কমলা রঙের স্রাব কি হায়েজ না ইস্তিহাযা? তিনদিন রক্তস্রাব যাওয়ার পর স্বচ্ছ স্রাব যাওয়ার পর আবার কমলা রঙের স্রাব গেলে করণীয় কি?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 7566
Questioner: Kazi Shaima Akter
Question Asked: 29 Oct 2026, 05:39 PM
Reviewed & Published: 29 Oct 2026, 06:45 PM
Views: 50
Tokens: 5,093
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আগের পিরিয়ড শেষ হওয়ার ১৫–১৬তম দিনে রঙিন স্রাব দেখা যায়। এরপর টানা তিন দিন তিন রাত রঙিন স্রাব থাকায় নামাজ বন্ধ রাখি। পরে স্বচ্ছ স্রাব দেখতে পাই। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। এ সময় তিন ওয়াক্ত পর্যন্ত স্বচ্ছ স্রাবই দেখতে পাই। এরপরও আরও চার থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকি। পরে ফরজ গোসল করে নামাজ শুরু করি। কিন্তু এখন আবার স্বচ্ছ স্রাবের মধ্যে অল্প পরিমাণ কমলা রঙের স্রাব দেখতে পাচ্ছি।

আমার প্রশ্ন: এই কমলা স্রাব কি হায়েজ, নাকি ইস্তিহাযা? এখন কি আবার নামাজ বন্ধ রাখব, নাকি নামাজ পড়ব? আমাকে কি নতুন করে তিন দিন তিন রাত অপেক্ষা করতে হবে?

Answer

ইস্তিহাযা না হায়েজ? — কমলা রঙের স্রাবের হুকুম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার জিজ্ঞাসিত মাসআলাটি হায়েজ (ঋতুস্রাব) ও ইস্তিহাযার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শরঈ বিধান। আপনার প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট উত্তরসমূহ নিচে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো:


প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর:

১. কমলা রঙের স্রাবটি কি হায়েজ নাকি ইস্তিহাযা? উত্তর: এই কমলা রঙের স্রাবটি হায়েজ (মাসিক/ঋতুস্রাব), এটি ইস্তিহাযা নয়।

২. এখন কি আবার নামাজ বন্ধ রাখবেন নাকি নামাজ পড়বেন? উত্তর: এখন আপনাকে পুনরায় নামাজ পড়া বন্ধ রাখতে হবে (যতক্ষণ না স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বা শুরুর দিন থেকে মোট ১০ দিন পূর্ণ হয়)।

৩. আপনাকে কি নতুন করে আবার ৩ দিন ৩ রাত অপেক্ষা করতে হবে? উত্তর: না, নতুন করে ৩ দিন ৩ রাত অপেক্ষা করতে হবে না।


ফিকহী কারণ ও সহজ ব্যাখ্যা:

১. পূর্ববর্তী পবিত্রতার মেয়াদ (তুহুর): আগের পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর আপনি ১৫–১৬ দিন সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন। ফিকহে হানাফী অনুযায়ী দুই হায়েজের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন পবিত্রতার মেয়াদ হলো ১৫ দিন। যেহেতু ১৫ দিন অতিবাহিত হয়েছে, তাই পরবর্তীতে নির্গত রক্ত বা রঙিন স্রাব নতুন হায়েজ হিসেবে গণ্য হওয়ার শরঈ শর্ত পূর্ণ হয়েছে।

২. কমলা রঙের শরঈ হুকুম: হায়েজের রক্ত কেবল গাঢ় লাল বা কালো হওয়া জরুরি নয়। ফিকহে হানাফীর প্রামাণ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—লাল, হলুদ, কমলা (লাল-হলুদের মিশ্রণ), ঘোলা বা মাটি রঙের স্রাবও হায়েজের সময়সীমার ভেতরে নির্গত হলে তা হায়েজের রক্ত হিসেবেই গণ্য হয়।

৩. ১০ দিনের ভেতর পুনরায় রঙিন স্রাব আসা (ত্বহরে মুতাখাল্লিল): হায়েজের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)।

