ব্যবসার জন্য টাকা বিনিয়োগ করে লাভের ৪৫% নেওয়া কি
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
আমি ক্রিপ্টো ট্রেডিং বাইনান্স ট্রেডিং ইত্যাদি সাইট এর ট্রেডিং এর সিগনাল কিনেছি প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে।
আপনারা আমার এখানে ট্রেডিং এ ইনভেস্ট করে ৩০% এক্সট্রা কমিশন নিতে পারবেন। মিনিমাম ইনভেস্ট ১ ডলার মেক্সিমাম ইনভেস্ট ১০ ডলার।💲
১০০ ইনভেস্ট করলে 145 টাকা
২০০ ইনভেস্ট করলে 290 টাকা
১০০০ ইনভেস্ট করলে 1450 টাকা
৩০০০ ইনভেস্ট করলে 4350 টাকা
এভাবে।১০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পরযন্ত যে কোন এমাউন্ট ইনভেস্ট করতে পারবেন।
নগদ বিকাশ এ সেন্ট মানি করে ইনভেস্ট করতে হয়।
পেমেন্ট পাবেন ৭২ ঘন্টা পর।
এখানে আমার লাভ হচ্ছে --
ইনভেস্ট নিয়ে ট্রেডিং সাইট এ আপনার টাকা টা ডিপোজিট করবো তারপর ওখান থেকে যে প্রফিট আসবে ওই প্রফিট এর কিছু অংশ আমি রাখবো আর বাকি ৪৫% আপনাকে দিবো। এটাই হচ্ছে আমার লাভ, আর এর সাথে অনেকে ইনভেস্ট করবে পাশাপাশি আমার একটা বড় প্লাটফর্ম হবে এবং সেখান থেকে অনেক কমিশন পাবো, ৩০০/৪০০ জন ইনভেস্ট করলে দেখা যাবে জন প্রতি আমি ৫০ টাকা প্রফিট রাখলেও আমার দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ইনকাম থাকবে। তো এই কারণ এই এভাবে প্লাটফর্ম বানানো এবং আপনাদের প্রফিট দেওয়া।
এখানে রেফার সিস্টেম আছে,,
আপনার মাধ্যমে আপনার পরিচিত কেও যদি গ্রুপে জয়েন হয়ে ইনভেস্ট করে তাহলে তার ইনভেস্ট এর টাকার ১০% টাকা আপনি পাবেন যেইদিন সে ইনভেস্ট করবে সেইদিন ই।
যেমন আপনার মাধ্যমে কেও ১০০০ ইনভেস্ট করলে ১০০ টাকা পাবেন।
৫০০ করলে ৫০ টাকা
৩০০০ করলে ৩০০ টাকা।
এবং সে মেম্বার এর পর থেকে যতবার ইনভেস্ট করবে ততবার আপনি ৫% করে কমিশন পেতেই থাকবেন। ✅
তবে শুধু পরিচিত দের রেফার করতে পারবেন অপরিচিত বা ফেসবুক গ্রুপে কাজ নিয়ে পোস্ট করে মেম্বার আনলে ৫০০ টাকা জরিমানা হবে
এগুলা কাজ উনি করেন
।আমি একজন ব্যক্তিকে কিছু টাকা দিতে চাই। সে আমার টাকা কাজে লাগাবে এবং ৩–৪ দিন পর সেই টাকা থেকে যতটুকু প্রকৃত লাভ হবে, তার ৪৫% আমাকে দেবে। তবে সে ঠিক কী কাজে বা কীভাবে টাকাটি ব্যবহার করবে, তা আমি জানি না। এভাবে লাভের অংশ নেওয়া কি ইসলামের শরিয়ত অনুযায়ী জায়েজ ও হালাল হবে? টাকা দেওয়ার আগে আমার কী কী বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি?
