হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি? সূরা ইয়াসিন, সূরা মূলক, সূরা বাকারা পড়া বা শোনার বিধান কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতের বিধান
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার প্রশ্নের ফিকহে হানাফী অনুযায়ী প্রামাণ্য শরঈ সমাধান ও কিতাবের হাওয়ালা (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ) নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:
হায়েজ (ঋতুস্রাব) অবস্থায় তিলাওয়াতের নিয়তে সূরা ইয়াসীন, সূরা মুলক বা কুরআনের অন্য যেকোনো সূরা ও আয়াত পাঠ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ। তবে তিলাওয়াতের নিয়ত না করে স্রেফ দুআ, হিফাযত ও যিকিরের নিয়তে দুআ সম্বলিত নির্দিষ্ট আয়াত (যেমন: আয়াতুল কুরসী বা সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত) এবং সাধারণ মাসনূন দুআ, তাসবীহ ও দরূদ শরীফ পড়া সম্পূর্ণ জায়েয।
বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও সূরাভিত্তিক বিধান:
১. সূরা ইয়াসীন ও সূরা মুলক: হায়েজ অবস্থায় সকালে বা রাতে তিলাওয়াতের নিয়তে মুখস্থ বা দেখে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসীন ও সূরা মুলক পড়া যাবে না। কারণ এগুলো কুরআনের বড় সূরা এবং এগুলো তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যেই পড়া হয়ে থাকে।
২. সূরা বাকারা ও দুআ সম্বলিত আয়াত (যেমন: আয়াতুল কুরসী ও শেষ দুই আয়াত):
- তিলাওয়াতের নিয়তে: কুরআন হিসেবে তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া নিষিদ্ধ।
- দুআ ও হিফাযতের নিয়তে: ঘুমানোর আগে বা সকালে নিজেকে হিফাযত ও যিকিরের নিয়তে (তিলাওয়াতের নিয়ত ছাড়া) আয়াতুল কুরসী বা সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু...) মুখে পড়া জায়েয।
৩. দৈনন্দিন মাসনূন দুআ, দরূদ ও যিকির-আজকার: সকালে ও রাতে ঘুমের আগের মাসনূন দুআসমূহ (যেমন: ইস্তিগফার, দরূদ শরীফ, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার, কালিমাহ ইত্যাদি) হায়েজ অবস্থায় মুখে পাঠ করা সম্পূর্ণ বৈধ ও সওয়াবের কাজ।
৪. কুরআন শরীফ স্পর্শ করার বিধান: হায়েজ অবস্থায় খালি হাতে কুরআন শরীফ (মুসহাফ) স্পর্শ করা হারাম। তবে মোবাইল স্ক্রীনে বা অন্য কোনো আলাদা কাপড়ের সাহায্যে স্পর্শ না করে দেখা যাবে।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৭ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম মাসআলা: 'জুনুবী ও ঋতুবতী মহিলার জন্য কুরআন শরীফ স্পর্শ করা ও পাঠ করার হুকুম')।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৭ ও ১১৩ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা')।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০ (অধ্যায়: 'বাবুল হায়েজ ওয়াল নিফাস')।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: 'হায়েজের আহকাম ও দুআ-যিকিরের ফিকহী বিধান')।
- গবেষণা নির্দেশিকা (রুকইয়াহ ও হায়েজ): ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ (হায়েজ অবস্থায় দুআ ও যিকির হিসেবে কুরআনের আয়াত পড়ার শরঈ অবস্থান)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