বাবার দ্বিতীয় সংসার গোপন ছিলো, এখন আমি জেনেছি, আমার করণীয় কি?
Family Life · Hanafi
Question
তো এখন কিছুদিন আগে ওনার মেয়েটার একটা স্কুলের অফিশিয়াল কাগজ থেকে আমি জানতে পারি যে, সেখানে বাবার জায়গায় আমার আব্বার নাম লেখা৷ আর মায়ের জায়গায় ওই ভদ্রমহিলার নাম৷ আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার আব্বার এক শত্রু আমাকে মজা করে বলেছিল যে তোমার আব্বার তো আরো বউ বাচ্চা আছে৷ তোমরা তো কিছুই জানো না৷ কিন্তু আমি তখন বিশ্বাস করিনি৷ আমি ভেবেছি উনি শত্রুতা থেকে মিথ্যা কথা বলেছে৷ আমি আমার আব্বাকে অনেক ভালোবাসতাম। তাই আমি কথাটা আম্মাকেও বলিনি কখনো। কারণ মিথ্যা হলেও আম্মা যদি আব্বার সাথে ঝগড়া করে এই ভয়ে৷ আমার আম্মা খুবই ভালো মানুষ ছিলেন, অনেক আমলদার ছিলেন। সবদিক থেকে উনি আব্বার থেকে যোগ্যতায় অনেক বেশি ছিলেন। চেহারা, পড়াশোনা, ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, বংশ সবদিক থেকে এগিয়ে ছিলেন। আমার নানার সম্পত্তির ভাগও আম্মা চাননি কখনো৷ আব্বাও কখনো সম্পত্তি নিয়ে কথা বলেননি৷
আব্বা সবাইকে সাধ্যমতো সাহায্য করেন৷ সবার উপকার করেন৷ নিজে ধার করে হলেও মানুষকে হেল্প করবেন এমন মানুষ উনি৷ কিন্তু আমার আব্বার চরিত্র খুব একটা ভালো ছিল না। উনি সবসময় মহিলাদের সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যেতেন, ওনাদের সাথে হাসাহাসি করতেন৷ আমার আম্মার সাথে বিয়েটাও এক্সেডেন্টলি হয়েছে৷ আমার আম্মাকে ওনাকে বিয়ে করতে চাননি৷ কিন্তু বিয়েটা কোনোভাবে হয়েই যায়৷ বিয়ের পর আম্মা সবধরনের চেষ্টা করেছে ওনার চরিত্র ঠিক করতে, সংসারটা বাঁচাতে৷ কারণ আব্বার এক চরিত্র ছাড়া বাকি প্রায় সব দিকই ভালো৷ আমার আব্বা প্রায় অনেকবছর ধরে বেকার৷ সংসারে একদমই টাকা দেয়নি বললে চলে৷ হঠাৎ হঠাৎ টাকা দিত। আমার আম্মা কষ্ট করে সংসার চালাত। আব্বা যে কাজেই যায় শুধু লস খেত৷ কিন্তু আব্বা আমাদের সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতো। বাসায় খুব কম আসতো৷ অন্য জায়গায় ব্যবসা করতো৷ সেটাও লসের উপরে চলতো। বাসায় যখন আসতো তখন আম্মা কে কাজে টুকটাক সাহায্য করত, আম্মার সাথে বাবার আচরণ ভালোই ছিল৷ এখন জানি না এটা অভিনয় ছিল, নাকি মন থেকেই আমাদেরকে ভালোবাসতেন। আম্মা মারা যাওয়ার পরে আব্বা কান্নাও করেছেন৷ সত্যি মিথ্যা আল্লাহই ভালো জানেন৷