Answer
ট্রেডিং/ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট স্কিমে লাভের ৪৫% নেওয়া এবং টাকা বিনিয়োগের শরয়ী বিধান
সংক্ষিপ্ত উত্তর (খুলাসা)
প্রশ্নে বর্ণিত পুরো স্কিমটি শরীয়তসম্মত নয়; এতে অংশ নেওয়া, টাকা বিনিয়োগ করা এবং লাভের ৪৫% নেওয়া—কোনোটিই জায়েজ ও হালাল নয়। কারণগুলো নিম্নরূপ:
- ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বাইন্যান্স-জাতীয় ট্রেডিং নিজেই শরীয়তসম্মত নয় (অধিকাংশ ফকীহ ও মুফতি তাই বলেছেন; এতে গারার, জুয়া ও সুদ-সদৃশ উপাদান রয়েছে)।
- টাকা দেওয়া-নেওয়ার চুক্তিটি মুযারাবা (মুদারাবা) বা শিরকাতের শরীয়তসম্মত শর্ত পূরণ করে না—কারণ মুনাফার হার (৪৫%) আগেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যা মুযারাবায় নিষিদ্ধ; মুযারাবায় লাভের অনুপাত (শতকরা) নির্ধারিত হয়, কিন্তু এখানে মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা ও নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে "প্রফিট" দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে—এটি সুদি লেনদেনের (قرض بشرط النفع) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
- রেফারেল কমিশন (১০% ও পরবর্তীতে ৫%)—এটি মূলত "লিংক-বেজড ইনকাম" বা পিরামিড-সদৃশ ব্যবস্থা; এতে নতুন সদস্য আনার বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জুয়া/গারার ও অজ্ঞাত (মাজহুল) চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া এবং সে কীভাবে ব্যবহার করবে তা না জানা—এটি আমানতদারিতে বিশ্বাসঘাতকতা ও গারার (অনিশ্চয়তা) সৃষ্টি করে; শরীয়তে এমন চুক্তি করা যায় না যেখানে ব্যবহারের পদ্ধতি অজ্ঞাত।
- "৩০% এক্সট্রা কমিশন" ও নির্দিষ্ট হারে রিটার্নের প্রতিশ্রুতি—এটি সুদি লেনদেনের (قرض) শর্তযুক্ত নফ্আ (সুবিধা) হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ।
বিস্তারিত ফিকহী আলোচনা
১. ক্রিপ্টো ট্রেডিং ও বাইন্যান্স-জাতীয় ট্রেডিংয়ের হুকুম
বর্তমান যুগের অধিকাংশ হানাফী মুফতি ও ফকীহ (যেমন মুফতি তাকী উসমানী, মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ., দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ) বলেছেন:
- ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ইত্যাদি) শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো প্রমাণিত মাল (مال متقوم) নয়; এগুলোতে কোনো বাস্তব সম্পদ বা দায়বদ্ধতা নেই, বরং এগুলো মূলত অনিশ্চিত ডিজিটাল টোকেন। তাই এগুলো ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিয়োগ শরীয়তসম্মত নয়।
- ফরেক্স/বাইন্যান্স ফিউচার/মার্জিন ট্রেডিং—এতে সুদ, গারার ও জুয়ার উপাদান রয়েছে; বিশেষত লিভারেজ ও ফিউচার কন্ট্রাক্ট সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
- সিগন্যাল কেনা-বেচা—এটি মূলত অজ্ঞাত (মাজহুল) ও অনিশ্চিত তথ্য বিক্রি; শরীয়তে এ ধরনের "মালিকানাহীন তথ্য" বিক্রয় জায়েজ নয়।
ফতোয়া: "ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফিউচার/মার্জিন ট্রেডিং নাজায়েজ; এতে বিনিয়োগ করা ও লাভ নেওয়া হালাল নয়।" — (দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া নং ৪২৮৭৯, ৪৩১০৫; ফতোয়া উসমানী, খণ্ড ৩, পৃ. ৬২৩-৬২৫; ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৮৫)
