দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া হারাম বা খেলে রোগ হবে ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7805
Questioner: Taj
Question Asked: 02 Nov 2026, 03:48 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 07:10 PM
Views: 8
Tokens: 3,534
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার মা আমাকে দাঁড়িয়ে পানি খেতে দেখলে পাবলিক হোক বাসায় হোক অনেক রাগ করে ধমক দিয়ে বলতে থাকে দাঁড়ায় পানি খাচ্ছ কেনো , কঠিন রোগ হবে etc।
তো আসলেই কি হারাম দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া ? বা এতে কঠিন রোগ হয় এমন কিছু ইসলাম e বলা আছে কি?

Answer

দাঁড়িয়ে পানি পান করা: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

সংক্ষিপ্ত উত্তর

দাঁড়িয়ে পানি পান করা মাকরূহ। আর "দাঁড়িয়ে পানি খেলে কঠিন রোগ হবে" — এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য কুরআন-হাদীসে নেই। তবে কিছু হাদীসে দাঁড়িয়ে পান করার নিন্দা এসেছে, আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিছু গবেষণায় এর স্বাস্থ্যগত অসুবিধার কথা বলা হয়েছে।

মায়ের ধমক ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকেই ভিত্তিহীন নয়।


১. হাদীসের দলিল

(ক) নিষেধাজ্ঞার হাদীস

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا يَشْرَبَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ قَائِمًا» "তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে।" — সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০২৪; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬১৫ (আনাস রা. থেকে)

(খ) অনুমতির হাদীস

হযরত আলী (রা.) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তাঁরা দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন এবং বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও দাঁড়িয়ে পান করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৬১৬)

(গ) সমন্বয় (জমউ ও তাতবীক)

হানাফি ফকীহগণ দুই ধরনের হাদীসের সমন্বয় এভাবে করেছেন:

  • নিষেধাজ্ঞার হাদীসটি **মাকরুহ ** অর্থে প্রযোজ্য ।
  • অনুমতির হাদীসটি জাওয়ায (বৈধতা) প্রমাণ করে — অর্থাৎ এটি হারাম নয়।
  • ইমাম নববী (রহ.) ও অন্যান্য মুহাক্কিকীনও এ সমন্বয় করেছেন।

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব: দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ, তবে বসে পান করা সুন্নত। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, কিতাবুল আশরিবা; ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)


২. "কঠিন রোগ হবে" — ইসলামে কি বলা আছে?

না, কুরআন-হাদীসে "দাঁড়িয়ে পানি খেলে অমুক রোগ হবে" — এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য নেই। এটি মূলত চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচনা, ধর্মীয় বিধান নয়।

তবে কিছু হাদীসে দাঁড়িয়ে পান করার নিন্দার সাথে শয়তানের অংশীদার হওয়ার কথা এসেছে:

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ দাঁড়িয়ে পান করা নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, "যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পান করে, সে শয়তানের সাথে একই পাত্র থেকে পান করে।" (মুসনাদে আহমাদ; সুনানে তিরমিযী, হাদীস ১৮৮০ — তবে এ বর্ণনার সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মতভেদ আছে)

এছাড়া ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য কিতাবে "দাঁড়িয়ে পান করলে 'ক্বাত্বা' (এক ধরনের রোগ) হয়" — এমন একটি বর্ণনা আছে, তবে মুহাদ্দিসগণ এটিকে য'ঈফ (দুর্বল) বলেছেন। (য'ঈফাহ, আলবানী; তুহফাতুল আহওয়াযী)

সারকথা: "কঠিন রোগ হবে" — এটি হাদীসের দুর্বল বর্ণনা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচনা; ইসলামি আকীদার অংশ নয়। রোগ-শিফা আল্লাহর হাতে; পানাহারের পদ্ধতি রোগের সরাসরি কারণ নয়।


৩. মায়ের আচরণের বিধান

  • মা "হারাম" বলায় ভুল করছেন — কারণ এটি হারাম নয়, মাকরূহ।
  • তবে মায়ের উদ্দেশ্য সন্তানের কল্যাণ এবং তিনি একটি মুস্তাহাব-সন্নতের দিকে ডাকছেন — এ দিক থেকে তাঁর সন্তানকে বসে পান করার অভ্যাস করানো উত্তম।
  • সন্তানের কর্তব্য: মায়ের সাথে বিনয়ী আচরণ করা, তর্ক না করা। কুরআনে আছে: «وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا» — "তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)
  • মাকে ভদ্রভাবে বলতে পারেন: "আম্মু, এটা হারাম নয়, মাকরূহ; আমি ইনশাআল্লাহ বসে পান করার চেষ্টা করব।" — এতে মায়ের মনও রক্ষা হবে, দ্বীনও।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.