"তুমি মুক্ত", "আমাকে মুক্তি দাও", "তুমি চলে যাও" — এসব শব্দে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7600
Questioner: Ayesha0987
Question Asked: 30 Oct 2026, 10:13 AM
Reviewed & Published: 30 Oct 2026, 02:59 PM
Views: 16
Tokens: 4,415
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো শামী স্ত্রীকে বলে,তুমি মুক্ত,আমাকে মুক্তি দাও,তুমি চলে যাও এসব শব্দে কি তালাক হয়?

Answer

তালাক সম্পর্কে: "তুমি মুক্ত", "আমাকে মুক্তি দাও", "তুমি চলে যাও" — এসব শব্দে কি তালাক হয়?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার জিজ্ঞাসিত মাসআলাটির ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত শরঈ উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:


১. সংক্ষিপ্ত ও মূল ফয়সালা:

"তুমি মুক্ত", "আমাকে মুক্তি দাও" কিংবা "তুমি চলে যাও"—এ শব্দগুলো ফিকহের পরিভাষায় 'আলফাজে কিনায়াহ' (ألفاظ الكناية - অস্পষ্ট বা পরোক্ষ শব্দ)-এর অন্তর্ভুক্ত ।

কিনায়াহ বা অস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক হওয়ার জন্য স্ত্রীর প্রতি স্বামীর নির্দিষ্টভাবে তালাকের নিয়ত (ইচ্ছা) থাকা শর্ত।

  • যদি নিয়ত না থাকে: স্বামী যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া কেবল ঝগড়া থামানো, রাগের মাথায় ধমক দেওয়া বা বিরক্তি প্রকাশের জন্য এসব কথা বলে থাকেন, তবে এর দ্বারা কোনো তালাক পতিত হবে না; বিবাহ পূর্বের ন্যায় অক্ষুণ্ণ থাকবে।
  • যদি নিয়ত থাকে: আর স্বামী যদি মনে মনে সুনির্দিষ্টভাবে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়তেই এসব শব্দ উচ্চারণ করে থাকেন, তবে এর দ্বারা এক তালাকে বাইন (بائن) পতিত হবে।

২. ফিকহী মূলনীতি (সরীহ ও কিনায়াহ এর পার্থক্য):

ইসলামী ফিকহে তালাকের শব্দ দুই প্রকার: ১. সরীহ (صريح - স্পষ্ট শব্দ): যেমন: "তোমাকে তালাক দিলাম"। এ জাতীয় স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের পর নিয়ত থাকুক বা না থাকুক, এমনকি হাসিমুখ বা রাগের মাথায় বললেও তালাক পতিত হয়ে যায়। ২. কিনায়াহ (كناية - অস্পষ্ট শব্দ): যেমন: "তুমি মুক্ত", "চলে যাও", "তোমার সাথে সম্পর্ক নেই", "আরেকটা বিয়ে করো" ইত্যাদি। এসব শব্দ দ্বারা তালাক ও তালাক ছাড়া অন্য অর্থও প্রকাশ পেতে পারে (যেমন: ঝগড়া থেকে মুক্তি, ঘর থেকে অন্য কক্ষে চলে যাওয়া ইত্যাদি)। তাই কিনায়াহ শব্দে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর অন্তরে স্পষ্ট নিয়ত থাকা শরঈ শর্ত।


৩. আপনার উল্লেখিত শব্দগুলোর সুনির্দিষ্ট শরঈ বিচার:

ক. "তুমি মুক্ত" বা "তোমাকে মুক্তি দিলাম" / "আযাদ করে দিলাম":

  • হুকুম: এটি একটি কিনায়াহ শব্দ। স্বামী যদি মনে তালাকের নিয়ত রেখে বলে "তুমি মুক্ত", তবে এক তালাকে বাইন পতিত হবে। আর যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া কেবল রাগ বা কষ্ট প্রকাশের জন্য বলে থাকে, তবে কোনো তালাক হবে না।

খ. স্ত্রী বললো "আমাকে মুক্তি দাও", স্বামী জবাবে বললো "যা, মুক্তি দিলাম":

  • হুকুম: স্ত্রী রাগের মাথায় বা কষ্টে "মুক্তি দাও" বললে এবং স্বামীও তালাকের নিয়ত ছাড়া নিছক উত্তর হিসেবে "দিলাম মুক্তি" বা "যা মুক্তি দিলাম" বললে কোনো তালাক হবে না । কারণ এখানে স্ত্রীও তালাক চায়নি এবং স্বামীরও তালাকের নিয়ত ছিল না ।

গ. "তুমি চলে যাও" / "ঘর থেকে বের হয়ে যাও":

  • হুকুম: "তুমি চলে যাও" বা "বাপের বাড়ি চলে যাও" বলাও কিনায়াহ শব্দ। তালাকের নিয়ত ছাড়া কেবল রাগ বা ধমকের সুরে "চলে যাও" বললে কোনো তালাক হয় না। তবে যদি স্বামী তালাক দেওয়ার নিয়তেই "চলে যাও" বলে থাকে, তবে এক তালাকে বাইন পতিত হবে ।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া): ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩০১–৩০৩ (কিতাবুত তালাক, ১ম পরিচ্ছেদ ও ৫ম পরিচ্ছেদ: 'কিনায়াত বা অস্পষ্ট শব্দাবলী এবং আলফাজে কিনায়াহর বিস্তারিত বিবরণ')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৩শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫–৮৭ (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক — 'ঝগড়া ও রাগের অবস্থায় কিনায়া শব্দে নিয়ত ছাড়া তালাক না হওয়ার ফতোয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫০২, ৫১১ এবং ৫২২ (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক — 'আলফাজে কিনায়াহ, চলে যাও ও মুক্তির শরঈ হুকুম')।
  • রদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার (ফাতাওয়ায়ে শামী): ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫২৩–৫২৭ (কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত — কিনায়াহ শব্দে নিয়ত শর্ত হওয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা)।
  • আল-বাহরুর রায়েক: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩২৫–৩২৬ (কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত)।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.