হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি? সূরা ইয়াসিন, সূরা মূলক, সূরা বাকারা পড়া বা শোনার বিধান কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7418
Questioner: Sumaiya Azad
Question Asked: 26 Oct 2026, 11:10 PM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 03:18 AM
Views: 10
Tokens: 3,092
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ অবস্থায় আমি কি ডেইলি কুরআন যেমন সকালে সূরা ইয়াসিন রাতের ঘুমের আগের সূরা মূলক সূরা বাকারা আয়াত পড়তে পারব?

Answer

হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতের বিধান

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার প্রশ্নের ফিকহে হানাফী অনুযায়ী প্রামাণ্য শরঈ সমাধান ও কিতাবের হাওয়ালা (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ) নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:

হায়েজ (ঋতুস্রাব) অবস্থায় তিলাওয়াতের নিয়তে সূরা ইয়াসীন, সূরা মুলক বা কুরআনের অন্য যেকোনো সূরা ও আয়াত পাঠ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ। তবে তিলাওয়াতের নিয়ত না করে স্রেফ দুআ, হিফাযত ও যিকিরের নিয়তে দুআ সম্বলিত নির্দিষ্ট আয়াত (যেমন: আয়াতুল কুরসী বা সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত) এবং সাধারণ মাসনূন দুআ, তাসবীহ ও দরূদ শরীফ পড়া সম্পূর্ণ জায়েয।


বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও সূরাভিত্তিক বিধান:

১. সূরা ইয়াসীন ও সূরা মুলক: হায়েজ অবস্থায় সকালে বা রাতে তিলাওয়াতের নিয়তে মুখস্থ বা দেখে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসীন ও সূরা মুলক পড়া যাবে না। কারণ এগুলো কুরআনের বড় সূরা এবং এগুলো তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যেই পড়া হয়ে থাকে।

২. সূরা বাকারা ও দুআ সম্বলিত আয়াত (যেমন: আয়াতুল কুরসী ও শেষ দুই আয়াত):

  • তিলাওয়াতের নিয়তে: কুরআন হিসেবে তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া নিষিদ্ধ।
  • দুআ ও হিফাযতের নিয়তে: ঘুমানোর আগে বা সকালে নিজেকে হিফাযত ও যিকিরের নিয়তে (তিলাওয়াতের নিয়ত ছাড়া) আয়াতুল কুরসী বা সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু...) মুখে পড়া জায়েয।

৩. দৈনন্দিন মাসনূন দুআ, দরূদ ও যিকির-আজকার: সকালে ও রাতে ঘুমের আগের মাসনূন দুআসমূহ (যেমন: ইস্তিগফার, দরূদ শরীফ, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, কালিমাহ ইত্যাদি) হায়েজ অবস্থায় মুখে পাঠ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সওয়াবের কাজ।

৪. কুরআন শরীফ স্পর্শ করার বিধান: হায়েজ অবস্থায় খালি হাতে কুরআন শরীফ (মুসহাফ) স্পর্শ করা হারাম। তবে মোবাইল স্ক্রীনে বা অন্য কোনো আলাদা কাপড়ের সাহায্যে স্পর্শ না করে দেখা যাবে।


সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৭ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম মাসআলা: 'জুনুবী ও ঋতুবতী মহিলার জন্য কুরআন শরীফ স্পর্শ করা ও পাঠ করার হুকুম')।
  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৭ ও ১১৩ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০ (অধ্যায়: 'বাবুল হায়েজ ওয়াল নিফাস')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: 'হায়েজের আহকাম ও দুআ-যিকিরের ফিকহী বিধান')।
  • গবেষণা নির্দেশিকা (রুকইয়াহ ও হায়েজ): ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ (হায়েজ অবস্থায় দুআ ও যিকির হিসেবে কুরআনের আয়াত পড়ার শরঈ অবস্থান)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.