২. মুযারাবা (মুদারাবা) চুক্তির শরীয়তসম্মত শর্ত
আপনার বর্ণিত চুক্তিটি যদি "মুযারাবা" হিসেবে করা হয়, তবে নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
| শর্ত | আপনার স্কিমে অবস্থা | |---|---| | মূলধন নগদ ও নির্দিষ্ট হতে হবে | ✔️ আছে | | ব্যবসার ধরন স্পষ্ট হতে হবে | ❌ নেই (আপনি জানেন না কী কাজে ব্যবহার হবে) | | লাভের অনুপাত (শতকরা) নির্ধারিত হবে, কিন্তু নির্দিষ্ট টাকার প্রতিশ্রুতি নয় | ❌ ৪৫% নির্দিষ্ট করা আছে, যা মুযারাবায় নিষিদ্ধ নয়—তবে "১০০ দিলে ১৪৫ টাকা" এভাবে নির্দিষ্ট রিটার্ন দেওয়া সুদি | | ক্ষতির দায় মূলধনদাতার, মুদারিবের নয় (মুদারিব শুধু শ্রম হারাবে) | ❌ এখানে মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে | | মুদারিবকে বিনিয়োগের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে, তবে শরীয়তসম্মত কাজে | ❌ ক্রিপ্টো/ফিউচার নাজায়েজ | | চুক্তি স্পষ্ট ও লিখিত হবে | ❌ নেই |
ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ বলেন:
"المضاربة جائزة بشرط أن يكون الربح معلوماً بالجزء المشاع، لا بمبلغ مقطوع"
"মুযারাবা জায়েজ, শর্ত হলো লাভের অংশ নির্দিষ্ট অনুপাতে (শতকরা) হবে, নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণে নয়।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৮৫)
আপনার স্কিমে "১০০ দিলে ১৪৫ টাকা" এভাবে নির্দিষ্ট রিটার্ন দেওয়া হচ্ছে—এটি মুযারাবা নয়, বরং قرض بشرط النفع (শর্তযুক্ত সুদি ঋণ) বা جعالة-এর অপব্যবহার, যা নাজায়েজ।
৩. রেফারেল কমিশন (১০% ও ৫%)
শরীয়তে "রেফারেল" বা "রেফারাল বোনাস" তখনই জায়েজ, যখন তা কোনো বৈধ বিক্রয় বা বৈধ চুক্তির সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং কমিশনটি বৈধ মুনাফা থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনার স্কিমে:
- নতুন সদস্য আনার বিনিময়ে কমিশন দেওয়া হচ্ছে—এটি পিরামিড স্কিম বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এর অন্তর্ভুক্ত, যা অনেক ক্ষেত্রে জুয়া ও গারারের শামিল।
- "অপরিচিত বা ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করলে ৫০০ টাকা জরিমানা"—এটি শরীয়তে বৈধ শর্ত নয়; এ ধরনের জরিমানা (غرامة) শরীয়তে স্বীকৃত নয়, বরং তা নিজেদের বানানো নিয়ম।
ফতোয়া আলমগীরী-তে আছে:
"كل شرط ليس في كتاب الله فهو باطل"
"যে শর্ত কিতাবুল্লাহে নেই, তা বাতিল।" — (ফতোয়া আলমগীরী, খণ্ড ৩, পৃ. ৩৩৫)
৪. অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া ও ব্যবহারের পদ্ধতি না জানা
শরীয়তে টাকা আমানত বা বিনিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে:
- টাকা কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার হবে—তা স্পষ্ট জানতে হবে; অজ্ঞাত (مجهول) ব্যবহারে চুক্তি বাতিল।
- ব্যবসাটি শরীয়তসম্মত কি না—হারাম কাজে (ক্রিপ্টো, ফিউচার, সুদি লেনদেন) ব্যবহার হলে বিনিয়োগকারীও গুনাহগার হবে।
- চুক্তি লিখিত ও সাক্ষীসহ হতে হবে—কুরআনে বলা হয়েছে:
"وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ"
"তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখো।" — (সূরা বাকারা: ২৮২) - লাভের অনুপাত শতকরা হিসেবে নির্ধারিত হবে, নির্দিষ্ট টাকায় নয়।
- ক্ষতির দায় মূলধনদাতার উপর থাকবে—মুদারিব শুধু শ্রম হারাবে; মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।
