বিসিএস চাকরিতে যোগদানের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে টাকা খরচ করা কি জায়েজ?

Business and Job · Hanafi

Question No: 7777
Questioner: Nadim Rifad
Question Asked: 02 Nov 2026, 09:01 AM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 12:28 PM
Views: 17
Tokens: 3,879
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। আমি সম্প্রতি বিসিএস পরিক্ষায় প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা দিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।
এখন চাকরিতে জয়েন এর পূর্বে ভেরিফিকেশন হয়। তো আমার চাচারা আওয়ামী লীগ এর সাথে জড়িত ছিল। তো এ কারনে ভেরিফিকেশন এ সমস্যা হতে পারে। তো অনেক সময় কিছু টাকাপয়সা খরচ করলে মিটমাট করা সম্ভব হতে পারে।

তো ভেরিফিকেশন ঠিকঠাক হওয়ার সার্থে টাকা খরচ করা জায়েজ কিনা?

দ্রষ্টব্য; আমার চাকরিটাতে অলরেডি হয়ে গেছে। এখানে কারও হক নষ্ট হওয়ার চান্স নেই।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আলহামদুলিল্লাহ, বিসিএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।

আপনার পরিস্থিতি—অর্থাৎ নিজের মেধা ও যোগ্যতায় অর্জন করা সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরিটি অন্যায্য হয়রানি বা জুলুম থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে টাকা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:

নিজের সুনির্দিষ্ট ও প্রামাণ্য হক (অধিকার) উদ্ধার করতে কিংবা অন্যায্য হয়রানি, ক্ষতি ও জুলুম থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য (دفع الظلم والضرر) বাধ্য হয়ে টাকা প্রদান করা—টাকা প্রদানকারীর (মজলুমের) জন্য শরী'আতের দৃষ্টিতে জায়েয।

তবে যে কর্মকর্তা বা ব্যক্তি এই টাকা অন্যায়ভাবে দাবি করছে এবং গ্রহণ করছে, তার জন্য এই টাকা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গোনাহ।


২. ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:

১. ঘুষের সাধারণ মূলনীতি ও ব্যতিক্রম: ইসলামী ফিকহের সাধারণ নিয়ম হলো— «ما حرم أخذه حرم إعطاءه» (যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম)। কিন্তু ফুকাহায়ে কেরাম এই মূলনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম (استثناء) উল্লেখ করে কায়দা (মূলনীতি) নির্ধারণ করেছেন:

«الرشوة لخوف على ماله أو نفسه... أو لدفع الظلم عن نفسه وماله ولاستخراج حق له ليس برشوة في حق الدافع» "নিজের জান-মাল বা অধিকার বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়, কিংবা জুলুম প্রতিরোধ করতে এবং নিজের প্রাপ্য হক আদায় করতে টাকা প্রদান করা টাকা প্রদানকারীর (মজলুমের) জন্য ঘুষ হিসেবে গণ্য হবে না (অর্থাৎ জায়েয)"।

২. আপনার সুরতের ফিকহী বিশ্লেষণ:

  • কারো হক নষ্ট না হওয়া: আপনি মেধার ভিত্তিতে প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা পাশ করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং এই পদে আপনার অধিকার সাব্যস্ত হয়েছে এবং এতে অন্য কোনো প্রার্থীর হক হরণ করা হচ্ছে না।
  • জুলুম প্রতিরোধ: আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্যায্যভাবে আপনার ভেরিফিকেশনে ব্যাঘাত ঘটানো বা চাকরি আটকে দেওয়া একটি সুস্পষ্ট জুলুম।
  • অন্যায়ভাবে বাধার মুখোমুখি হওয়া: এই অন্যায্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং নিজের অর্জিত হকটি বহাল রাখতে যদি বাধ্য হয়ে কিছু টাকা খরচ করতে হয়, তবে টাকা প্রদানকারী হিসেবে আপনার ওপর কোনো গোনাহ হবে না।

৩. বিশেষ কিছু নির্দেশনা ও সতর্কতা:

১. প্রথমত নিয়মতান্ত্রিক চেষ্টা: প্রথমেই টাকার আশ্রয় না নিয়ে স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভেরিফিকেশন ক্লিয়ার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। ২. অপারগতার সীমা: যদি দেখা যায় যে টাকা না দিলে নিশ্চিতভাবে আপনার চাকরিটি আটকে যাবে বা অন্যায্য ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে, কেবল তখনই অন্তরে এই কাজটিকে অপছন্দ রেখে বাধ্যবাধকতার কারণে এই অর্থ প্রদান করতে পারবেন।


সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৩১৬ (অধ্যায়: 'হারাম অর্থ ও ঘুষের ব্যতিক্রমী মাসআলা' — আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৯১-এর উদ্ধৃতিতে নিজের হক আদায় ও জুলুম দূর করতে টাকা দেওয়ার জায়েয হওয়ার ফতোয়া)।
  • কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ):

    • পৃষ্ঠা: ৮৮ (কায়দা নং ২৪৪ — 'নিজের জান-মাল ও হক রক্ষার জন্য এবং জুলুম প্রতিহত করতে টাকা দেওয়া প্রদানকারীর জন্য জায়েয হওয়া সংক্রান্ত কায়দা'; রেদ্দুল মুহতার ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫২১ ও শারহুল হামাবী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৯১-এর উদ্ধৃতিতে)।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.