পাত্রী কোয়ান্টাম মেথড এর সাথে জড়িত হলে কি ঐ পাত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 756
Questioner: Marjuka
Question Asked: 25 May 2026, 07:39 PM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 07:46 PM
Views: 99
Tokens: 2,751
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার এক পরিচিত আত্মীয়ের এক মেয়ের সাথে বিয়ের কথা চলছে। সেই মেয়ে অনেক ধার্মিক ছোট থেকে এবং পর্দা করে। নামাজ সহ অন্যান্য ফরজ, সুন্নাত এবং নফল ইবাদত ঠিক মতো করে। আখলাক এবং পরিবার মাশাআল্লাহ অনেক ভালো।

কিন্তু, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত বিগত ছয় বছর ধরে, মেডিটেশন করে আবার কোয়ান্টাম মেথড এর advanced level এর সাথেও যুক্ত।

তাহলে সেই মেয়েকে কি বিয়ে করা যাবে? তার ঈমান ঠিক আছে, কিন্তু ভ্রান্তি আছে, বিয়ের পরে যেহেতু সুন্নাহ পরিবেশে রেখে বুঝিয়ে বের করে আনা যাবে। এটা ভেবে যদি ভাই বিয়ে করে তাহলে, বিয়ে করা সঠিক হবে কি?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

উত্তর
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রথমে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ও তাদের "মেডিটেশন" এবং "কোয়ান্টাম মেথড" সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুফতি ও আলেম এই সংগঠনটিকে বিদ‘আতি ও গোমরাহ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। তাদের কার্যক্রমে শিরকীয় বিশ্বাস (যেমন—মৃত আত্মা বা অদৃশ্য শক্তির সাহায্য প্রার্থনা, ধ্যানের নামে নিফাকি চর্চা) মিশে থাকার কারণে অনেকে একে কুফরি পর্যায়ের বলেও গণ্য করেছেন। (দ্রষ্টব্য: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ইত্যাদি)

এখন যদি আপনার বর্ণিত মেয়েটি ৬ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভান্সড লেভেলে পর্যন্ত যুক্ত থাকে, তবে তার ঈমান ও আকীদা সম্পর্কে সন্দেহ থেকেই যায়। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের উন্নত স্তরে শিরক-বিদ‘আতের সরাসরি শিক্ষা দেওয়া হয়।

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী বিবাহের বৈধতা:

  • যদি কেউ কুফরি বা শিরকি বিশ্বাসে লিপ্ত হয়, তাহলে সে মুসলিম থাকে না (মুরতাদ) এবং তার সঙ্গে বিবাহ জায়েয নয়। যতক্ষণ না সে তওবা করে ইসলামী আকীদায় ফিরে আসে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৭৮)
  • যদি তার আকীদা কুফরি পর্যায়ের না হয়, তবে বিদ‘আতে লিপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ মাকরূহে তাহরীমী বা মাকরূহে তানযীহী হয়, কারণ এটি দ্বীনী ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩২০; কিতাবুল ফিত্না, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)

আপনার প্রস্তাবিত সমাধান: বিয়ের পরে সংশোধন করা
আপনার মনে আশা যে, সুন্নাহ পরিবেশে রেখে বুঝিয়ে বের করা যাবে—এটি প্রশংসনীয় নিয়ত, কিন্তু বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ।

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "ﻭَﺍﻟﺪِّﻳﻦُ ﻧَﺼِﻴﺤَﺔٌ" (দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা)। তবে দ্বীনী অনৈক্যের ভিত্তিতে বিবাহ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যদি মেয়েটির বিশ্বাস গভীরভাবে কুফরি হয়, তাহলে আপনি তাকে বিয়ে করে দ্বীনি নিরাপত্তা হারাতে পারেন এবং সন্তানদের ঈমানও বিপন্ন হতে পারে।
  • হাদীসে এসেছে: "এমন স্ত্রী বেছে নাও যে দ্বীনদার, নাহলে তুমি বিপদে পড়বে।" (বুখারী ও মুসলিম)
  • একজন বিদ‘আতীর সঙ্গে বিবাহ করলে তাকে সংশোধন করা অধিক কঠিন, কারণ সে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষিত। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন, "বিদ‘আতীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা থেকে দূরে থাকবে, কারণ তা দ্বীনকে ধ্বংস করে।" (মাকালাতু আবী হানীফা, ৪৭)

সঠিক পন্থা:

  1. বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি বা আপনার পরিবারের কোনো দ্বীনদার ব্যক্তি মেয়েটির সঙ্গে সৎভাবে কথা বলুন, কোয়ান্টাম সম্পর্কে ইসলামী দলিল সহ বুঝিয়ে বলুন এবং তওবার পরামর্শ দিন।
  2. যদি সে তওবা করে ও উক্ত প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে, তাহলে তাকে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই।
  3. যদি সে তওবা না করে বা প্রতিষ্ঠান ছাড়তে অসম্মত হয়, তাহলে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা তাতে আপনার রোজগার ও দ্বীন উভয়ই হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মোটকথা:

  • আপনার বর্ণনায় মেয়েটি নিয়মিত নামাজ, পর্দা ইত্যাদি পালন করে—তা ভালো। কিন্তু ৩০ বছর বয়সে ৬ বছর কোয়ান্টামের অ্যাডভান্সড লেভেলে থাকলে তার আকীদা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
  • ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি হলো—বিবাহের পূর্বেই দ্বীনী সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা। বিয়ের পরে সংশোধনের আশা করলে তাতে ঝুঁকি বেশি। সুতরাং আপনি যদি তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে বিয়ে বৈধ; কিন্তু যদি তিনি জিদ ধরে রাখেন, তাহলে বিয়ে কোনো অবস্থায় বৈধ নয়।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথ দেখান এবং দ্বীন ও আখিরাতের কল্যাণ দিন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.