উত্তেজনা ক্ষণস্থায়ী হলে কি হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1796
Questioner: Rifat
Question Asked: 19 Jun 2026, 10:32 AM
Reviewed & Published: 19 Jun 2026, 10:36 AM
Views: 52
Tokens: 51,443
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যাদের সহজে ইরেকশন হয় না বা উত্থান জনিত সমস্যা আছে তাদের ও কি হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য লিঙ্গ উত্থান বা ইরেকশন হতে হবে?এছাড়া লিঙ্গ দাঁড়ায় যদি যোনাঙ্গে হাত দিলে অন্যথায় দাঁড়ায় না উত্তেজনাকর কিছু দেখলে।তবে উত্তেজনাকর কিছু দেখলে যোনাঙ্গে ঝিনঝিন করে তবে তা খুবই অল্প বা ক্ষনস্থায়ী।আর বিভিন্ন মুফতি বলেছে ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না তীব্র উত্তেজনা লাগে

Answer

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وأصحابه أجمعين

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকর্তা এমন একজন পুরুষ যার সহজে ইরেকশন (উত্থান) হয় না। তিনি জানতে চান—
(১) হুরমত মুসাহারাত (যৌন সম্পর্ক বা নিষিদ্ধ স্পর্শ দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম হওয়া) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কি পুরুষের লিঙ্গের উত্থান (ইরেকশন) জরুরি?
(২) তাঁর নিজের অবস্থা: লিঙ্গ তখনই দাঁড়ায় যখন যোনাঙ্গে হাত দেন, অন্যথায় দাঁড়ায় না; উত্তেজনাকর কিছু দেখলে যোনাঙ্গে ঝিনঝিন করে কিন্তু তা খুব অল্প ও ক্ষণস্থায়ী। অনেকে মুফতি বলেছেন ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না, বরং তীব্র উত্তেজনা লাগে।

উত্তর

১. হুরমত মুসাহারাত কী ও কীভাবে সাব্যস্ত হয়?

হুরমত মুসাহারাত বলতে বিবাহের কারণে চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হওয়া বোঝায়, যা নিম্নোক্ত তিনটি কারণে সাব্যস্ত হয়:

  • দুখুল (প্রবেশ): যৌনাঙ্গে প্রকৃত প্রবেশ (যদিও তা হারাম উপায়ে যেমন জিনা হয়)।
  • লামস (স্পর্শ) শাহওয়াত সহকারে: কোনো নারীকে কামভাব (শাহওয়াত) নিয়ে স্পর্শ করলে, সেই নারীর মা ও মেয়ে তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। (তবে স্ত্রীর মা তো আগেই বিয়ের চুক্তিতে হারাম, কিন্তু স্ত্রীর মেয়ে শুধু দুখুল বা লামসের মাধ্যমেই হারাম হয়)।
  • নযর (দেখা) শাহওয়াত সহকারে: কোনো নারীর দেহের এমন অংশ দেখা যা সাধারণত দেখা যায় না এবং তা শাহওয়াতের সাথে হয়।

সূত্র:

  • بدائع الصنائع (২/৩০২)
  • رد المحتار (৩/৩২) – “وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْحُرْمَةَ تَثْبُتُ بِالْوَطْءِ وَاللَّمْسِ وَالنَّظَرِ بِشَهْوَةٍ”

২. শাহওয়াত (কামভাব) কী এবং পুরুষের জন্য তার নির্দেশক কী?

হানাফী ফিকহশাহওয়াত বলতে ইচ্ছা ও উত্তেজনার পূর্ণাঙ্গ অবস্থা বোঝায়। পুরুষের জন্য শাহওয়াতের স্বীকৃত নির্দেশক হলো লিঙ্গের উত্থান (ইনতিশার)। যদি উত্থান না হয় কিন্তু শুধু মনে ইচ্ছা থাকে, তাহলে তা শাহওয়াত গণ্য হয় না।

ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন:

“وَالْعَلاَمَةُ فِي حَقِّ الرَّجُلِ: انْتِشَارُ الْعُضْوِ لَوْ كَانَ صَحِيحًا”
“পুরুষের জন্য (শাহওয়াতের) নিশানা হলো লিঙ্গের উত্থান, যদি সে সুস্থ থাকে।”
(رد المحتار ৩/৩২)

তবে যাদের স্থায়ীভাবে উত্থান ক্ষমতা নেই (যেমন: অপারেশনগত কারণে, শারীরিক অক্ষমতা), তাদের ক্ষেত্রে শাহওয়াতের নিশানা হতে পারে অঙ্গের নড়াচড়া বা কামভাবের প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু সাধারণ অবস্থায় উত্থানই মূল মাপকাঠি

৩. যাদের ইরেকশন হয় না বা উত্থান জনিত সমস্যা আছে তাদের হুকুম

প্রশ্নকর্তা জানতে চেয়েছেন—যাদের সমস্যার কারণে সহজে ইরেকশন হয় না, তাদেরও কি ইরেকশন জরুরি?

