ইস্তেখারার ফলাফল সংক্রান্ত।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1781
Questioner: Sania
Question Asked: 18 Jun 2026, 09:23 PM
Reviewed & Published: 18 Jun 2026, 09:28 PM
Views: 74
Tokens: 3,913
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।উস্তাজ অনেকে চায় না তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর কোনো পাস্ট থাকুক। আমি আগেই পাত্রকে আমার পাস্টের কথা জানিয়েছি।ওনি ইস্তেখারা করে আমার সাথে যোগাযোগ করবে বলেছে পরে।তো ১৩/১৪ দিন পরে ওনি ইস্তেখারা করে আমায় নক দেয়। বলে আল্লাহ তায়ালা আপনার সাথে কথা বলার আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছে বলেই কথা বলছি।। আমিও ৫/৬ দিন ধরে ইস্তেখারা করে যাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে কিছু বুঝতে পারছি না। এটাই মনে হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা দিবেন ইনশাআল্লাহ।
এখন আমার প্রশ্ন হলো উস্তাজ এই সম্বন্ধ টা কি পজিটিভ কিছু?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি ও পাত্র উভয়েই ইস্তেখারা করেছেন এবং আপনার মনে ইতিবাচক ধারণা হচ্ছে—এটি একটি ভালো লক্ষণ। তবে ইস্তেখারার ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিষয় বোঝা জরুরি।

ইস্তেখারা কী এবং এর ফলাফল কীভাবে বুঝবেন?

ইস্তেখারা হল আল্লাহর কাছে কোনো কাজের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দু‘আ পড়া এবং সেই কাজটি করার জন্য নির্দেশনা চাওয়া। এটি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী বা স্বপ্নের মাধ্যমে ফলাফল বের করার পদ্ধতি নয়, বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে কাজটি করার পর যদি আপনার অন্তর শান্তি পায় এবং কাজটি সহজ হয়, তবে তা কল্যাণের লক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করে, তখন সে যেন ফরজ ছাড়া দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে এবং এই দু‘আ পড়ে..." (বুখারি, হাদিস: ১১৬২; মুসলিম, হাদিস: ৯২০)

ইস্তেখারার পর আপনি যদি মনে করেন যে সম্পর্কটি আপনার জন্য ভালো হবে এবং এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করে, তবে তা পজিটিভ হতে পারে। তবে ইস্তেখারার ফলাফল কেবল স্বপ্নের মাধ্যমেই আসে না, বরং মনের প্রবণতা, কাজের সহজলভ্যতা এবং অনুকূল পরিস্থিতি দ্বারাও বোঝা যায়। ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
"ইস্তেখারার পর যদি অন্তর কোনো কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তা সহজ হয়, তবে তা কল্যাণের লক্ষণ। আর যদি অন্তর সংকুচিত হয় এবং কাজ কঠিন হয়, তবে তা অকল্যাণের ইঙ্গিত।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৯)

আপনার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ:

১. আপনার অতীত সম্পর্কে সৎ হওয়া: আপনি পাত্রকে আপনার অতীত সম্পর্কে আগেই জানিয়েছেন—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইসলাম সততা ও স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করে। আল্লাহ বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো।" (সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৭০)

২. পাত্রের ইস্তেখারা: তিনি ইস্তেখারা করে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মনে করছেন আল্লাহই তাকে এই সম্পর্কের দিকে আগ্রহ দিয়েছেন। এটি ইতিবাচক দিক।

৩. আপনার ইস্তেখারা ও মনের অবস্থা: ৫/৬ দিন ইস্তেখারা করার পর আপনি মনে করছেন আল্লাহ দেবেন ইনশাআল্লাহ—এটি আপনার কল্যাণের প্রতি আশাবাদী হওয়ার লক্ষণ। তবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনাকে আরও কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে:

  • সম্পর্কটি এগিয়ে নিতে কোনো বড় বাধা আসছে কি না?
  • পাত্রের চরিত্র, ধর্মীয় অনুশীলন ও আচরণে কোনো খারাপ দিক দেখছেন কি না?
  • আপনার অন্তর স্থির হচ্ছে কি না?

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • ইস্তেখারা চালিয়ে যান: নিয়মিত ইস্তেখারা করুন এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করুন।
  • পরামর্শ নিন: পরিবার বা অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। ইসলামে বিবাহের আগে দলিল-প্রমাণ ও পরামর্শ গ্রহণ জরুরি।
  • স্বপ্নের ওপর নির্ভর করবেন না: ইস্তেখারার পর স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। বরং আপনার বুদ্ধি-বিবেচনা ও দ্বীনদারির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।
  • অতীতকে কেন্দ্র করে বিচার করবেন না: অতীতের ভুল যদি তওবা করে সংশোধন করে থাকেন, তবে তা আর বাধা হওয়া উচিত নয়। ইসলামে তওবা কবুল হয় এবং অতীত মুছে যায়।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

হ্যাঁ, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী মনে হচ্ছে এটি পজিটিভ হতে পারে। উভয়ে ইস্তেখারা করেছেন, উভয়ের অন্তরেই সম্পর্কের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে এবং পাত্র আপনার অতীত জেনেও এগিয়ে আসতে চেয়েছে—এগুলি ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

সূত্র:

  • কুরআন: সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৭০
  • হাদিস: সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯২০
  • ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ২/৪৬৯; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫২

আল্লাহতায়ালা আপনার জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দিন ও উত্তম জীবনসঙ্গী দান করুন।
(আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.