স্বামীর ছোট ভাই তথা দেবরের সাথে জিনা হলে কি স্বামীর সাথে হালাল সম্পর্ক বহাল থাকে?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7974
Questioner: Sadia Sariva
Question Asked: 05 Nov 2026, 02:15 AM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 02:29 AM
Views: 13
Tokens: 2,818
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সামির ছোট ভাই দেবরের সাথে জিনা হলে কি সামির সাথে হালাল সম্পর্ক থাকে

Answer

সামির ছোট ভাই (দেবর) সাথে যিনা করলে সামির সাথে হালাল সম্পর্ক থাকে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব

আপনার জিজ্ঞাসিত মাসআলাটির ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:

দেবর (স্বামীর ছোট ভাই)-এর সাথে জিনা বা ব্যভিচার সংঘটিত হলে, তা একটি চরম জঘন্য ও নিকৃষ্টতম কবিরা গোনাহ হওয়া সত্ত্বেও, এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মূল বৈবাহিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয় না এবং স্বামীর সাথে স্ত্রীর বিবাহ ও হালাল সম্পর্ক সম্পূর্ণ বহাল থাকে।


২. ফিকহী ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্য বিশ্লেষণ:

১. হুরমতে মুসাহারাতের সুনির্দিষ্ট ফিকহী সীমানা: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সহবাস, স্পর্শ বা জিনার কারণে 'হুরমতে মুসাহারাত' (বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম হয়ে যাওয়া) কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় এবং স্ত্রীর বর্তমান বিবাহ ভেঙে যায়, যখন সেই কাজ স্বামীর উসূল (উর্ধ্বতন পুরুষ, যেমন: শ্বশুর, দাদা-শ্বশুর) অথবা স্বামীর ফুরূ (অধঃস্তন পুরুষ, যেমন: সতিন-পুত্র, নাতি) দ্বারা ঘটে থাকে।

২. দেবরের অবস্থান (হাওয়াশী/পার্শ্বীয় আত্মীয়): স্বামীর ছোট ভাই বা দেবর শরীআতের ফিকহী পরিভাষায় উসূল বা ফুরূ নন; বরং তিনি পার্শ্বীয় আত্মীয় (হাওয়াশী)। অতএব, দেবরের সাথে জিনা হলে তা পরকালের বিচারে অত্যন্ত জঘন্য ও মারাত্মক গোনাহ হলেও, এর দ্বারা স্ত্রী ও তার নিজ স্বামীর বিবাহে কোনো প্রকার হুরমতে মুসাহারাত বা বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা সৃষ্টি হয় না। ফলে স্বামীর সাথে স্ত্রীর দাম্পত্য ও হালাল সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বহাল থাকে।


৩. আবশ্যকীয় শরঈ দায়িত্ব ও তওবা:

১. খাঁটি তওবা ও ইস্তিগফার: এই নিকৃষ্টতম গোনাহের জন্য উভয়ের (দেবর ও ভাবী) উপর আল্লাহর দরবারে চরম অনুশোচনা ও কান্নাকাটি করে অবিলম্বেই খাঁটি তওবা (তওবায়ে নাসূহা) ও ইস্তিগফার করা ফরয। ২. দেবরের সাথে কঠোর পর্দা ও দূরত্ব বজায় রাখা: ইসলামী শরীআতে দেবরের সাথে পর্দার বিষয়ে চরম কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন:

«الْحَمْوُ الْمَوْتُ» (অর্থ: "দেবর হলো মৃত্যুর সমতুল্য।")।

অতএব, দেবরের সাথে ভবিষ্যতে কখনো একাকী নির্জনে অবস্থান (খলওয়াত) না করা, তার সামনে না যাওয়া এবং সম্পূর্ণ পৃথক ও কঠোর শরঈ পর্দা বজায় রেখে চলা ফরয ও আবশ্যক।


সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৩৮, ১৩৯ (অধ্যায়: 'হুরমাতে মুসাহারাতের পরিচিতি ও মানাত — বৈবাহিক সূত্রে উসূল ও ফুরূ হারাম হওয়ার ফিকহী সীমানা') ।
    • পৃষ্ঠা: ১৫১, ১৫২, ১৫৩ (অধ্যায়: 'মুসাহারাতের কারণে যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন হারাম — উসূল (শ্বশুর, দাদা-শ্বশুর) ও ফুরূ (পুত্র, নাতি) ব্যতিরেকে দেবরের মাধ্যমে হুরমত সাব্যস্ত না হওয়ার ফিকহী তফশীল')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ৩৭, ৩৮ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ৩য় পরিচ্ছেদ: মুহাররামাতের বিবরণ — 'নসব ও মুসাহারাতজনিত কারণে হারাম হওয়া আত্মীয়দের বিবরণ')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৭৬, ১৭৭ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'الحمو الموت: দেবরের সাথে পর্দার কঠোর বাধ্যবাধকতা এবং নির্জনবাসের নিষেধাজ্ঞা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১১২, ১১৫ (অধ্যায়: বাবুল হুদূদ, জিনা ও তওবার বয়ান — 'জিনার কারণে তওবা ও ইস্তিগফারের বাধ্যবাধকতা')।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.