  • আপনি শুরুর দিকেই টানা ৩ দিন ৩ রাত রঙিন স্রাব দেখে হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদী শর্ত পূর্ণ করে ফেলেছেন।
  • এরপর মাঝে কিছুদিন স্বচ্ছ স্রাব দেখা গেলেও, প্রথম রঙিন স্রাব শুরু হওয়ার দিন থেকে হিসাব করলে এখনও ১০ দিন অতিক্রম করেনি (বর্তমানে আপনার হিসাব অনুযায়ী সম্ভবত ৫ম বা ৬ষ্ঠ দিন চলছে)।
  • ১০ দিনের ভেতরে মাঝে কয়েক ওয়াক্ত বা দিন রক্ত/রঙিন স্রাব বন্ধ থেকে আবার রঙিন বা কমলা স্রাব দেখা দিলে, হানাফী ফিকহের গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম দিন থেকে শুরু করে এই পুরো সময়টাই (মাঝের স্বচ্ছ স্রাবের সময় সহ) হায়েজের অন্তর্ভূক্ত গণ্য হবে।

৪. নতুন করে ৩ দিন অপেক্ষা না করার কারণ: হায়েজ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) রক্ত থাকা শর্ত ছিল, যা আপনি এই পিরিয়ডের শুরুতেই পূর্ণ করে ফেলেছেন। তাই এখন ১০ দিনের সীমানার ভেতর যেকোনো সময় কমলা বা রঙিন স্রাব দেখা গেলেই তা হায়েজ থাকবে; এর জন্য নতুন করে আবার ৩ দিন গণনার কোনো প্রয়োজন নেই।

৫. অতিরিক্ত ৪–৫ ওয়াক্তের নামাজের ক্বাযা সংক্রান্ত বিধান: স্বচ্ছ স্রাব দেখার পর আপনি সতর্কতামূলকভাবে যে অতিরিক্ত ৪–৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া থেকে বিরত ছিলেন, সেগুলোর ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কারণ পরবর্তীতে পুনরায় কমলা স্রাব আসার কারণে প্রমাণিত হয়েছে যে উক্ত সময়টুকুও হায়েজের নির্ধারিত ১০ দিনের ভেতরেই ছিল।


বর্তমান করণীয়:

  • এখন নামাজ পড়া স্থগিত রাখুন।
  • যখন স্রাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে কেবল সাদা বা স্বচ্ছ দেখা যাবে, অথবা শুরুর দিন থেকে হিসাব করে মোট ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হয়ে যাবে—তখন ফরয গোসল আদায় করে নামাজ শুরু করবেন। (যদি ১০ দিন অতিক্রম করার পরও রক্ত/কমলা স্রাব আসতে থাকে, তাহলে তখন আপনি পূর্বের আদত বা অভ্যাস যতদিনের ততদিন হায়েয এবং অতিরিক্ত দিন ইস্তেহাযা গণনা করবেন। তখন গোসল করে প্রতি ওয়াক্তের জন্য অযু করে নামাজ পড়তে হবে।)

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খন্ড): পৃষ্ঠা: ১১৩–১১৪ (ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — ১ম অনুচ্ছেদ: হায়েজের মেয়াদী শর্তাবলী, হায়েজের রঙসমূহ এবং ১০ দিনের ভেতর ত্বহরে মুতাখাল্লিল বা মধ্যবর্তী বিরতির ফতোয়া)।
  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (পরিচ্ছেদ: হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা — সর্বনিম্ন ৩ দিন ৩ রাত ও সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাতের বিধান এবং রক্তের রঙের বিবরণ)।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫opt খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৮–২০১ (অধ্যায়: কিতাবুল হায়েজ ওয়াল ইস্তিহাজা — রক্ত বা স্রাবের রঙের পরিবর্তন ও মধ্যবর্তী পবিত্রতার ফিকহী বিচার)।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: হায়েজের সাধারণ ফিকহী মূলনীতি)।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.