বারবার একই স্বপ্ন দেখার কারণ, ইসলামে স্বপ্নের ব্যাখ্যা।

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 7435
Questioner: Ayesha Irani
Question Asked: 27 Oct 2026, 11:45 AM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 11:56 AM
Views: 30
Tokens: 17,267
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামু আলাইকুম, আমি একজন মেয়ে বয়স ২৫ বছর। ৩/৪ বছর ধরে একই সপ্ন কিছুদিন পরপর দেখছি।একটু বিস্তারিত বলছি বোঝার সুবিধার জন্য, আমার বিয়ে হয় ২০১৬ জানুয়ারি তে আমার স্বামি প্রবাসী ছিল আর আমাদের বয়স এর গ্যাপ ছিলো অনেক, উনি অনেক হ্যান্ডসাম ছিলো বয়স বোঝা যেত না আর অনেক নামকরা লোক ছিলো এক নামে সবাই চিনতো।ওনাদের গ্রামের বাড়িতেই আমাদের জন্য ডুপ্লেক্স বাড়ির কাজ শুরু করে নিচের ফাউন্ডেশন দিয়ে পিলার করার পরে উনি অসুস্থ হয়ে পরে।বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পরে ওনার ক্যানসার ধরা পরে তখন করোনার সময় ফ্লাইট বন্ধ অনেক কস্টের পরে উনি বাড়িতে চলে আসে কয়েক মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পরে উনি ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তখন আমাদের ছেলের বয়স ১৮ মাস। উনি মারা যাওয়ার পরে আমি উনাদের বাড়িতে ২ বছর মতো ছিলাম ছেলেকে নিয়ে।ওই সময়টাতে আমি আবার বিয়ে বসবো এইরকম কোনো ইচ্ছেই ছিলো না ভেবছিলাম ছেলেকে নিয়ে এভাবেই কাটিয়ে দিবো। এই চিন্তা থেকে উনি যে ঘরের কাজ শুরু করেছিলো ঐখানে আমি নিজে সবার বিরুদ্ধে গিয়ে ২ টা রুম একটা কিচেন একটা রান্নাঘর এর কাজ কমপ্লিট করে ওখানে থাকি২ বছর। এই ২ বছরে মানুষের কথা শুনতে শুনতে আমি মানসিক ভাবে এতোটাই ভেঙে পড়ি যে নিজেকে পাগল মনে হতো আমার উপর দিয়ে ঐ সময় কি গিয়েছে আমি আর আমার মালিক ছাড়া কেউ যানেনা।ওনি মারা যাওয়ার পরে বাবা মা অনেক প্রেশার দিয়েছে আবার বিয়ের জন্য আমি শুরুতে রাজি হইনি পরে সবার অনেক বোঝানোর পরে অামি চিন্তা করে দেখলাম আসলেই আমি সেইফ না যে কোনো সময় মানুষ আমার নামে কোনো বদনাম রটাইয়া দিতে পারে। আমি বিয়ের জন্য রাজি হলাম তবে সর্ত দিলাম আমার ছেলে আমার কাছেই থাকবে যে বিয়ে করবে তাকে ছেলে মেনে নিতে হবে।আল্লাহর অশেষ মেহেরবান আমার আবার বিয়ে হয় ছেলে সহ আমার এই বিয়ে প্রায় ৩ বছর এখন মেইন সমস্যায় আসি ( বিয়ের পরে যখন ঢাকায় চলে আসি আমার অনেক কস্ট হচ্ছিল ঐ বাড়ি ছেরে চলে আসার জন্য আমি নিজের হাতে ঘরের কাজ করিয়েছি তাই অনেক মায়া অনেক সৃতি জরিয়ে ছিলো ঐ বাড়ি নিয়ে বাড়ির মানুষ গুলো নিয়ে তাই শুরুতে সপ্নের ব্যাপারে অতটা গুরুত্ব দেইনি এখন ও মাঝেমাঝেই একই সপ্ন দেখি সপ্নগুলো এমন( আমি আমার আগের শশুর বাড়িতে যাই আমার ঘরটা ভুতের বাড়ির মতো লাগে আস্সালামু আলাইকুম, আমি একজন মেয়ে বয়স ২৫ বছর। ৩/৪ বছর ধরে একই সপ্ন কিছুদিন পরপর দেখছি।