১ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রস্রাবের সময় ৩/৪ ফোটা রক্ত আসতেছে, সব সময় না, দিনে রাতে কয়েকবার করে মাঝে মাঝে আসছে, এটা কি হায়েয?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7961
Questioner: Papry Rahman
Question Asked: 04 Nov 2026, 10:34 PM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 06:27 AM
Views: 21
Tokens: 4,317
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি মুলত মাসিক বন্ধের ওষুধ খাচ্ছি আমার রোগ থেকে ভালো হতে,২ মাসের মত সময় ধরে মাসিক বন্ধ আছে,শেষ মাসিক হয়েছিল শুরু হয়েছিল১১-৯-২৬ তারিখ,কিছুদিন থেকে ১ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রস্রাবের সময় ৩/৪ ফোটা বেশি বা কম রক্ত আসতেছে, সব সময় না দিনে রাতে কয়েকবার করে মাঝে মাঝে আসে না রক্ত,এই অবস্থায় আমি কি নামাজ পরতে পারবো, স্বামীর সাথে সহবাস করতে পারবো,আমি আল্লাহর কাছে শিফা চাই আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি পেটের ব্যাথায়,সস্তি পাচ্ছি না, আমি আল্লাহ কে ডাকতে চাই

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব


১. সংক্ষিপ্ত মূলনীতি:

###হায়েয হওয়ার জন্য কি পরিমাণ রক্ত আসা জরুরী?

হায়েয হওয়ার জন্য রক্তের কোনো নির্দিষ্ট ওজন বা লিটার বা ফোটার শারীরিক পরিমাণ নির্ধারিত নয়; বরং শরীআতের বিচারে প্রধান মানদণ্ড হলো রক্তপ্রবাহের সময়সীমার পরিমাণ এবং প্রকাশ পাওয়া ।

ফিকহে হানাফী অনুযায়ী কোনো রক্তপ্রবাহ 'হায়েয' হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য তা জরায়ু থেকে নির্গত হয়ে যোনিপথের বাহ্যিক অংশে প্রকাশ পাওয়া এবং সর্বনিম্ন পূর্ণ ৩ দিন ও ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) সময়সীমা ব্যাপ্ত থাকা আবশ্যক।


২. বিস্তারিত ফিকহী শর্তাবলী (পরিমাণ ও সময়সীমার বিবরণ):

১. সর্বনিম্ন সময়সীমার পরিমাণ (আকাল্লু হায়েয):

  • হায়েয সাব্যস্ত হওয়ার জন্য রক্তপ্রবাহ কমপক্ষে ৩ দিন ও ৩ রাত (পূর্ণ ৭২ ঘণ্টা) স্থায়ী হওয়া শর্ত।
  • যদি ৩ দিন ৩ রাতের কম সময় (যেমন: কয়েক ফোঁটা, ১ দিন বা ২ দিন) রক্ত এসে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হায়েয গণ্য হবে না; বরং শরীআতের দৃষ্টিতে তা 'ইস্তিহাযা' (অসুস্থতাজনিত রক্তপাত) হিসেবে গণ্য হবে।

২. হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমার পরিমাণ:

  • হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১০ দিন ও ১০ রাত (পূর্ণ ২৪০ ঘণ্টা)।
  • ১০ দিন ১০ রাতের চেয়ে বেশি দিন রক্তপাত হলে ১০ দিনের অতিরিক্ত সময়টুকুর রক্ত ইস্তিহাযা হিসেবে ধর্তব্য হবে ।

৩. রক্ত বহিয়া বাইরে প্রকাশ পাওয়ার পরিমাণ:

  • রক্ত জরায়ু (গর্ভাশয়) থেকে নির্গত হয়ে যোনিপথের বাহ্যিক অংশ (ফরাজে খারেজ)-এ বের হয়ে আসা আবশ্যক।
  • যদি তুলা, টিস্যু বা নেকড়া ব্যবহার করা হয়, তবে তার বাহ্যিক অংশে রক্তের আভা বা চিহ্ন প্রকাশ পাওয়াটাই হায়েয সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

৪. প্রবাহের ধারাবাহিকতা (তখাল্লুল):

  • ৩ দিন ও ৩ রাতের পুরো সময় জুড়ে প্রতি মুহূর্তে বা প্রতি সেকেন্ডে অনবরত রক্ত পড়া বাধ্যতামূলক নয়।
  • ৩ দিন ৩ রাতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মাঝে মাঝে রক্ত আসা এবং মাঝে মাঝে বন্ধ থাকার সময়ের মোট সমষ্টি ৩ দিন পূর্ণ হলেই তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ): পৃষ্ঠা: ৮৪, ৮৫
  • **ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১/১১২)
  • **ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫/১৯৮)

আপনার প্রশ্নের উত্তর

আপনার ২ মাসের মত সময় ধরে মাসিক বন্ধ আছে। শেষ মাসিক হয়েছিল ১১-৯-২৬ তারিখ। এখন কিছুদিন থেকে অর্থ্যাৎ- ১ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রস্রাবের সময় ৩/৪ ফোটা রক্ত আসতেছে, সব সময় না, দিনে রাতে কয়েকবার করে মাঝে মাঝে আসছে, এটা হায়েযের রক্ত,এই অবস্থায় আপনি নামাজ পরতে পারবেন না। স্বামীর সাথে সহবাস করতে পারবেন না। যদি ১০ দিন অতিক্রম করে তাহলে আপনার পূর্বের আদত অভ্যাস যত দিনের ততদিন হায়েয। বাদবাকী ইস্তেহাযা। আর যদি ১০ দিনের ভিতর রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সবগুলো দিনই ইস্তেহাযা।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সম্পূর্ণ শিফা দান করুন এবং আপনার কষ্ট দূর করুন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.