আমার কর্মকান্ডে কুফরী হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
আমি ৬ বছর আগে দ্বীনের বুঝ পাই। আমার পরিবার সেরকম দ্বীনদার না, দুনিয়াবি সবকিছুকে বেশি প্রাধান্য দেয়৷ আর আমি নিজেও সেরকম জানতামনা কীভাবে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে হয় বা কোনটা আসল ইসলাম৷ কোন কাজটা আল্লাহর কাছে প্রশংসনীয়, কোনটা খারাপ কিছুই জানতামনা৷ এখান-সেখান থেকে ফেসবুক, ইউটিউবে টুকরো টুকরো ভিডিও লেখা দেখে ইসলাম জানতাম। তো তখন আমি আল্লাহর দেয়া হিদায়াত পেয়ে নিজেকে খুব বড় মনে করতাম। ভাবতাম আল্লাহ আমার উপর অনেক খুশি, মনে হত দুয়াটা আমার অনেক বড় শক্তি। চাইলেই পেয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ আমার কথায় অনেক বড় বড় কাজ ঘটান৷ মনে মনে অনেককিছু চাইলেও ঘটে যেত।
আবার একদম দ্বীনে ফেরার আগে(যখন পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ করা শুরু করিনি, জানতামওনা)
কিছু হাতের সাইন থাকে(🤘- এটার নাম শয়তানের শিং) এগুলো দেখে আমার মজা লাগত, মনে হত এগুলো করলেও শিরক হবেনা। অনেক কুলক্ষণ বিশ্বাস করতাম। কাল্পনিক একটা উদাহরণ- হয়তো একবার একটা জামা পরার পরে কয়েকবার পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি, পরে আরেকদিন সেই জামাটা পরলে মনে হল যে এই জামাটা পরলে ব্যথা পাব৷ তখন নিজেকে বোঝাই যে এগুলো কুফরি বিশ্বাস, তবু দেখা যায় ভয়ে জামাটা বদলে ফেললাম। এগুলো সব দ্বীনে ফেরার আগে না জেনে করেছি, এরপরে এগুলোর জন্য তওবাও করেছি৷ কিন্তু এখনও মাঝেমাঝে এরকম নিজের বানোয়াট কুলক্ষণ চিন্তা মাথায় চলে আসে। সহজে সরানো যায়না। দেখা যায় ভয়ে ওই বানানো কুলক্ষণটা মেনেই কাজ করে ফেলি। এরকম চিন্তা মনে আসলে কী করব, কীভাবে সরাব?এখন অনেকদিন ধরে অষুখ খাওয়া হচ্ছে মাথায় অনেক প্রেশার পড়ে, পরিষ্কার করে চিন্তা করতে পারিনা। স্মৃতিগুলোও ঠিকঠাক মনে থাকেনা৷ মাথায় শব্দ করে। অনেকসময় কারো ভালো কাজ করা দেখে হঠাৎ মাথায় আসে, "আরে এ তো পাজি লোক, ভালো কাজও করছে দেখানোর জন্য।" তখন সাথেসাথে বুঝি যে এগুলো খারাপ অহংকারি চিন্তা, তবু চিন্তাগুলো এসে যায়, আটকাতে পারিনা৷ অনেকগুলো চিন্তা একসাথে আসে। এরকম চিন্তাগুলোকে পাল্টা যুক্তি দিতে দিতে প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে ইগনোর করি বা অন্যকিছু ভাবা শুরু করি।