একটু বিস্তারিত বলছি বোঝার সুবিধার জন্য, আমার বিয়ে হয় ২০১৬ জানুয়ারি তে আমার স্বামি প্রবাসী ছিল আর আমাদের বয়স এর গ্যাপ ছিলো অনেক, উনি অনেক হ্যান্ডসাম ছিলো বয়স বোঝা যেত না আর অনেক নামকরা লোক ছিলো এক নামে সবাই চিনতো।ওনাদের গ্রামের বাড়িতেই আমাদের জন্য ডুপ্লেক্স বাড়ির কাজ শুরু করে নিচের ফাউন্ডেশন দিয়ে পিলার করার পরে উনি অসুস্থ হয়ে পরে।বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পরে ওনার ক্যানসার ধরা পরে তখন করোনার সময় ফ্লাইট বন্ধ অনেক কস্টের পরে উনি বাড়িতে চলে আসে কয়েক মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পরে উনি ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তখন আমাদের ছেলের বয়স ১৮ মাস। উনি মারা যাওয়ার পরে আমি উনাদের বাড়িতে ২ বছর মতো ছিলাম ছেলেকে নিয়ে।ওই সময়টাতে আমি আবার বিয়ে বসবো এইরকম কোনো ইচ্ছেই ছিলো না ভেবছিলাম ছেলেকে নিয়ে এভাবেই কাটিয়ে দিবো। এই চিন্তা থেকে উনি যে ঘরের কাজ শুরু করেছিলো ঐখানে আমি নিজে সবার বিরুদ্ধে গিয়ে ২ টা রুম একটা কিচেন একটা রান্নাঘর এর কাজ কমপ্লিট করে ওখানে থাকি২ বছর। এই ২ বছরে মানুষের কথা শুনতে শুনতে আমি মানসিক ভাবে এতোটাই ভেঙে পড়ি যে নিজেকে পাগল মনে হতো আমার উপর দিয়ে ঐ সময় কি গিয়েছে আমি আর আমার মালিক ছাড়া কেউ যানেনা।ওনি মারা যাওয়ার পরে বাবা মা অনেক প্রেশার দিয়েছে আবার বিয়ের জন্য আমি শুরুতে রাজি হইনি পরে সবার অনেক বোঝানোর পরে অামি চিন্তা করে দেখলাম আসলেই আমি সেইফ না যে কোনো সময় মানুষ আমার নামে কোনো বদনাম রটাইয়া দিতে পারে। আমি বিয়ের জন্য রাজি হলাম তবে সর্ত দিলাম আমার ছেলে আমার কাছেই থাকবে যে বিয়ে করবে তাকে ছেলে মেনে নিতে হবে।আল্লাহর অশেষ মেহেরবান আমার আবার বিয়ে হয় ছেলে সহ আমার এই বিয়ে প্রায় ৩ বছর এখন মেইন সমস্যায় আসি ( বিয়ের পরে যখন ঢাকায় চলে আসি আমার অনেক কস্ট হচ্ছিল ঐ বাড়ি ছেরে চলে আসার জন্য আমি নিজের হাতে ঘরের কাজ করিয়েছি তাই অনেক মায়া অনেক সৃতি জরিয়ে ছিলো ঐ বাড়ি নিয়ে বাড়ির মানুষ গুলো নিয়ে তাই শুরুতে সপ্নের ব্যাপারে অতটা গুরুত্বজিনিস পএ এলোমেলো ঘরে গেলে ভয়লাগে আমি জিনিসপত্র গুছিয়ে আবার তালা মেরে চলে আসি সপ্নের মধ্যেই একটা জিনিস প্রত্যেকবার বার কমন থাকে সেটা হচ্ছে ঘরের জানালা প্রত্যেক বার খোলা থাকে কখনো দেখি দরজাও খোলা আমি সব দরজা জানালা বন্ধ করি ক্লিন করি সন্ধার আগেই ঘর থেকে বের হয়ে আসি মানে হচ্ছে আমার ঐ ঘরে ঢুকতে অনেক ভয় লাগে কখনো বা দেখি রাতের বেলায় গিয়েছি কোনোরকম জানালা দরজা লাগিয়ে চলে আসছি।সপ্নের মধ্যে অনেক ভয় পাই ) তবে সপ্নে যেমন দেখি বাস্তবে পুরোই উল্টো আমি বছরে ২/১ বার যাই ঘরটা পরিষ্কার করি সবার সাথে দেখা করে চলে আসি এখন আর থাকা হয়না ঘর তারা বদ্ধ থাকে সবসময় আর ঘরে ওঠার আগে ঘর বন্ধক রাখা হয়েছিল ঘরের চার সাইডে চারটা তাবিজ আছে আমার প্রশ্ন হলো বারবার একই সপ্ন কেনো দেখি যদি কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারেন। অগ্রিম ধন্যবাদ।

