চাঁদপুরে কর্মরত ব্যক্তির ঢাকায় সাপ্তাহিক সফরে নামাজ কসর হবে না পূর্ণ?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7655
Questioner: MD. SADDAM HOSSAIN
Question Asked: 31 Oct 2026, 02:31 PM
Reviewed & Published: 31 Oct 2026, 03:10 PM
Views: 44
Tokens: 4,703
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। চাকরির কারনে আমাকে চাঁদপুরে থাকতে হয়। আমার শশুড় বাড়ী ঢাকায়। সেই কারনে প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার আমার ঢাকায় যাওয়া হয় এবং রবিবার আবার চাঁদপুর চলে আসি।
এখন ঢাকায় থাকা অবস্থায় আমি কি স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করবো নাকি আমার জন্য কসর আদায় করা উত্তম হবে?
জাযাকাল্লাহু খইরন

Answer

চাঁদপুরে কর্মরত ব্যক্তির ঢাকায় সাপ্তাহিক সফরে নামাজের হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার স্থায়ী বাড়ি চাঁদপুরে, চাকরির কারণে সেখানেই বসবাস। শ্বশুরবাড়ি ঢাকায়; প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার ঢাকায় যান এবং রবিবার চাঁদপুরে ফিরে আসেন। প্রশ্ন: ঢাকায় অবস্থানকালে আপনি পূর্ণ নামাজ পড়বেন নাকি কসর?

জবাবঃ- প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ঢাকায় আপনি কসর নামাজ আদায় করবেন।

আপনি ঢাকায় ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে গেলে সর্বাবস্থায় কসর করবেন।

অবস্থানকালে পূর্ণ (চার রাকআত) নামাজই আদায় করবেন; কসর করবেন না।** কারণ আপনার মূল বাসস্থান (ওয়াতান) চাঁদপুর, আর ঢাকা আপনার জন্য মুসাফিরের ওয়াতান নয় — বরং এটি আপনার শ্বশুরবাড়ি, যেখানে আপনি সফর হিসেবে যান। আর সফরকালে মুকীম হয়ে যাওয়ার (কসর ছেড়ে দেওয়ার) বিধান আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কিনা তা নিচে বিস্তারিত।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো — ঢাকায় পৌঁছে আপনি মুসাফির হিসেবে কসর পড়ার অধিকারী, যদি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত না করেন। কিন্তু যেহেতু আপনি প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং শ্বশুরবাড়ি আপনার দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেহেতু এখানে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী সতর্কতামূলক ও উত্তম পন্থা হলো পূর্ণ নামাজ আদায় করা — বিশেষত যখন আপনি নিয়মিত ও বারবার একই স্থানে যান এবং সেখানে আপনার জন্য থাকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে রয়েছে।

বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা

১. ওয়াতান (বাসস্থান)-এর প্রকারভেদ

হানাফি ফিকহে ওয়াতান তিন প্রকার:

  1. ওয়াতান আসলি (মূল বাসস্থান): যেখানে ব্যক্তির স্ত্রী-পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং সেখানে ফিরে যাওয়ার নিয়ত থাকে। আপনার ক্ষেত্রে চাঁদপুর।
  2. ওয়াতান ইকামাত (অস্থায়ী বসবাসস্থান): যেখানে ১৫ দিন বা বেশি থাকার নিয়ত করে বসবাস করা হয়।
  3. ওয়াতান সুকনা (সফরের স্থান): যেখানে সফরকালে অবস্থান করা হয়, ১৫ দিনের কম।

ঢাকা আপনার ওয়াতান আসলি নয় (কারণ আপনার স্ত্রী-পরিবার ও স্থায়ী ঠিকানা চাঁদপুর), এবং আপনি সেখানে ১৫ দিন থাকার নিয়তও করেন না — তাই ঢাকা আপনার জন্য ওয়াতান সুকনা বা সফরস্থল।

২. মুসাফিরের হুকুম ও কসরের শর্ত

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর যখন তোমরা জমিনে সফর করো, তখন তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই যে, নামাজ সংক্ষিপ্ত করবে..." (সূরা নিসা: ১০১)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"মুসাফিরের নামাজ দুই রাকআত, সে মুকীম হওয়ার আগ পর্যন্ত।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৮৯)

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কসরের শর্ত:

  • সফরের দূরত্ব কমপক্ষে তিন দিনের পথ (প্রায় ৭৭-৭৮ কিমি বা তার বেশি)।
  • ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত না করা।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.