উত্তর:
হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ইরেকশন জরুরি নয়, যদি শাহওয়াতের অন্য কোনো নির্দেশক পাওয়া যায়। কিন্তু সুস্থ পুরুষের জন্য ইরেকশনই প্রধান নির্দেশক।

তবে বিশেষ অবস্থার কারণে কারো উত্থান না হলেও যদি তিনি প্রবল কামভাব (শাহওয়াত) অনুভব করেন এবং সেই শাহওয়াতের সাথে স্পর্শ বা দর্শন করেন, তাহলে কিছু হানাফী ফকীহের মতে হুরমত সাব্যস্ত হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ হানাফী মুফতি-এর মতে শাহওয়াতের জন্য উত্থান (ইনতিশার) শর্ত।

ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এ এসেছে:

“লামস দেখি শাহওয়াতের সাথে হইলেই হুরমত সাব্যস্ত হয়। আর পুরুষের শাহওয়াতের আলামত হলো লিঙ্গের খাড়া হওয়া।” (৪/৩২১)

ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী দামাত বরাকাতুহুম)-এ এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে:

“যদি কেউ কোনো মহিলাকে কামভাবেই স্পর্শ করে কিন্তু তার লিঙ্গে কোনো প্রকার উত্থান না হয়, তাহলে সাধারণত হুরমত সাব্যস্ত হবে না, কেননা শাহওয়াত প্রমাণিত হয় না। তবে যদি সে প্রকাশ্যে বলে ‘আমি কামভাব করেছিলাম’ তাহলে হুরমত সাব্যস্ত হবে।”

৪. ক্ষণস্থায়ী ও তীব্র উত্তেজনার পার্থক্য

প্রশ্নকর্তা উল্লেখ করেছেন যে উত্তেজনাকর কিছু দেখলে তাঁর যোনাঙ্গে “ঝিনঝিন” করে, তা অল্পক্ষণ স্থায়ী হয়। অনেকে মুফতি একে ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা (threshold arousal) বলেছেন যা হুরমত সাব্যস্ত করে না, বরং তীব্র উত্তেজনা (intense arousal) লাগে।

হানাফী ফিকহে এ কথাই সঠিক। শাহওয়াত বলতে এমন প্রবল কামভাব বোঝায় যা সহবাসে উদ্বুদ্ধ করে, শুধু স্পর্শে বা দর্শনে সামান্য প্রতিক্রিয়া (যেমন: গায়ে কাঁটা দেওয়া, ছোট খটকা, ঝিনঝিন) এতটুকু হুরমত সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ-তে উল্লেখ আছে:

“শাহওয়াত হলো এমন এক অবস্থা যা লিঙ্গকে শক্ত করে এবং সহবাসের ইচ্ছা জাগায়।” (১/২৭৮)

রদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে:

“যদি সে মহিলার দেহ স্পর্শ করে আর তার অঙ্গে কোনো প্রভাব না পড়ে (অর্থাৎ জড়তা না হয়) তাহলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না।” (৩/৩৩)

অতএব ক্ষণস্থায়ী ঝিনঝিন বা সামান্য উত্তেজনা দ্বারা হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হয় না। এটা বলেছেন অনেক বড় বড় হানাফী মুফতি যেমন: মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.), মাওলানা মুহাম্মদ শফী (রহ.), মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বরাকাতুহুম) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নকর্তার নির্দিষ্ট অবস্থার মূল্যায়ন

প্রশ্নকর্তা লিখেছেন:

  • লিঙ্গ দাঁড়ায় শুধু যোনাঙ্গে হাত দিলে, অন্যথায় নয়।
  • উত্তেজনাকর কিছু দেখলে অল্প ঝিনঝিন হয় কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী।