- মেয়াদ ও পেমেন্টের শর্ত স্পষ্ট হবে—কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না।
বিশেষ সতর্কতা: আপনার বর্ণিত স্কিমটি সম্ভবত "পোনজি/পিরামিড স্কিম"
আপনার বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে:
- নতুন সদস্যের টাকা দিয়ে পুরনো সদস্যদের "প্রফিট" দেওয়া হচ্ছে (এটি পোনজি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য)।
- "৩০% এক্সট্রা কমিশন" ও "১০০ দিলে ১৪৫ টাকা" এভাবে নির্দিষ্ট রিটার্নের প্রতিশ্রুতি—এটি বাস্তব ট্রেডিং লাভের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- রেফারেল কমিশন নতুন সদস্য আনার উপর নির্ভরশীল।
এ ধরনের স্কিমে অংশ নেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে জুয়া ও গারারের শামিল; উপরন্তু এটি সাধারণত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের কারণ হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا"
"যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" — (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১)
করণীয়
- এই স্কিমে টাকা বিনিয়োগ করবেন না—এটি শরীয়তসম্মত নয় এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
- ক্রিপ্টো/ফিউচার/মার্জিন ট্রেডিং থেকে বিরত থাকুন—এগুলো নাজায়েজ।
- হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন—যেমন: হালাল পণ্যের ব্যবসা, কৃষি, রিয়েল এস্টেট (শরীয়তসম্মত শর্তে), বা মুযারাবা/শিরকাতের শরীয়তসম্মত চুক্তিতে।
- মুযারাবা করতে চাইলে—লিখিত চুক্তি করুন, ব্যবসার ধরন স্পষ্ট করুন, লাভের অনুপাত শতকরা হিসেবে নির্ধারণ করুন, ক্ষতির দায় মূলধনদাতার উপর রাখুন, এবং শরীয়তসম্মত ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন।
- সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে পরামর্শ করুন।
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | হুকুম | |---|---| | ক্রিপ্টো/বাইন্যান্স ট্রেডিং | নাজায়েজ | | সিগন্যাল কেনা | নাজায়েজ | | ৪৫% লাভের চুক্তি (নির্দিষ্ট রিটার্নসহ) | নাজায়েজ (সুদি/গারার) | | রেফারেল কমিশন (১০%/৫%) | নাজায়েজ (পিরামিড-সদৃশ) | | অজ্ঞাত ব্যবহারে টাকা দেওয়া | নাজায়েজ (গারার) | | "১০০ দিলে ১৪৫ টাকা" প্রতিশ্রুতি | নাজায়েজ (সুদ) |
উপরোক্ত সব কারণে এই স্কিমে অংশ নেওয়া, টাকা বিনিয়োগ করা এবং লাভের ৪৫% নেওয়া—কোনোটিই শরীয়ত অনুযায়ী জায়েজ ও হালাল নয়।
আরবি ফতোয়া টেক্সট (সংক্ষিপ্ত)
السؤال: ما حكم الاستثمار في منصات التداول بالعملات الرقمية كالبينانس، وأخذ ٤٥٪ من الربح مقابل دفع المال لشخص يتاجر به دون علم بطريقة استخدامه؟
الجواب: الحمد لله. لا يجوز الاستثمار في العملات الرقمية والتداول بالهامش والعقود الآجلة؛ لما فيها من الغرر والربا والميسر. ولا يصح عقد المضاربة إلا إذا كان الربح معلوماً بالجزء المشاع، وكان العمل معلوماً ومشروعاً، والخسارة على رب المال. وأما تحديد ربح مقطوع كقولهم: "من دفع ١٠٠ يأخذ ١٤٥" فهو قرض بشرط النفع، وهو ربا. وكذلك نظام الإحالة (الريفيرال) على ضم أعضاء جدد يشبه الميسر والغرر. فلا يحل المشاركة في هذا المخطط ولا أخذ الربح منه. وعلى المسلم أن يستثمر في الأعمال المباحة بعقود شرعية واضحة. والله أعلم.