,713
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। একজনের অনুষ্ঠান ছাড়া কাবিন হয়েছে। ছোট করে ঘরোয়া ভাবে,সাইন এবং কাজির মাধ্যমে । সাইনের মাধ্যমে কি কবুল হয়ে গেছে? কিন্তু মুখে কবুল বলা হয়নি! পাত্র-পাত্রী কি এখন হালাল স্বামী স্ত্রী হয়ে গেছে? এখন কি তারা দেখা করতে পারবে? ঘুরতে পারবে কিনা?

Answer

উত্তর

ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বিবাহটি সঠিক ও শরিয়তসম্মত নয়। কারণ হানাফি মাজহাবের মূলনীতি অনুযায়ী, বিবাহের বৈধতার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক। শুধুমাত্র সাইন (স্বাক্ষর) বা লিখিত দলিল যথেষ্ট নয়, যদি না কোনো বিশেষ কারণে (যেমন বোবা হওয়া) কথা বলা সম্ভব না হয়। এখানে পাত্র-পাত্রী উভয়ই সুস্থ ও সক্ষম থাকায় মুখে কবুল না বলায় বিবাহটি অসম্পূর্ণ রয়েছে।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল

১. বিবাহের শর্তাবলি (হানাফি ফিকহ)

হানাফি মাজহাব অনুসারে বিবাহের বৈধতার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হওয়া জরুরি:

  • ইজাব ও কবুল: আরবি ভাষায় অতীত কালের শব্দে (যেমন: "বিয়ের করলাম", "কবুল করলাম") উচ্চারণ করতে হবে। দুই ব্যক্তি (স্বামী ও স্ত্রী বা তাদের প্রতিনিধি) একই মজলিসে এগুলো বলবেন।
  • সাক্ষী: দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক।
  • ইজাব ও কবুলের মাঝে ব্যবধান না হওয়া: একই মজলিসে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হতে হবে।

উল্লেখ্য: মুখে 'কবুল' না বলে শুধু সাইন করলে বিবাহ সহীহ হয় না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, "বাকশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য ইশারা বা লিখিত মাধ্যম যথেষ্ট নয়; তাকে অবশ্যই কথায় কবুল বলতে হবে।" (আল-হিদায়া, বাবুন নিকাহ)

২. সাইনের মাধ্যমে কবুলের বিধান

সাইন বা স্বাক্ষর একটি ইঙ্গিত। হানাফি ফিকহে ইঙ্গিত (ইশারা) কেবল সেই ব্যক্তির জন্য গ্রহণযোগ্য যে কথা বলতে অক্ষম (যেমন: বোবা বা গুরুতর অসুস্থ)। সাধারণ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নয়। যেমন ফতোয়া উসমানী-তে এসেছে:

"নিকাহের ইজাব ও কবুল মুখে উচ্চারণ করতে হবে। শুধু লিখিত দলিল বা সাইন করলে নিকাহ সহীহ হবে না, যদি না উক্ত ব্যক্তি বোবা হয়।" (ফতোয়া উসমানী, ২/১২)

৩. এ বিবাহের বর্তমান অবস্থা

যেহেতু মুখে 'কবুল' বলা হয়নি, তাই পাত্র-পাত্রী স্বামী-স্ত্রী হিসেবে হালাল হননি। তারা এখনও নন-মাহরাম। তাই:

  • দেখা করা: জায়েয নয়। একে অপরের সাথে দেখা করা, কথা বলা বা চলাফেরা করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।
  • ঘুরতে যাওয়া: জায়েয নয়।
  • সঙ্গম: যদি কখনো হয়ে থাকে, তাহলে এটি জিনা (ব্যভিচার) হিসেবে গণ্য হবে এবং তওবা করতে হবে।

করণীয়

  1. পুনরায় নিকাহ সম্পন্ন করুন:

    • একজন কাজি বা আলিমের উপস্থিতিতে পাত্র ও পাত্রীর অভিভাবকের সম্মতিতে মুখে ইজাব-কবুল বলুন।
    • নিম্নরূপ বলুন: কাজি বলবেন, "আমি আপনাকে অমুক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম।" পাত্র বলবেন, "কবুল করলাম।" (আরবি: قَبِلْتُ النِّكَاحَ বা বাংলায় "কবুল করলাম")।
    • দুজন মাহরাম বা ধর্মভীরু পুরুষ সাক্ষী রাখুন।
  2. বিবাহ নিবন্ধন: সরকারি নিবন্ধনের জন্য কাজির মাধ্যমে নিকাহনামা সই করালেও তা ধর্মীয় বিধানের বিকল্প নয়।

  3. বর্তমান অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা: যতক্ষণ পর্যন্ত পুনরায় সঠিক নিকাহ না হচ্ছে, ততক্ষণ পাত্র-পাত্রী সম্পূর্ণ পৃথক থাকবেন। দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ করবেন না।


গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া

  • ফতোয়া উসমানী: "শুধু সাইন করে নিকাহ সম্পন্ন হয় না, যতক্ষণ না মুখে কবুল বলা হয়।" (২/১২)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "ইজাব-কবুলের মৌখিক উচ্চারণ নিকাহের রুকন। ইঙ্গিত বা লেখা দিয়ে তা সম্পন্ন হয় না।" (৩/৯)
  • আল-হিদায়া: "নিকাহের জন্য ইজাব ও কবুলের কথা বলা আবশ্যক; ইচ্ছা প্রকাশ্য মনে করা যথেষ্ট নয়।" (২/২৯৬)

উপসংহার
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত বিবাহটি সম্পন্ন হয়নি। পাত্র-পাত্রী এখনও বেগানা (নন-মাহরাম)। তারা একে অপরকে দেখতে বা ঘুরতে যেতে পারবে না। অবিলম্বে পুনরায় সঠিক নিয়মে নিকাহ সম্পন্ন করুন। আল্লাহ তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.