এখন বর্তমানে ফিরে আসি৷ এই ভদ্রমহিলা যে ওনার ২য় স্ত্রী এটা আমি কাগজ দেখেই বুঝে গেছি। উনি আমার দাদার বাড়ির আত্মীয়স্বজন সকলকে চিনেন। উনি সম্পূর্ণ অন্য জেলায় থাকেন৷ এরপরেও আমাদের সব আত্মীয়দের লেটেস্ট খবর উনি জানেন৷ যেগুলোর অনেক কিছু আমিও জানি না৷ আমি যখন জিজ্ঞস করলাম আপনি ওদের সবাইকে কিভাবে চিনেন? আপনি তো আমাদের গ্রামের না। উনি বলেন যে, এমনেই লতায় পাতায় আত্মীয় লাগি তাই চিনি৷ মানে উনি ডিরেক্ট মিথ্যা কথা বলে দিয়েছেন। ওনার স্বামীর কথা জিজ্ঞেস করলে উনি এড়িয়ে যান, বলেন অনেক কাহিনী থাক এসব৷ এখন আমি ধারণা করছি আমার আব্বার বাড়ির বেশিরভাগ আত্মীয়রাই জানেন যে উনি আমার বাবার ২য় স্ত্রী। কিন্তু ওনারা এতদিন আমার আম্মাকে কিছু বলেননি৷ আমার বাড়ির আত্মীয়দের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো না। কারণ ওনারা অনেক হিংসুক আর লোভী প্রকৃতির মানুষ। আমার আম্মার সাথেও তারা উপরে উপরে ভালো ব্যবহার করতো৷ আর পিছন দিয়ে তারা আমার মায়ের নামে গিবত করতো। আম্মা অনেক কিছু করেও ওনাদের মন পাননি৷ আম্মা মারা যাওয়ার পরে তারা আমাদের কোনো খবর নেননি৷ তাই আমিও রাগ করে কারো সাথে যোগাযোগ করিনা তেমন৷
আমি যে আব্বার দ্বিতীয় সংসার সম্পর্কে জেনে গেছি এটা আমি আব্বাকে বলিনি এখনো। বললে জানি না কি উত্তর পাব, কিভাবে রিয়েক্ট করবেন উনি৷ আমার ছোট বোন জানলে খুব কষ্ট পাবে। ওর আর পড়াশোনা হবে না৷ লোকে হাসাহাসি করবে৷ আমার হয়তো ভালো জায়গায় বিয়ে হবে না৷ আমি আমাদের দুই বোনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চুপ আছি। কিন্তু আব্বাকে মাফ করতে পারছি না৷
আব্বার ২য় পক্ষের মেয়েটার জন্য আমার খারাপ লাগছে। আব্বা হয়তো তাকে তেমন সময় দেননি৷ মেয়েটাকে খরচ দিত কিনা তাও জানি না৷ মেয়েটা জানে কিনা যে আমার আব্বাই তার বাবা এটাও আমি জানি না৷ মেয়েটা আমার আব্বাকে কিছুই বলে ডাকে না৷ আমাদের সাথেও কথাটথাও বলে না৷ অনেক চুপচাপ। কিন্তু ওনারা মা মেয়ে দুজনই ভদ্র মানুষ৷ এখন মনের খবর তো একমাত্র আল্লাহ জানেন।
এখন আমার কি করা উচিত?
১. ইসলাম মতে আব্বার এই আমাদের লুকিয়ে বিয়ে করা। আমার আম্মা মারা যেতেই তাদের এখানে অন্য পরিচয় দিয়ে নিয়ে আসা এগুলো কি সঠিক? এর জন্য কি ওনাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে না?
২. আমার আম্মাকে এত বছর ধরে ঠকানোর জন্য, আমি যদি আব্বার সাথে কথা না বলি, ওনাকে মাফ না করি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? আম্মা বেঁচে থাকলে ওনাকে কখনো মাফ করত কিনা আমি জানিনা৷ আব্বার সাথে এই নিয়ে রাগারাগি করলে কি আমার গুনাহ হবে?
