ফরজ কাযা রোজাতে নিয়ত থাকা স্বত্বেও, সাহরীতে না উঠতে পেরে রোজা না রাখলে কি গোনাহগার হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
ওয়েসসাইটের আগের করা এই প্রশ্নের রিল্পাইটি পেয়েছিলাম না। তাই জানার জন্য করছি প্রশ্নটি ইনশা আল্লাহ।
(১)[আমি গতকাল রাত্রে কাযা রোজার নিয়ত করে ঘুমিয়েছিলাম কিন্তু সাহরীতে উঠতে পারিনি। পরে সকাল হলে কনফিউজড ছিলাম যে রোজাটা রাখব নাকি রাখবনা। পরে পানি খাইনা এবং রোজাটা রেখে দিই আজকে।
তাহলে কি আমার আজকের রোজাটা হয়নি শাইখ]
(২) তো এরকম কখনো নিয়ত থাকে কিন্তু উঠতে পারিনা বলে ফরজ কাযা রোজাটা রাখিনা। আবার কখনো নিয়ত থাকে কিন্তু উঠতে না পারলেও রোজাটা রেখে দিই। এতে কি আমার কোন গোনাহ হবে কিনা?
(৩) রোজা অবস্থায় আমরা থুথু ফেলতে গিয়ে মুখের বাহিরে থুথুর যতটুকু অংশ আসে যেটা বাহিরেই তো চলে যায় এবং একই সাথে জিহ্বার ভিতরে থুথুর যে অংশ থাকে থুথু ফেলতে গিয়েও সেটা তো ভিতরেই থাকে তাই ভিতর থেকেই গিলে ফেলা হয়। তাহলে তো রোজা কোনো ফাসাদ হবেনা, তাইনা?
Answer
উত্তর: ফরজ কাযা রোজা, সাহরী না খেয়ে রোজা রাখা ও থুথু গিলে ফেলা সম্পর্কে হানাফি ফিকহের আলোকে
প্রশ্ন ১: আপনি রাতে কাযা রোজার নিয়ত করে ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু সাহরীতে উঠতে পারেননি। সকালে কিছু না খেয়ে পানি পান না করেই রোজা রেখে দিয়েছেন। আপনার আজকের রোজাটি কি সহীহ হয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, আপনার রোজাটি সহীহ হয়েছে। হানাফি মতে, ফরজ বা কাযা রোজার জন্য নিয়ত করা আবশ্যক। আপনি রাতে (সুবহে সাদিকের আগে) নিয়ত করেছিলেন, যা যথেষ্ট। সাহরী না খাওয়া বা ঘুম থেকে না ওঠার কারণে নিয়ত বাতিল হয় না। যেহেতু আপনি ফজরের পর কোনো কিছু পানাহার করেননি, তাই রোজা সহীহ হয়েছে।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, কিতাবুস সাওম, বাবুন নিয়্যত; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৯৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২১)
প্রশ্ন ২: কখনো কাযা রোজার নিয়ত করে উঠতে না পেরে রোজা না রাখা, আবার কখনো না উঠলেও রোজা রাখা—এতে কি গোনাহ হবে?
উত্তর:
- রোজা না রাখলে: ফরজ রোজার নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে না রাখা (পানাহার বা অন্য কোনোভাবে ভঙ্গ করা) গুনাহ। কারণ আপনি রোজা ভঙ্গের সংকল্প করেছেন। তবে এক্ষেত্রে কেবল কাযা করবেন, কাফফারা নেই।
(সূত্র: আল-হিদায়া, ১/১১৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪১৫) - রোজা রাখলে: কোনো গুনাহ নেই, বরং আপনি নিয়ত পূর্ণ করায় সওয়াব পাবেন। সাহরী না খেতে পারলেও রোজা সহীহ হবে।
অতএব, উত্তম পদ্ধতি হলো: নিয়ত করার পর রোজা রেখে দেওয়া, যদিও সাহরী মিস হয়। উঠতে না পারার কারণে রোজা না রাখা অনুচিত এবং গুনাহের কারণ হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: রোজা অবস্থায় থুথু ফেলতে গিয়ে কিছু থুথু মুখের বাইরে যায়, আর কিছু জিহ্বার ভেতর থেকে গিলে ফেলা হয়—এতে কি রোজা ভেঙে যায়?
উত্তর: না, রোজা ভাঙে না।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নিজের থুথু গিলে ফেলা রোজা ভঙ্গের কারণ নয়, যদি তা মুখের অভ্যন্তরস্থ থুথু হয় এবং বাইরের কোনো বস্তু কিংবা রক্ত, পুঁজ ইত্যাদি মিশ্রিত না থাকে। থুথু ফেলার সময় মুখের কিছু অংশ বাইরে চলে যাওয়া এবং ভেতরের অংশ গিলে নেওয়া—এটি স্বাভাবিক। রোজা অবস্থায় থুথু জমা করে গিললেও কোনো সমস্যা নেই। তবে থুথু বের করে আবার গিললে রোজা ভাঙে।
(সূত্র: শরহু মাআনিল আসার, ২/২৯১; রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৬৩; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২০৪)
সারসংক্ষেপ
- ফরজ/কাযা রোজায় রাতে নিয়ত করলে সাহরী না খেলেও রোজা সহীহ।
- নিয়ত করার পর কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভঙ্গ করলে গুনাহ। উঠতে না পারলে রোজা রেখে দেওয়া উচিত।
- থুথু গিললে রোজা ভাঙে না, যদি তা মুখের ভেতরের থুথু হয় ও বাইরের কিছু না মেশে।