অনিচ্ছাকৃত আল্লাহকে নিয়ে বাজে চিন্তা আসলে ঈমানে কি কোনো সমস্যা হবে? এবং বৈবাহিক জীবনে কি কোনো সমস্যা হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question No:
843
Questioner:
Riha Moni
Question Asked:
27 May 2026, 01:01 PM
Reviewed & Published:
27 May 2026, 02:27 PM
Views:
34
Tokens:
2,722
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম।
হুজুর আমি রাতে এমনি নফল নামাজ পড়তেছিলাম। পড়ে আমার নামাজে হাই ঊঠছে, আমি মুখ হা করে হাই তুলতেছি নামাজেই। যখনই মুখ হা করলাম তখন ই আমার মনে মনে আল্লাহ কে নিয়ে বাজে কথা আসলো। আস্তাগফিরুল্লাহ। এখন আমার মনে হইতেছে মুখেই বলে ফেললাম কিনা। অনেক কষ্ট করে মন কে বুঝাইলাম মুখে কিছু বলি নাই।
তাও মন মানে না। পরে নামাজ শেষ করে আবার কয়েকবার মুখ হা করে জিহবা নাড়িয়ে বাজে কথা গুলা বলেছি মনে মনে। দেখতে সাউন্ড হয় কিনা। খেয়াল করলাম জাস্ট জিহবা নড়ে, অন্য কোনো সাউন্ড হয় নাই। এভাবে কয়েকবার ইসলাম নিয়ে বাজে কথা গুলা বললাম জিহবা নাড়ায়ে। শুধু চেক করার জন্য সাউন্ড হয় কিনা। আমার অনেক খারাপ লাগতেছে হুজুর।
১) এখন এগুলো কি বাজে কথা বলা ধরা হবে? বার বার চেক করার কারনে কি আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
২) আমার ঈমান আর বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?
হুজুর আমি রাতে এমনি নফল নামাজ পড়তেছিলাম। পড়ে আমার নামাজে হাই ঊঠছে, আমি মুখ হা করে হাই তুলতেছি নামাজেই। যখনই মুখ হা করলাম তখন ই আমার মনে মনে আল্লাহ কে নিয়ে বাজে কথা আসলো। আস্তাগফিরুল্লাহ। এখন আমার মনে হইতেছে মুখেই বলে ফেললাম কিনা। অনেক কষ্ট করে মন কে বুঝাইলাম মুখে কিছু বলি নাই।
তাও মন মানে না। পরে নামাজ শেষ করে আবার কয়েকবার মুখ হা করে জিহবা নাড়িয়ে বাজে কথা গুলা বলেছি মনে মনে। দেখতে সাউন্ড হয় কিনা। খেয়াল করলাম জাস্ট জিহবা নড়ে, অন্য কোনো সাউন্ড হয় নাই। এভাবে কয়েকবার ইসলাম নিয়ে বাজে কথা গুলা বললাম জিহবা নাড়ায়ে। শুধু চেক করার জন্য সাউন্ড হয় কিনা। আমার অনেক খারাপ লাগতেছে হুজুর।
১) এখন এগুলো কি বাজে কথা বলা ধরা হবে? বার বার চেক করার কারনে কি আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
২) আমার ঈমান আর বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?
Answer
উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমত, আপনার উদ্বেগ ও অনুতাপের ভাব দেখে বোঝা যায় আপনি একজন সৎ বিশ্বাসী। শয়তান প্রায়ই ইবাদতরত অবস্থায় এমন কুমন্ত্রণা দেয়। নিচে আপনার প্রশ্নের জবাব দেওয়া হলো—
প্রশ্ন ১: নামাজে হাই তোলার সময় মনে মনে খারাপ চিন্তা আসা এবং পরে জিহবা নাড়িয়ে চেক করা কি বাজে কথা বলা হিসেবে গণ্য হবে?
- উত্তর:
- নামাজে থাকাকালীন হাই তোলার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে খারাপ চিন্তা আসা (ওয়াসওয়াসা) গুনাহ নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তা উচ্চারিত হয় অথবা কাজে পরিণত হয়।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৫২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১২৭)
- মুখ না খুলে শুধু জিহবা নাড়ালে এবং কোনো শব্দ না বের হলে তা মৌখিক বক্তব্য গণ্য হবে না। ফিকাহবিদগণ বলেন, "কথা বলার জন্য জিহবার নড়াচড়ার সাথে শব্দ বের হওয়া শর্ত।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৫১; আল-হিদায়া, ১/৪৫)
- তবে আপনি বারবার জিহবা নাড়িয়ে চেক করেছেন, এটি ওয়াসওয়াসার প্ররোচনা। শয়তান এভাবে ভয় দেখায়। তাই এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন। চেক করার দরকার নেই, বরং কুচিন্তা আসলেই "আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং থুথু ফেলে দিন।
প্রশ্ন ২: ইমান ও বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে কি?
- উত্তর:
- ইমানের কোনো ক্ষতি হয়নি: আপনার ইমান ও ইসলাম অক্ষত আছে। ওয়াসওয়াসা বা অনিচ্ছাকৃত চিন্তার কারণে ঈমান নষ্ট হয় না। ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন, "ওয়াসওয়াসা ঈমানের ক্ষতি করে না, বরং শয়তান তা দ্বারা ঈমানদারকে কষ্ট দেয়।" (শরহু আকীদাহ তাহাবীয়া)
- বিবাহিত জীবন ঠিক আছে: আপনার বিবাহ বৈধ ও সঠিক রয়েছে। মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসলে বা মুখে কটু কথা অনিচ্ছায় বের হলে (যা আপনি বলেননি) বিবাহ ভঙ্গ হয় না। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন, "যদি কেউ মনে মনে কুফরী করে কিন্তু মুখে না বলে, তবে সে মুসলিমই থাকবে।" (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২/২৫০)
- তবে নিজেকে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে রাখুন। নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার পড়ুন। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সূরা নাস ও সূরা ফালাক পড়ুন।
উপসংহার:
- আপনার ওয়াসওয়াসার জন্য কোনো গুনাহ নেই, ঈমানেও সমস্যা হয়নি।
- বারবার জিহবা নাড়িয়ে চেক করার প্রয়োজন নেই—এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা।
- নামাজ শেষে "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
- আপনার বিবাহিত জীবন সম্পূর্ণ সঠিক আছে।
সাহায্যকারী গ্রন্থ:
- ফতোয়ায়ে উসমানী (১/২৩৪)
- ইমদাদুল ফতোয়া (৪/১২৫)
- রদ্দুল মুহতার (১/৪৫১-৪৫২)
- সহীহ বুখারী ও মুসলিমের উপরিউক্ত হাদীস
- আল-হিদায়া (১/৪৫)
আল্লাহ আপনাকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। আপনার তাওবা কবুল করুন।
(والله أعلم بالصواب)