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি আমি ধৈর্য ধরে পড়েছি। আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর রহম করুন, আপনার সন্তানকে হেফাজত করুন এবং আপনার মনকে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নিতে চাই: স্বপ্ন ইসলামে কোনো শরীয়তের দলিল বা বিধান-নির্ধারক নয়। স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো হুকুম সাব্যস্ত হয় না, কোনো ভয়ের বাস্তবতা প্রমাণিত হয় না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ، وَالرُّؤْيَا مِنَ الشَّيْطَانِ» — সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৯৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৬৩

অর্থাৎ ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর (ভয়-ভীতিজনক) স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। আরও ইরশাদ হয়েছে—

«الرُّؤْيَا ثَلَاثٌ: رُؤْيَا مِنَ اللَّهِ، وَرُؤْيَا مِنَ الشَّيْطَانِ، وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ بِهِ الْمَرْءُ نَفْسَهُ» — সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৬৫

অর্থাৎ স্বপ্ন তিন প্রকার: আল্লাহর পক্ষ থেকে, শয়তানের পক্ষ থেকে, এবং মানুষের নিজের মনের চিন্তা-ভাবনা থেকে। আপনার ক্ষেত্রে তৃতীয় ও দ্বিতীয় প্রকারের সমন্বয়ই প্রবল—কারণ আপনি নিজেই লিখেছেন, ঐ বাড়ির প্রতি আপনার গভীর মায়া, স্মৃতি ও টান ছিল, সেখানে নিজ হাতে কাজ করেছেন, ছেড়ে আসতে কষ্ট হয়েছে। মনের এই গভীর সংস্কার (impression) ও দুশ্চিন্তাই বারবার স্বপ্নে ফিরে আসছে; সাথে শয়তানের ওয়াসওয়াসা ভয়কে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এখন আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

১) বারবার একই স্বপ্ন কেন দেখছেন? এটি কোনো আধ্যাত্মিক ইশারা বা ভবিষ্যদ্বাণী নয়। কারণগুলো সাধারণত এই হয়—

  • ঐ বাড়ি ও স্মৃতির প্রতি মনের গভীর টান ও অসমাপ্ত অনুভূতি;
  • মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও একাকীত্বের স্মৃতি;
  • শয়তানের ওয়াসওয়াসা, যা ভয়কে বারবার উসকে দেয়।

ইমাম ইবন সীরীন (রহ.) ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ স্বপ্নের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করেছেন, মানুষের দৈনন্দিন চিন্তা ও মানসিক অবস্থা স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। তাই এটিকে গায়েবের সংবাদ বা অশুভ লক্ষণ ভাবা সম্পূর্ণ ভুল।

