ঈদের দিন এবং ঈদের আগের রাতের বিশেষ ফজিলত পূর্ণ আমল কি কি?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 872
Questioner: Qurrata Ain
Question Asked: 27 May 2026, 07:49 PM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 08:14 PM
Views: 99
Tokens: 2,826
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ঈদের দিন ও ঈদের আগের রাতে আমলের কি বিশেষ ফজিলত আছে?

Answer

প্রশ্ন: ঈদের দিন ও ঈদের আগের রাতে আমলের কি বিশেষ ফজিলত আছে?

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

ঈদের দিন ও ঈদের পূর্ববর্তী রাত উভয়ই ইসলামে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে এ সময়ে কিছু বিশেষ আমলের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কুরআন, হাদিস ও প্রসিদ্ধ হানাফী কিতাবের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. ঈদের পূর্ববর্তী রাতের ফজিলত ও আমল

ঈদের রাত (বিশেষত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) এমন একটি পবিত্র রাত, যাতে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে:

"পাঁচ রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: জুমার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, ঈদুল আযহার রাত, রজবের প্রথম রাত এবং শাবানের মধ্যবর্তী রাত (শবে বরাত)।"
(মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিস: ২১৪২; তবে এ হাদিসের সনদে কিছু বক্তব্য থাকলেও হানাফী ফুকাহায়ে কেরাম এর ওপর আমল করেছেন)

হানাফী কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): বলা হয়েছে, “ঈদের রাত জাগ্রত থাকা, ইবাদত ও দোয়ায় মশগুল হওয়া মুস্তাহাব।” (রদ্দুল মুহতার, ২/১৭৫)
  • ফতোয়া আলমগীরী: “ঈদের রাতে ইবাদত করা ও দোয়া করা উচিত, কারণ এ রাতে দোয়া কবুল হয়।” (ফতোয়া আলমগীরী, ১/১৮০)
  • বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): ঈদের রাতে বেশি বেশি দোয়া, তওবা ও নফল নামাজ পড়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। (বাহেশতি জেওর, খণ্ড ৪, ঈদ অধ্যায়)

উল্লেখযোগ্য আমল:

  • শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়া।
  • দরুদ শরীফ ও ইস্তিগফার পড়া।
  • অধিক পরিমাণে তাকবীর বলা।
  • সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক (ঈদুল আযহার ক্ষেত্রে)।

২. ঈদের দিনের ফজিলত ও আমল

ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য খুশি ও শুকরিয়ার দিন। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

“لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ”
“যাতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

হানাফী ফিকহের আলোকে ঈদের দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত:

  1. গোসল করা: ঈদের দিন গোসল করা সুন্নাত। ইবনে আবিদীন বলেন, “ঈদের দিন গোসল করা মুস্তাহাব।” (রদ্দুল মুহতার, ২/১৭৬)
  2. সেরা পোশাক পরা: হাদিসে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন সেরা পোশাক পরতে আদেশ দিয়েছেন। (বুখারি, হাদিস: ৯৪৮)
  3. ঈদের নামাজের পূর্বে খাওয়া (ঈদুল ফিতরে) এবং ঈদের নামাজের পরে কুরবানির গোশত বা অন্য কিছু খাওয়া (ঈদুল আযহায়): এটি সুন্নাত।
  4. তাকবীর বলা: ঈদুল ফিতরে নামাজে যাওয়া আসার সময় ও ঈদুল আযহায় ফজর থেকে শুরু করে নামাজের পর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব।
  5. ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ: পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।
  6. ঈদের দিন এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফেরা: হাদিসে উল্লেখিত। (বুখারি, হাদিস: ৯৮৬)
  7. সাদকা ও দান-খয়রাত: ঈদুল ফিতরে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব, আর সাধারণ দানের ফজিলত অপরিসীম।
  8. আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ ও সিলাতুর রাহিম: ঈদের দিন পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও খুশি বিনিময় করা সুন্নাত ও সওয়াবের কাজ।

হানাফী কিতাবের উল্লেখ:

  • ইমদাদুল ফতোয়া (মুফতি মোহাম্মদ শফি): ঈদের দিনের আমলসমূহ বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি শফি): সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ঈদের তাৎপর্য ও তাকবীরের গুরুত্ব আলোচিত।
  • ফতোয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): ঈদের নামাজের আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা।
  • শরহু মা‘আনিল আসার (ইমাম তাহাবী): ঈদের দিন তাকবীর ও গোসলের হাদিসের তাখরিজ।
  • আল-হিদায়া (মারগিনানী): ঈদের নামাজ ও সংশ্লিষ্ট বিধান।
  • উসুলুশ শাশী: ঈদের দিনের ইবাদতের গুরুত্ব সম্পর্কে ইমাম আবু হানীফার মত।

সারসংক্ষেপ

| সময় | ফজিলত ও আমল | সূত্র | |------|-------------|-------| | ঈদের রাত | দোয়া কবুলের বিশেষ সম্ভাবনা, নফল ইবাদত, তাকবীর, ইস্তিগফার | রদ্দুল মুহতার, ফতোয়া আলমগীরী | | ঈদের দিন | গোসল, সেরা পোশাক, তাকবীর, নামাজ, দান, সিলাতুর রাহিম | বুখারি, মুসলিম, মাআরিফুল কুরআন, ইমদাদুল ফতোয়া |

পরিশেষে, ঈদের রাত ও দিন উভয়ই আল্লাহর রহমত লাভের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সময়গুলোতে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও তাকবীরের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করা এবং অন্যদের সাথে খুশি ভাগ করে নেওয়া উচিত।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.