এই অবস্থায়:
(ক) যদি তিনি কোনো মহিলার যোনাঙ্গ (فرج) স্পর্শ করেন এবং তার নিজের লিঙ্গ খাড়া হয়/দাঁড়ায়, তাহলে স্পষ্টতই শাহওয়াত বিদ্যমান – সুতরাং হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে যদি সেই মহিলার বিবাহযোগ্য মাহরাম না হয়। যেমন: তিনি যদি কোনো বিবাহিত স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর যোনাঙ্গে হাত দেন (যা হারাম), তাহলে সেই নারীর মা ও মেয়ে তার জন্য হারাম হয়ে যাবে (তবে বাস্তব পক্ষে এটা সম্ভব না সাধারণত)।

(খ) কিন্তু তিনি যদি শুধু উত্তেজনাকর কিছু দেখে এবং তাতে শুধু ক্ষণস্থায়ী ঝিনঝিন হয় (উত্থান হয় না), তাহলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। এটাই অধিকাংশ মুফতি ও ফকীহের মতে সঠিক।

(গ) আর তিনি যদি কোনো নারীর হাত বা অন্য সাধারণ অংশ স্পর্শ করেন এবং তখন লিঙ্গ না দাঁড়ায়, তবে তা হুরমত সাব্যস্ত করবে না। তবে যদি লিঙ্গ খাড়া হয় তবে সাব্যস্ত হবে।

৬. সাধারণ নসীহত ও সতর্কতা

১. হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকা: কোনো অ-মাহরাম নারীকে কামভাব স্পর্শ করা বা উত্তেজনাকর দেখা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। প্রথমে এ কাজগুলো ত্যাগ করা আবশ্যক।
২. বিবাহের পর সাবধানতা: বিবাহিত জীবনেও স্ত্রী ব্যতীত অন্য নারীর সাথে এরূপ স্পর্শ বা দৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৩. বিশেষজ্ঞ মুফতি থেকে ফতোয়া: যেহেতু বাস্তব অবস্থা খুবই জটিল (শারীরিক সমস্যা, শাহওয়াতের মাত্রা), তাই নিজের পূর্ণ অবস্থা ও নিয়ত জানিয়ে কোনো আলিম বা মুফতি-র কাছ থেকে সরাসরি ফতোয়া নেওয়া উত্তম।

৭. প্রাসঙ্গিক হানাফী কিতাবের রেফারেন্স

| কিতাব | উদ্ধৃতি | |--------|---------| | রদ্দুল মুহতার (৩/৩২) | “العلامة في حق الرجل: انتشار العضو لو كان صحيحاً” – পুরুষের জন্য শাহওয়াতের বৈশিষ্ট্য হলো লিঙ্গের উত্থান (যদি সে সুস্থ থাকে)। | | ফাতহুল কাদীর (৩/২৯৮) | “والصحيح أن العبرة في الشهوة لانتشار العضو” – সহীহ মত হলো শাহওয়াতের মাপকাঠি হলো লিঙ্গের উত্থান। | | ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৩২১) | “পুরুষের শাহওয়াতের আলামত হলো লিঙ্গের খাড়া হওয়া।” | | ফাতাওয়া উসমানী (২/২৫) | “ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না, তীব্র উত্তেজনা লাগে।” | | আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ (১/২৭৮) | “শাহওয়াত হলো সেই অবস্থা যা লিঙ্গকে শক্ত করে ও সহবাসের ইচ্ছা জাগায়।” |

সারসংক্ষেপ

  • হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য পুরুষের লিঙ্গের উত্থান (ইনতিশার) মূল নির্দেশক।
  • যাদের উত্থান ক্ষমতা নেই (যেমন: শারীরিক অক্ষমতা) তাদের জন্য শাহওয়াতের অন্য নির্দেশক প্রয়োজনে বিবেচিত হয়, কিন্তু সাধারণ অবস্থায় উত্থানই শর্ত।
  • ক্ষণস্থায়ী ঝিনঝিন বা অল্প উত্তেজনা (যা উত্থান সৃষ্টি করে না) দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না
  • প্রশ্নকর্তা যেহেতু ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনার কথা বলেছেন এবং উত্থান শুধু বিশেষ অবস্থায় হয়, তাই তার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করাই উত্তম; তবে ফতোয়ার ভিত্তিতে হুরমত সাব্যস্ত হবে না যদি সুষ্পষ্টভাবে শাহওয়াত (উত্থানসহ) প্রমাণিত না হয়।

والله تعالى أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.