আবার গত কয়েকদিন থেকে আল্লাহ, নবীজি(সা.) কে নিয়ে অনেক বাজে চিন্তা আসে, কটূক্তি গালি৷ আল্লাহর কাছে দুয়া বা আল্লাহর প্রশংসা করতে গেলে মনের মধ্যে অনেক বাজে গালি আসে। অনেকসময় দুয়া শুরু করার কিছুক্ষণ পরে মনে পড়ে যে- এখন তো গালি আসেনি! তখনই সাথেসাথে মনের ভিতর থেকে হাসি আর সাথে গালিও আসতে থাকে। মাঝে একবার কমেছিল, তখন মনে হত যে অন্যদেরকে শয়তান ধরে। হয়তো আমার নফসই এরকম পঁচে গেছে। আমার হয়তো ঈমানই নেই। আবার বিদ্রোহী ধরণের চিন্তাও আসে৷ কোনোকিছু নিয়ে ইসলামের কোনো নিষেধ আসলে জোর দিয়ে মনের ভিতরে আসে-'এত কঠিন কেন?' তখন কুফরি হচ্ছে দেখে ভয় লাগে। মনে হয় যে আল্লাহ দেখছেন আমি এসব চিন্তা করছি। আমি কখনো গালি দেইনা, খারাপ ভিডিও-ছবিও দেখিনা। অনেক প্রশ্ন আসে যেগুলো আমি কখনো ভাবিইনি, যেমন- "আল্লাহ কি তার মত কাউকে সৃষ্টি করতে পারবেন?" বা-"এমন কি হতে পারেনা, যে আল্লাহ শুধু আমাদের জগত সৃষ্টি করেছেন আর অন্য জগতের সৃষ্টিকর্তা অন্যকেউ?" তখন আপু উত্তর দেয়, কারণ এগুলো তার মাথায়ও আসত। উত্তর শোনার পরে কিছুক্ষণ ভালো লাগে, পরে আরেকটা নতুন প্রশ্ন মাথায় আসে।
আগে গুনাহ করলে বুঝতাম যে এগুলো খারাপ, কিন্তু মাফ চাইতামনা। মনে হত গুনাহ না ছেড়ে মাফ চাইতে থাকলে ভান করছি, গুনাহটা ছেড়ে দিলে আল্লাহ এমনিতেই মাফ করে দিবেন। গুনাহ ছাড়ার জন্যও যে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যায় এটাও জানতামনা৷ ভাবতাম এটাই পরীক্ষা। ভালো কাজও আমার নিজের, খারাপ কাজও নিজের। নামাজে ইস্তিগফারে 'নিজে থেকে মাফ করে দিন' এটা বলার বাইরে আর মাফ চাইতামনা। আলসেমিও লাগত। একদিন মনে হয়েছিল যে আমি যে মাফ চাচ্ছিনা এটা তো অহংকারের মতই হচ্ছে। ঈমান থাকলে আল্লাহ, তাঁর পরে নবীজি(সা.) এর প্রতি সবচেয়ে ভালোবাসা থাকতে হয়। আগে যখন এটা শুনি তখন কয়দিন সীরাহ শোনার চেষ্টা করছিলাম। তখন আল্লাহকে ভালো লাগলেও নবীজি সম্পর্কে না জানায় তাকে ততটা ভালো লাগতনা নাউজুবিল্লাহ(এই লেখাটা যখন আপু পড়ে শোনায় তখন নাউজুবিল্লাহ শুনে মনে হয় যে আগে তো নবীজি সম্পর্কে জানতামনা তাহলে ভালোবাসা কীভাবে আসবে? না আসাই তো স্বাভাবিক, নাউজুবিল্লাহ বলার কী আছে?)। সীরাহ পড়ার পরে ভাবি যে আল্লাহ আর নবীর প্রতি ভালোবাসা বাড়বে, তখন দেখা যায় আরো খারাপ খারাপ চিন্তা আসে৷ মনে হয় নবীজি(সা.) অহংকারী আস্তাগফিরুল্লাহ৷ মনে হয় নবীজি(সা.) একজন মানুষ, তাঁর কথাও আমাকে শুনতে হবে? হাদীস দেখলে মনে হয় এটা তো আল্লাহর কথা না, তাহলে কেন মানব। আমি জানি হাদীস দরকারি। নবীজির আনুগত্য করার সময় অহমিকা আসে। মাঝেমধ্যে মনে হয় নবীজিকে ভালোবাসতে গিয়ে শিরক হয়ে যাবেনা তো? আগে মনে হত আমি কখনো শিরক কুফর করবনা, আমি না চাইলে কেউ কখনো শিরক করাতে পারবেনা। শিরক না করার জন্য যে দুয়া করতে হয় এটা জানতামনা। মনে করতাম ঈমান নিয়ে ভয় পাওয়াটা ভালো কাজ না। উপরের সবগুলো ঘটনা থেকে আমার আপুর মনে হয়েছে- আল্লাহকে নিয়ে কীরকম চিন্তা করতে হবে, দুনিয়া-আখিরাতকে কোন perspective থেকে দেখতে হবে এটা আগে আমি জানতামনা। যতটুকু জানা টিভি, ক্লাসের বই, ফেসবুক