ওয়াসওয়াসায় অনিচ্ছায় বা অসাবধানে মুখ ফসকে তালাকের শব্দ বের হলে তালাক হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanbali

Question No: 7895
Questioner: Sk Muslim
Question Asked: 03 Nov 2026, 09:29 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 10:30 PM
Views: 32
Tokens: 4,088
This answer is according to the 'Hanbali' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম , ওয়াসওয়াসা ব্যক্তি যদি নিছক মনে যদি স্ত্রী কে কাল্পনিক ভাবে উপস্থাপন করে অসাবধান বসত পরীক্ষাবসত সরীহ শব্দ বলে ফেলে তাহলে কী হবে?

যদি জিভের সাথে বাক্যের হারকত হয় কিন্তু শব্দ যদি একটু অস্পষ্ট ভাবে বের হয় তাহলে কী হবে !?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব

প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَتَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ»

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের (মনের) কথাগুলো ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা বলে বা তার উপর আমল করে।"

— সহীহ বুখারী ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম ১২৭

আরও এসেছে:

«لَا يُؤَاخَذُ الرَّجُلُ بِمَا يُوَسْوِسُ بِهِ فِي نَفْسِهِ حَتَّى يَتَكَلَّمَ بِهِ»

"মানুষ তার অন্তরের ওয়াসওয়াসার জন্য পাকড়াও হবে না, যতক্ষণ না সে তা মুখে উচ্চারণ করে।"

— সহীহ মুসলিম ১২৭ (ইমাম নববী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "যতক্ষণ না সে তা বলে" — অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে স্পষ্ট উচ্চারণ করে)

সুতরাং শুধু কল্পনা করা, মনে মনে স্ত্রীকে উপস্থাপন করা — এতে কোনো তালাক হয় না, কোনো কিছুই হয় না। এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা, যা ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) «إغاثة اللهفان» ও «الوسواس الخناس» গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন — ওয়াসওয়াসা দমন করতে হবে, তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।


এখন মূল প্রশ্ন: অসাবধানতাবশত মুখ থেকে "সরীহ শব্দ" (স্পষ্ট তালাকের শব্দ) বের হয়ে গেলে কী হবে?

এখানে দুটি অবস্থা আলাদা করতে হবে:

অবস্থা ১: নিছক মুখ ফসকে যাওয়া (سبق اللسان) — কোনো ইচ্ছা ছাড়া

যদি কেউ তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই, শুধু জিভ ফসকে বা ওয়াসওয়াসার চাপে অসতর্কতায় "তালাক" শব্দ উচ্চারণ করে ফেলে, তবে জমহূর ফুকাহা (হাম্বলী মাযহাবসহ) এবং ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর গবেষণামূলক মত অনুযায়ী:

এতে তালাক পতিত হবে না।

দলীল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»

"নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।"

— সহীহ বুখারী ১, সহীহ মুসলিম ১৯০৭

ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ «مجموع الفتاوى» (৩২/১৪৪ প্রভৃতি) ও ইবনুল কাইয়িম «إعلام الموقعين»-এ স্পষ্ট করেছেন: তালাক একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম (فعل اختياري); ভুলবশত, ভুলে বা বাধ্য হয়ে উচ্চারিত শব্দ তালাক হিসেবে গণ্য হয় না — কারণ আল্লাহ তা'আলা ভুল ও বিস্মৃতির উপর থেকে উম্মতকে ক্ষমা করেছেন (সূরা বাকারা ২৮৬; সহীহ ইবন মাজাহ ২০৪৩)। আর নবী ﷺ বলেছেন:

«رُفِعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ»

"আমার উম্মতের উপর থেকে ভুল, বিস্মৃতি ও জবরদস্তি ক্ষমা করা হয়েছে।"

— সহীহ ইবন মাজাহ ২০৪৩, সহীহ তিরমিযী ১৪২২ (শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন)

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) «الشرح الممتع» ও «فتاوى نور على الدرب»-এ একই মত দিয়েছেন: যে ব্যক্তি তালাকের ইচ্ছা ছাড়া শুধু জিভ ফসকে শব্দ বলে ফেলে, তার তালাক হয় না।

অবস্থা ২: ইচ্ছাকৃতভাবে স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ (সরীহ শব্দ)

তবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে "তুমি তালাক" বা "তালাক" জাতীয় সরীহ শব্দ বলে — তবে হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয় (কারণ সরীহ শব্দে নিয়তের প্রয়োজন নেই)। কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে "অসাবধানতায়" — সুতরাং এটি অবস্থা ১-এর অন্তর্ভুক্ত।


দ্বিতীয় প্রশ্ন: জিভের সাথে বাক্যের হারকত হয়, কিন্তু শব্দ অস্পষ্টভাবে বের হয় — কী হবে?

এখানে বিচার্য হলো: উচ্চারণটি কি তালাকের শব্দ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়, নাকি বোঝা যায় না?

  • যদি শব্দটি এতটাই অস্পষ্ট/বিকৃত হয় যে শ্রোতা বা নিজে নিশ্চিত হতে না পারে যে এটি "তালাক" শব্দই ছিল — তবে তালাক পতিত হবে না। কারণ তালাকের শব্দ (صيغة الطلاق) সুস্পষ্ট হতে হবে; সন্দেহ (شك) থাকলে মূল হলো তালাক হয়নি (الأصل بقاء النكاح)। ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়িম এই মূলনীতি বারবার উল্লেখ করেছেন: সন্দেহের কারণে তালাক প্রমাণিত হয় না।

  • যদি শব্দটি বিকৃত হলেও স্পষ্টভাবে "তালাক" অর্থে বোঝা যায় এবং ইচ্ছাকৃত হয় — তবে হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী সরীহ শব্দ হিসেবে তালাক পতিত হবে।

  • যদি ওয়াসওয়াসার কারণে অনিচ্ছায়, অর্থ না বুঝে বা জিভ ফসকে হয় — তবে তালাক হবে না (উপরের অবস্থা ১)।


ওয়াসওয়াসা রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

শাইখ ইবন উসাইমীন ও শাইখ ইবন বায (রহ.) ওয়াসওয়াসা রোগীদের জন্য বলেছেন:

  1. ওয়াসওয়াসাকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না — এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। যত বেশি ভাববেন, তত বাড়বে।
  2. মনে মনে তালাকের কল্পনা করা, "যদি এমন হয় তবে তালাক" জাতীয় চিন্তা করা — কিছুই হয় না। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেছেন: ওয়াসওয়াসা দিয়ে তালাক পতিত হয় না।
  3. নিশ্চিত না হলে তালাক হয়েছে বলে ধরে নেবেন না — মূল হলো বিবাহ বহাল আছে।
  4. "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ে চিন্তা বন্ধ করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।
  5. প্রয়োজনে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

সারসংক্ষেপ

| অবস্থা | বিধান | |---|---| | শুধু মনে মনে কল্পনা | কিছুই হয় না | | ওয়াসওয়াসায় অনিচ্ছায়/অসাবধানে জিভ ফসকে শব্দ | তালাক হয় না (ইবন তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়িম, ইবন উসাইমীন) | | শব্দ এত অস্পষ্ট যে নিশ্চিত হওয়া যায় না | তালাক হয় না (সন্দেহে তালাক প্রমাণিত হয় না) | | ইচ্ছাকৃতভাবে স্পষ্ট "তালাক" শব্দ | হাম্বলী মাযহাবে তালাক পতিত হয় |

আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আপনার জন্য দুআ করি — আল্লাহ আপনার ওয়াসওয়াসা দূর করুন এবং অন্তরকে প্রশান্ত করুন। আমীন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.