হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি পড়া যাবে কি

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7425
Questioner: Sumaiya Azad
Question Asked: 27 Oct 2026, 05:06 AM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 06:54 AM
Views: 18
Tokens: 2,675
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ অবস্থায় কি ৩ কুল আর আয়াতুল কুরসি পড়া যাবে ? যেহেতু কুরআনের আয়াত

Answer

হায়েজ অবস্থায় ৩ কুল ও আয়াতুল কুরসি পড়ার হুকুম

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া যাবে না। আয়াতুল কুরসি ও সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (তিন কুল) সবই কুরআনের আয়াত। তাই হায়েজ অবস্থায় এগুলো তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া জায়েয নয়।

তবে দুআ বা যিকিরের নিয়তে (যেমন: আয়াতুল কুরসিকে রুকইয়াহ/হিফাযতের দুআ হিসেবে পড়া) এবং মনে মনে (মুখে উচ্চারণ ছাড়া) পড়া বা শোনা জায়েয — এটি হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত।


দলিল ও হানাফি ফিকহের বিস্তারিত

১. মূল নীতি: হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

«لَا تَقْرَإِ الْحَائِضُ الْقُرْآنَ»

"হায়েজা নারী কুরআন পড়বে না।"

— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৩২ (ইমাম তিরমিজি হাসান বলেছেন; তবে মুহাদ্দিসিনের একটি দল এটিকে 'মুরসাল' বা 'য'ঈফ' বলেছেন — তবে হানাফি ফিকহে আমল এ হাদিসের ভিত্তিতেই)

ইমাম তহাবি (রহ.) শরহু মাআনিল আসার-এ এবং ইমাম সারাখসি (রহ.) আল-মাবসূত-এ উল্লেখ করেছেন যে, হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকা সর্বসম্মত (ইজমা)।

২. আয়াতুল কুরসি ও তিন কুলের বিধান

আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) এবং সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস — সবই কুরআনের অংশ। তাই তিলাওয়াতের নিয়তে এগুলো পড়া যাবে না।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ (১/২৯৩) বলেন:

"الحائض لا تقرأ القرآن... وأما قراءة غير القرآن من الذكر والدعاء فجائزة"

"হায়েজা কুরআন পড়বে না... তবে কুরআন ছাড়া যিকির ও দুআ পড়া জায়েয।"

৩. দুআ/যিকিরের নিয়তে পড়া

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ (নামাজ অধ্যায়, হায়েজের বিবরণ) স্পষ্ট করেছেন:

হায়েজ অবস্থায় কুরআন শরিফ পড়া নিষেধ। তবে দুআর নিয়তে আয়াতুল কুরসি বা অন্য আয়াত পড়লে — যদি তা দুআ হিসেবে প্রসিদ্ধ হয় — জায়েয।

ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি, ১/৩০০-এর কাছাকাছি) ও ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি, ১/২৯০) — উভয়েই উল্লেখ করেছেন: হায়েজা মুখে কুরআন পড়তে পারবে না; তবে মনে মনে পড়া বা দুআর নিয়তে পড়া জায়েয।

৪. মনে মনে পড়া ও শোনা

  • মনে মনে (মুখে উচ্চারণ ছাড়া) পড়া: জায়েয — কারণ এটি মুখের তিলাওয়াত নয়।
  • কুরআন শোনা: জায়েয — শ্রবণ নিষিদ্ধ নয়।
  • কুরআন স্পর্শ করা: নিষিদ্ধ (সূরা ওয়াকিয়া: ৭৯ ও হাদিসের ভিত্তিতে)।

আল-হিদায়া (১/৩৩) ও ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৩৮) — উভয়েই হায়েজার জন্য কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ এবং যিকির-দুআ জায়েয বলেছেন।


ব্যবহারিক সমাধান

| কাজ | হুকুম | |---|---| | আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া | ❌ জায়েয নয় | | আয়াতুল কুরসি দুআ/হিফাযতের নিয়তে পড়া | ✅ জায়েয (হানাফি মতে) | | ৩ কুল তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া | ❌ জায়েয নয় | | ৩ কুল মনে মনে পড়া | ✅ জায়েয | | ৩ কুল দুআ/হিফাযতের নিয়তে পড়া | ✅ জায়েয (হানাফি মতে) | | কুরআন শোনা | ✅ জায়েয | | কুরআন স্পর্শ করা | ❌ নিষিদ্ধ | | তাসবিহ, দরুদ, যিকির | ✅ জায়েয |

সতর্কতা: দুআর নিয়তে আয়াত পড়ার ক্ষেত্রে নিয়ত স্পষ্ট রাখা জরুরি — যেন তা কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে না হয়।


উপসংহার

হায়েজ অবস্থায় আয়াতুল কুরসি ও তিন কুল তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া যাবে না। তবে দুআ/যিকিরের নিয়তে অথবা হিফাজতের নিয়তে পড়া জায়েয বা মনে মনে পড়া জায়েয। এটিই হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.