৩. আব্বা বাসায় খুব কম খরচ দিতেন৷ আমরা অনেক কষ্টে, অবহেলায় বড় হয়েছি৷ আম্মা কখনো সুখ পাননি৷ এখন আব্বার টাকা হচ্ছে, আর ওনাদের নিয়ে এসেছে৷ আমার আম্মা যেটা পাননি, এখন তো ওনারা মা মেয়ে এসব পাবেন৷ এজন্য আমার রাগ, কষ্ট সব হচ্ছে৷
৪. আমার আত্মীয়রা সব জানা সত্ত্বেও যে আমাদের কিছু জানালো না, আব্বাকে এতদিন সাপোর্ট দিয়ে গেল, এজন্য যদি আত্মীয়দের সাথে আমি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেই তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? আমি কি জান্নাতে যাব না? আমার আত্মীয়রা আমাদের দুই বোনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, খোঁচা মারে৷ ওদের উপরেও আমার কষ্ট আছে অনেক৷
৫. ইসলামিক শরিয়ত মোতাবেক ভদ্রমহিলা আর ওনার মেয়ের সাথে আমার আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
৬. এখন আমি যদি এমন ভান করি যে আমি কিছুই জানি না৷ আর আব্বাকে বলি যে ওদেরকে আমার পছন্দ হচ্ছে না৷ ওদেরকে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য৷ তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উত্তর: আপনার দীর্ঘ ও জটিল বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। আপনার মনের কষ্ট, রাগ, এবং দ্বিধা-দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক। নিচে ইসলামী শরিয়তের আলোকে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো। আমরা হানাফি ফিকহের কিতাব (যেমন: ফাতাওয়া উসমানি, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, আল-হিদায়া, বাহিশ্তি জেওর) এবং কুরআন-হাদিসের আলোকে উত্তর দেব।
১. বাবার দ্বিতীয় বিয়ে লুকিয়ে রাখা ও মৃত্যুর পর তাদের নিয়ে আসা কি সঠিক?
উত্তর: ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে শর্ত হলো স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায্য আচরণ করা (সূরা নিসা, ৪:৩)। কিন্তু গোপন বিয়ে বা পরিবারের কাছ থেকে বিয়ে লুকিয়ে রাখা ইসলামে অনৈতিক। যদি আপনার বাবা আপনার আম্মার জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে সেটা গোপন রেখে প্রতারণা করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্রতারক আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১৮২)
আপনার আম্মা মারা যাওয়ার পর ভদ্রমহিলা ও তার মেয়েকে "গৃহকর্মী" বলে পরিচয় করে আনা প্রতারণারই অংশ। এটি জায়েজ নয়। ইসলামে বলা হয়েছে: "হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য কথা বলো।" (সূরা আল-আহযাব: ৭০)
সারমর্ম: বাবার কাজটি শরিয়তসম্মত নয়। তিনি এর জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবেন। তবে আপনি নিজে বিষয়টি জানার পর ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে সিদ্ধান্ত নিন।
২. বাবার সাথে কথা না বলা বা মাফ না করা কি গুনাহ?
উত্তর: ইসলামে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ফরজ। তবে তাদের অন্যায়ের কারণে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ নয়, যদি না তারা কুফরি বা শিরকিতে লিপ্ত হয়। আপনি যদি বাবার সাথে কথা না বলেন বা তাকে মাফ না করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য গুনাহ হবে। তবে তার অন্যায়ের জন্য তাকে চুপ করে থাকা বা মাফ না করলে আপনি গুনাহগার হবেন না; বরং আপনি তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেন, কিন্তু সেটা ভালো উপায়ে।
কুরআনে এসেছে: "যদি তারা (পিতামাতা) তোমার কাছে শিরক করার জন্য চাপ দেয়, তবে তাদের কথা মানবে না, কিন্তু তাদের সাথে দুনিয়ায় সদয় আচরণ করবে।" (সূরা লুকমান: ১৫)
গুরুত্বপূর্ণ: আপনি যদি রাগ করে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তাহলে তার অবাধ্যতার গুনাহ আপনার হবে। তবে আপনি তার অন্যায়ের জন্য তাকে দায়ী করতে পারেন এবং তাকে সরাসরি বলেন: "আমি আপনার কাজটাকে সঠিক মনে করি না।" কিন্তু তার প্রতি আপনার দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে।
৩. আপনার আম্মার প্রতি বাবার অবহেলা ও তার স্ত্রী-মেয়েকে সুযোগ দেওয়া – আপনার রাগ ও কষ্ট
উত্তর: আপনার আম্মার প্রতি বাবার অবহেলা এবং তার কষ্টের জীবন ছিল একটি বড় অন্যায়। আপনার রাগ ও কষ্ট স্বাভাবিক। ইসলামে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনার আম্মা যা পাননি, এখন সেটা অন্য নারী ও তার মেয়ে পাচ্ছে – এটি বিচারহীনতা। তবে আপনার কর্তব্য হলো বাবার ভুলগুলো তাকে বুঝানো এবং নিজের অধিকার আদায় করা।
এই সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে।" (সহিহ বুখারি: ১৩)
কিন্তু এখানে আপনি নিজের অধিকার (যেমন: খরচ, ভালোবাসা) থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই আপনি নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে পারেন এবং বাবাকে দায়িত্ব নিতে বলতে পারেন। রাগ করা জায়েজ, তবে তা অন্যায় পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়।
৪. আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা কি গুনাহ?
