Chokh er animation ki halal?
Business and Job · Hanafi
Question
Ami ekta productivity desk gadget banacchi, jar OLED screen-e shudhu 2 ta animated eyes thakbe. Eyes blink korbe and move korbe, kintu kono head, face outline, nose, mouth ba body thakbe na.
Eyes gulo shudhu Focus Mode on korle temporarily show korbe. Eta digital pet na, mainly ekta productivity timer.
Amar proshno:
1. Erokom shudhu 2 ta animated eyes dekhano ki Islam-e permissible?
2. Head/body na thaka ba temporarily show korar karone ki ruling change hobe?
3. Ei gadget ta manufacture kore sell kora ki halal hobe?
Ami Hanafi perspective theke answer ebong possible hole reference jante chai.
JazakAllahu Khairan.
Answer
ফতোয়া: চোখের অ্যানিমেশন (OLED স্ক্রিনে শুধু ২টি চোখ) — হানাফি দৃষ্টিকোণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
প্রাণী বা মানুষের চোখের অ্যানিমেশন (গতিশীল বা সজীব রূপ দান করা) সংক্রান্ত ফিকহী সিদ্ধান্ত হানাফী ফিকহ ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
সাধারণ অবস্থায় প্রাণী বা মানুষের চোখের অ্যানিমেশন করা (যেমন: চোখ পিটপিট করানো, চোখের মণি ঘোরানো বা চোখের ভাবভঙ্গি প্রকাশ করা) শরীআতের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ।
২. ফিকহী ব্যাখ্যা ও কারণসমূহ:
১. প্রাণীর ছবির সাধারণ নিষেধাজ্ঞা (تصوير ذي الروح): ইসলামী শরীআতে জীবন আছে এমন কোনো প্রাণীর (মানুষ, পশুপাখি ইত্যাদি) প্রতিকৃতি বা ছবি আঁকা এবং তা তৈরি করা সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ ও হারাম । হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ» (“নিশ্চয় যারা এসব ছবি বা প্রতিকৃতি তৈরি করে, কেয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং বলা হবে— তোমরা যা বানিয়েছ তাতে প্রাণ সঞ্চার করো”) ।
২. অ্যানিমেশন ও সজীবতার প্রকৃতি: অ্যানিমেশনের (Animation) মূল উদ্দেশ্যই হলো কোনো নির্জীব বা স্থির চিত্রকে 'গতিশীল' ও 'সজীব' রূপ দেওয়া। মুখমণ্ডল ও চোখ হলো প্রাণীর জীবনের মূল অভিব্যক্তি ও প্রাণের প্রফুটক অঙ্গ। চোখে পিটপিট তৈরি করা বা দৃষ্টির নাড়াচাড়া দেওয়া মানেই তাতে প্রাণীর জীবন ও সজীবতার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা, যা শরীআতে বর্ণিত আকৃতি দান (مصور) ও প্রাণ সৃষ্টির কৃত্রিম চেষ্টার অন্তর্ভুক্ত।
৩. অসম্পূর্ণ অঙ্গের ফিকহী সীমানা: ফিকহে হানাফীর মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো অসম্পূর্ণ ছবি যা দিয়ে একটি প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না (যেমন: হাত, পা বা বিচ্ছিন্ন কোনো বস্তু), তা আঁকার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা থাকলেও, চোখ ও চেহারার অংশ—বিশেষ করে যখন তাতে গতির সঞ্চার (অ্যানিমেশন) ঘটানো হয়—তখন তা প্রাণীর সজীবতার রূপ ধারণ করে। ফলে তা ছবির নিষিদ্ধতার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত থেকে যায়।
৩. বিশেষ ব্যতিক্রম (চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে):
তবে যদি বিনোদন, কার্টুন বা সাধারণ কন্টেন্ট তৈরিতে ব্যবহার না করে কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান শিক্ষা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো জটিল কৌশল বোঝানোর জন্য (যেমন: চোখের অ্যানাটমি বা মেডিকেল ইলাস্ট্রেশন) বাধ্যবাধকতামূলক প্রয়োজনে সাধারণ বৈজ্ঞানিক অ্যানিমেশন ব্যবহার করা হয়, তবে শরীআতের 'জরুরত' (বাধ্যবাধকতা) মূলনীতির অধীনে কেবল শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তা ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
-
দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৯৯, ৪০০ (অধ্যায়: টিভি দেখার শরঈ বিধান — প্রাণীর ছবি ও আকৃতিদানের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং হাদিসসমূহ)।
- পৃষ্ঠা: ৪৩২ (অধ্যায়: মোবাইল আদাব ও মাসাইল — প্রাণীর প্রতিকৃতি আঁকা ও মোবাইল ছবির ফিকহী হুকুম)।
- পৃষ্ঠা: ৪০৪, ৪০৫ (অধ্যায়: টিভি ও প্রচার মাধ্যম — প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যতিক্রমী সীমানা)।
-
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৬৯, ৩৭০, ৩৭২ (অধ্যায়: বাব আস-সূরাহ ওয়াল মালাহী — কিতাবুত তাসবীর, প্রাণীর ছবি ও প্রতিকৃতি তৈরির ফিকহী ফতোয়া) ।
-
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৫৯ (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ — ছবি আঁকা ও ব্যবহারের শরঈ সীমানা)।
আল্লাহ ভালো জানেন।