অব্যাহত মূত্রক্ষরণ ও সার্বক্ষণিক নাক থেকে রক্তক্ষরণ রোগী একই কাপড়ে পাঁচ ওয়াক্ত বা ততোধিক নামাজ আদায় করতে পারবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7614
Questioner: mdmusfikur.rahman
Question Asked: 30 Oct 2026, 03:18 PM
Reviewed & Published: 30 Oct 2026, 03:32 PM
Views: 22
Tokens: 5,061
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অব্যাহত মূত্রক্ষরন ও সার্বক্ষণিক নাক থেকে রক্তক্ষরণ রোগী একই
কাপড় দিয়ে(ধৌত করা ছাড়া) পাঁচ ওয়াক্ত বা তার চেয়ে বেশি ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবে কিনা?
এমন ব্যক্তির ইমামতির বিধান তারাবি ও ফরজ নামাজ হোক

Answer

অব্যাহত মূত্রক্ষরণ ও সার্বক্ষণিক নাক থেকে রক্তক্ষরণ রোগীর একই কাপড়ে নামাজ ও ইমামতির বিধান

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

অব্যাহত মূত্রক্ষরণ ও সার্বক্ষণিক নাক থেকে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত রোগী ফিকহে হানাফীর পরিভাষায় 'মা'যূর' (معذور - ওজরবিশিষ্ট ব্যক্তি) হিসেবে গণ্য হন। এমন ব্যক্তির পরিধেয় কাপড়ের পবিত্রতা এবং ইমামতির শরঈ বিধান কিতাবের বিবরণসহ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ) নিচে তুলে ধরা হলো:


১. একই কাপড় দিয়ে (ধৌত করা ছাড়া) পাঁচ ওয়াক্ত বা তার চেয়ে বেশি ওয়াক্তের নামায আদায়ের বিধান:

উত্তর: মা'যূর ব্যক্তির কাপড়ে এক দিরহামের চেয়ে বেশি পরিমাণ রক্ত বা প্রস্রাব লেগে গেলে, তার কাপড়ের হুকুম দুটি সুরতে বিভক্ত:

১. যদি ধুয়ে পবিত্র হয়ে নামায পড়া পর্যন্ত সময় না পাওয়া যায়: যদি রোগীর অবস্থা এমন হয় যে, কাপড় ধৌত করে নামায পড়ে শেষ করার আগেই পুনরায় কাপড় নাপাক হয়ে যাবে (অর্থাৎ অনবরত নির্গত হতেই থাকে), তবে ধৌত করা ছাড়াই উক্ত কাপড়ে পাঁচ ওয়াক্ত বা তার চেয়ে বেশি ওয়াক্তের নামায আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েয। ২. যদি ধুয়ে পবিত্র কাপড়ে নামায শেষ করার সময় পাওয়া যায়: যদি ক্ষরণ মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে এবং কাপড় ধুয়ে বা পরিবর্তন করে পুরো নামাযটুকু পবিত্র কাপড়ে শেষ করা সম্ভব হয়, তবে সে ক্ষেত্রে এক দিরহামের বেশি নাপাকী থাকলে তা ধোয়া বা পরিবর্তন করা আবশ্যিক।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১২৩ (মাকতাবায়ে যাকারিয়া সংস্করণ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১) (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: 'নাজাসাত ও তার আহকাম / মা'যূরের কাপড়ের মাসায়েল')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৬ (অধ্যায়: 'অপারেশনের রোগী ও মা'যূরের পবিত্রতার বিধান')।

২. মা'যূর ব্যক্তির ইমামতির বিধান (তারাবীহ ও ফরয নামাযের ক্ষেত্রে):

উত্তর: সুস্থ (যাঁরা মা'যূর নন এমন) মুক্তাদীদের জন্য মা'যূর ব্যক্তির পেছনে ফরয বা তারাবীহ কোনো নামাযেই এক্তেদা করা বা নামায পড়া জায়েয নেই; অর্থাৎ মা'যূর ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিদের ইমামতি করতে পারবেন না।

শরঈ কারণ ও ফিকহী মূলনীতি: ফিকহে হানাফী অনুযায়ী, মা’যূর ব্যক্তির অযু ও পবিত্রতা হলো ওজরী বা ওযরের কারণে সংগৃহীত (দুর্বল), পক্ষান্তরে সুস্থ ব্যক্তির অযু ও পবিত্রতা হলো আসল ও শক্তিশালী। ফিকহের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো— দুর্বল পবিত্রতাধারীর পেছনে শক্তিশালী পবিত্রতাধারীর নামায সহীহ হয় না।

  • ব্যতিক্রম/জায়েয সুরত: যদি মুক্তাদীগণ সকলেই একই ওজরে মা'যূর হন, তবে মা'যূর ব্যক্তি অন্য মা'যূরদের ইমামতি করতে পারবেন। কিন্তু সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মা'যূর হাফেজ বা আলিম ব্যক্তির পেছনেও ফরয বা তারাবীহ নামায পড়া বা তাঁকে ইমাম বানানো নাজায়েয।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২২০–২২১ (অধ্যায়: সালাত, ৫ম পরিচ্ছেদ: 'ইমামতের বিবরণ — মা'যূর ও ওজরবিশিষ্ট ব্যক্তির ইমামতি সুস্থ ব্যক্তিদের পেছনে নাজায়েয হওয়ার মাসআলা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৫৫০ (অধ্যায়: 'বাব সালাতিল মারীয — মা'যূরের নামায ও ইমামতি')।
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৬৫ (অধ্যায়: 'ইমামতের শর্তাবলী — মা'যূরের ইমামতি')।

আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.