উত্তর: আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে ইসলামে মহাপাপ বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন: "রক্তসম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৪)
আপনার আত্মীয়রা যদি আপনার বাবার অন্যায়কে সমর্থন করে এবং আপনাদের প্রতি খারাপ ব্যবহার করে, তবুও আপনি তাদের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে পারবেন না। তবে তাদের খারাপ আচরণের কারণে আপনি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। কুরআনে এসেছে: "তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ।" (সূরা নিসা: ১)
আপনি তাদের সাথে কম কথা বলতে পারেন, তবে পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না। আপনার জন্য জান্নাতের পথ সহজ হবে না যদি আপনি রাগের কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
৫. ভদ্রমহিলা ও তার মেয়ের সাথে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: ইসলামে সৎমা ও তার সন্তানের সাথে ভালো আচরণ করতে বলা হয়েছে, কারণ তারা আপনার বাবার স্ত্রী ও সন্তান। যদিও তারা আপনাদের কষ্ট দিচ্ছে, তবুও আপনি তাদের সাথে ন্যায্য ও সদয় আচরণ করবেন। রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।" (সহিহ বুখারি: ৬০১৯)
তবে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার পর আপনি তাদের প্রতি সতর্ক থাকবেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন। আপনি তাদের সাথে শালীন আচরণ বজায় রাখুন, কিন্তু তাদের প্রতি আপনার পূর্ণ বিশ্বাস না করাই ভালো।
৬. ভান করা যে আপনি কিছু জানেন না এবং তাদের পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া – এটা কি গুনাহ?
উত্তর: মিথ্যা বলা বা ভান করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূল (সা.) বলেছেন: "সত্যবাদিতার পথ জান্নাতে নিয়ে যায়, আর মিথ্যার পথ জাহান্নামে নিয়ে যায়।" (সহিহ বুখারি: ৬০৯৪)
আপনি যদি ভান করেন যে আপনি কিছু জানেন না, কিন্তু আসলে জানেন, তাহলে এটি গুনাহ হবে। তবে আপনি বাবাকে সত্য বলার সময় এভাবে বলতে পারেন: "আমার পড়াশোনার জন্য বাড়িতে শান্তি দরকার। তারা থাকলে আমার মনোযোগ নষ্ট হয়।" – এটি নাজায়েজ নয়, কারণ এটি আপনার ভবিষ্যতের জন্য সরাসরি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
শরিয়তের বিকল্প: আপনি বাবাকে সরাসরি বলতে পারেন: "আমি জানি যে তারা আপনার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়ে। কিন্তু তাদের এখানে আনার আগে আমাদের জানাননি, এটা ঠিক হয়নি।" তারপর আপনি আপনার ছোট বোনের পড়াশোনার কথা উল্লেখ করে তাদের কিছুদিনের জন্য অন্য জায়গায় পাঠানোর অনুরোধ করতে পারেন।
আপনার জন্য সামগ্রিক পরামর্শ:
- বাবার সাথে কথা বলুন: তাকে সরাসরি জানান যে আপনি সত্য জানেন। তাকে বলুন যে তার কাজটি ন্যায়সঙ্গত নয় এবং তিনি আপনার আম্মার প্রতি অন্যায় করেছেন। তবে এটি করার সময় শালীন ভাষা ব্যবহার করুন।
- নিজের অধিকার আদায় করুন: আপনার বাবা যদি সম্পদশালী হন, তাহলে আপনার ও আপনার ছোট বোনের ভরণপোষণের দাবি করুন।
- আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক: তাদের সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করে, কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন।
- ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা: আপনার বিয়ের বিষয়ে আপনি যে শঙ্কিত – সেটা সঠিক। আপনি নিজের উপার্জনের জন্য চেষ্টা করুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন।
- দুআ করুন: আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন।
আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য ও প্রজ্ঞা দান করুন। (আমিন)