২) ঘরের চারপাশে চারটি তাবিজ—এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম: এটি গুরুত্বপূর্ণ। শরীয়তে তাবিজ-কবচ ব্যবহারের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সারকথা—

  • যদি তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা দুআ থাকে এবং শিরকি কোনো কথা না থাকে, তবে সালাফদের একদল (যেমন ইমাম আহমাদ রহ.-এর কিছু বর্ণনা) এর অনুমতি দিয়েছেন।
  • তবে ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী এবং ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, তা মাকরূহ/নিষিদ্ধ, কারণ এতে কুফরির কালাম মিশে যাওয়ার আশঙ্কা ও আল্লাহর ওপর ভরসার দুর্বলতা তৈরি হয়। ইমাম ইবন আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন—

«وَالْمَنْعُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ لِاحْتِمَالِ أَنْ يَكُونَ فِيهِ كَلَامُ الْكُفْرِ» — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৬৩ (দারুল ফিকর)

অর্থাৎ ইমাম আবু হানীফার মতে নিষেধের কারণ হলো, তাতে কুফরি কালাম থাকার সম্ভাবনা। আর যদি তাবিজে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে সাহায্য প্রার্থনা, জিন-শয়তানের নাম, বা বোধগম্য নয় এমন মন্ত্র থাকে—তবে তা সর্বসম্মতভাবে হারাম ও শিরক। (দেখুন: ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৪; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩৫৭-৩৫৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৭৬)

আমার পরামর্শ: তাবিজগুলো খুলে ফেলুন বা যিনি লাগিয়েছেন তাকে জিজ্ঞেস করে ভেতরে কী আছে জেনে নিন। যদি তাতে কুরআনের আয়াত থাকে এবং আপনি রাখতে চান, তবে তা খুলে কাগজটি পবিত্র অবস্থায় রাখুন; আর যদি শরীয়তবিরোধী কিছু থাকে, তা ধ্বংস করে দিন। তবে ভয় দূর করার জন্য তাবিজের ওপর নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও দুআর ওপর নির্ভর করা উত্তম।

৩) ভয় দূর করার শরীয়তসম্মত উপায়:

  • প্রতিটি নামাজের পর এবং ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ুন।
  • ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলিয়ে নিন (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০১৭)।
  • ঘুমানোর আগে বলুন—

«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ» — সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭০৮

  • খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলুন, শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান এবং সেই স্বপ্ন কারো কাছে বর্ণনা করবেন না, পাশ বদলে শুয়ে পড়ুন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৬২-২২৬৩)
  • নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও দুআ পড়ুন।
  • ঐ বাড়ি নিয়ে অতিরিক্ত মায়া-স্মৃতিতে ডুবে থাকা কমিয়ে দিন; এটি আপনার মানসিক শান্তির জন্য জরুরি।

৪) মানসিক চাপ ও ভেঙে পড়ার বিষয়ে: আপনি যে মানসিক কষ্টের কথা বলেছেন, তা স্বাভাবিক। তবে নিজেকে "পাগল" ভাবা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। আপনি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, পরিবারের সাথে খোলামেলা কথা বলুন, প্রয়োজনে একজন বিশ্বস্ত মুসলিম কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি শরীয়তবিরোধী নয়; বরং মানসিক সুস্থতা দ্বীনের অংশ।

সারসংক্ষেপ: আপনার স্বপ্ন কোনো গায়েবি ইশারা নয়, বরং মনের গভীর স্মৃতি ও শয়তানের ওয়াসওয়াসার প্রতিফলন। তাবিজের বিষয়টি শরীয়ত অনুযায়ী যাচাই করে নিন। ভয় দূর করতে উপরোক্ত দুআ ও আমল করুন এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখুন। ইনশাআল্লাহ শান্তি পাবেন।

وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.