ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলা, খ্রিস্টানদের নাম ব্যবহার ও রিলেশনের পরিকল্পনা—এতে কি ঈমানে সমস্যা হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এতে কি তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
উত্তর
না, শুধু কথাটি বলার কারণে তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে না। তবে কথাটি বলা বা এমন পরিকল্পনা করা—উভয়ই গুনাহ ও অনুচিত; আর আপনার স্বামীর উচিত ছিল আপনার কথা মেনে নেওয়া এবং এ ধরনের পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকা।
ঈমানের মূল বিষয়
ঈমান হলো আল্লাহ তা‘আলার প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। (সূরা বাকারা: ১৭৭; সূরা নিসা: ১৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস ৮)
কোনো ব্যক্তি যদি নাম রাখা বা কথাবার্তার প্রসঙ্গে খ্রিস্টানদের নাম উল্লেখ করে, তাতে তার আকীদা-বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন হয় না—যতক্ষণ না সে খ্রিস্টান ধর্মকে সত্য বলে বিশ্বাস করে বা ইসলাম থেকে বিচ্যুত কোনো আকীদা পোষণ করে। সুতরাং শুধু "ডেভিড নামে অ্যাকাউন্ট খুলব" বলার কারণে ঈমান বাতিল হবে না।
তবে এটি গুনাহ ও অনুচিত
-
ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলা ও রিলেশন করা—এটি সুস্পষ্ট হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا»
"আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।" (সূরা ইসরা: ৩২)রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ»
"কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না, তবে তাদের তৃতীয়জন হবে শয়তান।" (সুনানে তিরমিজি: ১১৬৫; মুসনাদে আহমাদ)ডেটিং অ্যাপে অপরিচিত নারীর সাথে কথাবার্তা, সম্পর্ক স্থাপন—এসবই পরনারীর প্রতি দৃষ্টি ও কথাবার্তার হারামের অন্তর্ভুক্ত। (রাদ্দুল মুহতার, ৯/৫১৫-৫১৬; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৩৫)
-
খ্রিস্টানদের নাম ব্যবহার করা—এটি নিজে কুফর বা ঈমান বাতিলের কারণ নয়, তবে মুসলিম হিসেবে অমুসলিমদের নাম-পরিচয় গ্রহণ করা এবং বিশেষত মিথ্যা পরিচয় দিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া—এটি মিথ্যা ও প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সহীহ মুসলিম: ১০১)আর মিথ্যা বলা সম্পর্কে:
«إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ... وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ»
"নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা নেকির পথ দেখায়, আর নেকি জান্নাতের পথ দেখায়... আর নিশ্চয়ই মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়, আর পাপাচার জাহান্নামের পথ দেখায়।" (সহীহ বুখারি: ৬০৯৪; সহীহ মুসলিম: ২৬০৭)
আপনার স্বামীর প্রতিক্রিয়া
"এত দূরের কথা কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ" —এ কথা বলে সে বিষয়টিকে হালকা করেছে। কিন্তু আপনার সতর্কতা ও দ্বীনি দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক ছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বীনি বিষয়ে পরামর্শ ও সতর্কতা কাম্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ»
"আর তোমরা নেকি ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
করণীয়
১. আপনার স্বামীকে বুঝান যে ডেটিং অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলা ও রিলেশন করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম—এটি ঈমানের সমস্যা নয়, কিন্তু গুনাহ ও আল্লাহর নাফরমানি। ২. খ্রিস্টানদের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলুন। ৩. উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন এবং এ ধরনের পরিকল্পনা বর্জন করুন। ৪. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সুন্দর ও ইসলামসম্মত রাখার জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করুন।
মোটকথা: ঈমানের সমস্যা হবে না, কিন্তু এ ধরনের পরিকল্পনা ও কথাবার্তা গুনাহ—এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
والله أعلم بالصواب