তালাকের শর্তারোপ ও স্ত্রীর সাথে কথা বলার বিধান।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
একজন স্ত্রী তার স্বামীর সাথে বসে গল্প করছিলো,,, খুনশুটি করছিলো,,, তারপরে তাদের ডাক্তার দেখানোর কথা উঠে,, স্ত্রি তার সামিকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বলেছে,, তারপর আরও অনেক ভালো ভালো মোটিভেশনাল কথা হয় তাদের,, তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বল্লে সামি বলে আমার কোনো সমস্যা নেই,, ডায়বেটিস নেই,, মামাদের কত অসুখ তাও কিছু মনে করে না মেণ্টালি স্ট্রং থাকা লাগবে,,এর পরে স্ত্রী ওর কোলে বসেছিলো,, কথার মধ্যে সে বলেছে আমার কোনো সমস্যা নেই অসুখ হয়নি,, যে এব্যাপার এ কিছু বলবে তাকে তিন তালাক বা তালাক ,,,, স্ত্রী বলেছে কি বল্লেন আমি ত আর কিছু বলতে পারব না,, সে বলেছে আমি কি তোমাক বলেছি,, আমি বলেসি যে বলবে,,, তুমি বলতে পারবে অন্যভাবে,, স্ত্রী বলেছে আমি ত আর কিছু বলতে পারব না,,, সে বলেছে পারবে আমি ত তোমাকে কিছু বলিনি,,,স্ত্রী বলেছে আমি কিছু বলবো না আপনাকে এই বিষয় এ আমি রিপোর্ট টা আব্বুকে দেখাব,, আপনাকে আর কোনোদিন কিছু বলবো না,,, স্ত্রী মন খারাপ করলে সে বারবার বলছিল আমি তো তোমাকে কিছু বলিনি,,
তোমার আমার ভালোবাসা ঠিক থাকবে ইংশা আল্লাহ ,ইভেন সে এখনো তার স্ত্রীকে এটাই বলছে,,, আবার পরে এমনিতেই এটাও বলেছে সাবধান আমার ব্যাপারে বেশি কিছু বলো না ,, তারপরে মনখারাপ করে থাকলে তার স্ত্রিকে সে বলেছে বাসায় ফোন দাও দিয়ে ফতোয়া নাও তুমি ত ওয়াস ওয়াসার রুগি,, জানি এখন ভায়ের কাছে ফোন দিয়ে বলবে,,, সে বলেছে আমি জানি ভায়ের কাছে ফোন দিয়ে বলবে আমার সামি আমাকে তালাক দিয়েছে,, আলহামদুলিল্লাহ,,তার সামি তাকে কখন ও তালাক দেয়নি,,, তাহ্লে এখন প্রশ্ন তার স্ত্রী কি আর তার সামিকে কোনোদিন কিছু বলতে পারব না??? বল্লেই কি সমস্যা হবে??
আর একটা কথা তাদের মাঝে আলহামদুলিল্লাহ অনেক অনেক মিল,, আর এটা যদি শর্ত যুক্ত কিছু হয়ে থাকে তবে কি স্বামী সেটা উইথড্র করতে পারবে,, শর্তটি উঠিয়ে নিতে পারবে,,,
আর আরেকটা কথা তাদের এই কথাগুলোর মাঝে কোন রকমের রাগারাগি ঝগড়াঝাটি বা কথা কাটাকাটি কোন রকমের কিছু ছিল না আর তার নিয়ত ও ছিল না,,,, সে সবসময় এটাই বলছেন,, আসলে ও তার নিয়ত ছিল না আলহামদুলিল্লাহ
সে এটাও বলেছে যে আমি তোমাকে বলিনি,,
আমি যে বলবে বলিছি এটাত বলিনি যে তুমি বল্লে এমন টাইপের কিছু বলিনি,,
আর সে এটাও বলেছে এটা যদি শরত যুক্ত কিছু হয়,, আমি উঠিয়ে নিলাম
হুজুর প্লিজ দলিল সহ উত্তর দিয়েন,, আল্লাহ সকল মছিবত থেকে রক্ষা করুন ইংশা আল্লাহ
Answer
উত্তর
** উত্তর:** প্রশ্নে বর্ণিত কথাবার্তার দরুন স্ত্রী যদি পরবর্তীতে স্বামীকে এসব ডাক্তার দেখানোর বিষয় নিয়ে আবারও কোন কথা বলে, তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।
হ্যাঁ যদি স্বামী আসলেই এক্ষেত্রে অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়েই এ কথা বলার নিয়ত রাখে যে অন্যান্য ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে কিছু বললে সেক্ষেত্রে তালাক হবে,তার মধ্যে স্ত্রীর ব্যপারে সত্যিকার অর্থেই আলাদা নিয়ত করে, এমতাবস্থায় উক্ত কথার দরুন স্ত্রীর সাথে তালাকের কোন সম্পর্ক নেই।
এমতাবস্থায় স্ত্রী স্বাভাবিকভাবে স্বামীর সাথে কথা বলতে, পরামর্শ দিতে, ডাক্তার দেখানোর কথা বলতে পারবেন — এতে কোনো গুনাহ বা তালাকের আশঙ্কা নেই। বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরামর্শ ও সহানুভূতি ইসলামে প্রশংসনীয়।
দলিল: আল্লাহ তা‘আলা বলেন —
«وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ» — "তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন —
«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ» — "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।" (সুনানে তিরমিজি: ৩৮৯৫)
- ফাতাওয়া তালাক হানাফি
- স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ায় তালাক
- তালাকের শর্তযুক্ত বাক্য কি তালাক পতিত করে