থেকে। তাই আপুর ধারণা হল, আমি কাফির নাও হতে পারি। কাফির হতাম যদি ইসলাম আসলে কেমন সেটা সঠিকটা জেনেও অস্বীকার করতাম। যেহেতু না জেনে করেছি তাই আমি কাফির না। তবে কিছু চিন্তা শুনে সেও ভয় পেয়েছে। আগে আমি একদম শুরুর দিকে ভাবতাম যে আল্লাহ আমাকে তোয়াজ করে চলছেন! আবার পাথরের কাছে গিয়ে হিন্দুদের মত পূজা করার খেলা খেলেছি নাবালক সময়ে এরকমও মনে পড়ে, সেগুলোর জন্য আমি তওবা করে কালিমা পড়েছি। আর এমন জীবনেও করবনা। তবে মনে হয় যে নাবালক বলে হয়তো তেমন গুনাহ হয়নি, বা এসব গুনাহ তো আগে করতাম এখন আর করিনা তাই আর মাফ চাওয়ার দরকার নেই। অলরেডি মাফ পাওয়া হয়ে গেছে। পরে মনে হয় যে তাহলে তো আগের মতই হয়েযাচ্ছি(আগে গুনাহ করলেও মনে করতাম যে আল্লাহ তো দয়ালু, তিনি মাফ করে দিবেন। বাংলাদেশি বেশিরভাগ মুসলিম যেমন ভাবে আরকী)।
এখন আমার প্রশ্ন হল- "উপরের সবগুলো কাজ বা বিশ্বাস বা চিন্তার মধ্যে কোনগুলো কুফরি, আর কোনগুলো ওয়াসওয়াসা? আমি কি কাফির হয়ে গিয়েছি? এগুলোর জন্য কীভাবে মাফ চাইব?
যদি কাফির হই তাহলে আপু যে বলেছে আমি কাফির না, বা আমার বারবার এসব কথা শুনে সে সান্তনা দিতে অনেকসময় অনেককিছু বলে যেগুলো হয়তো তার স্বল্প জ্ঞান থেকে বলা। সে তো আলিমা না, তাহলে সে যে অনুমান থেকে এসব বলছে তাতে কি সে কাফির হয়ে যাবে?"
আমরা একজন হানাফি মুফতিকে লেখাটা দিয়েছিলাম, তখন সেভাবে গুছিয়ে লেখা হয়নি৷ ওই মুফতি লেখাটা পড়ে বলেছেন-"বাংলায় হাদীস কুরআন পড়লে বোঝা যায়না। আমাদের মূল মাকসাদ হল আল্লাহর আনুগত্য। আল্লাহর আমাদের ইবাদতের দরকার নেই, ফেরেশতাদের ইবাদতই যথেষ্ট। আমাদের কাজ হল আল্লাহর প্রভুত্ব স্বীকার করা। তবে তোমাদের লেখা পড়ে আমার ধারণা তোমরা অনলাইনে কোনো তথাকথিত 'আলেম'কে ফলো করেছ। এরা শুরুতে ভালো ভালো কথা বললেও মনের মাঝে সূক্ষ্মভাবে কুফরি কথা ঢুকিয়ে দেয়। যেমন- আহলে হাদীস। আবদুর রাজ্জাক নামে একজন আছেন যিনি কখনো আরবী কুরআন পড়েননাই৷ সবকিছু করতে হবে নবীজি(সা.) এর দেখানো পথে। এর ব্যতিক্রম হলে হবেনা। ৭৩ দলের মাঝে ১টা মাত্র জান্নাতে যাবে। তোমাদের আকীদা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এসব আকীদা যদি তোমরা রাখো তাহলে তোমরা আন্তরিক নামাজ-রোজা করেও অনন্তকাল জাহান্নামী হবে। তাই একজন আহলুল্লাহ এর কাছে বায়াত হতে হবে। ওই আহলুল্লাহ কে হবে এটাও তোমরা নিজেরা বের করতে পারবেনা। আমার কথাগুলো গভীরভাবে ভেবো।" এগুলো শুনে আমি প্রচন্ড ভয় পাই, রাতে ঘুমাতে পারিনা মাথায় ব্যথা-শব্দ বেড়ে যায়। তখন আপু রেগে অনেককিছু বলে, যে-"মুফতিকে আমরা হয়তো বোঝাতে পারিনি। আর আমরা তো আহলে হাদীস কাউকে ফলো করিওনা৷ আহমদউল্লাহ হুজুর, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাজ্জাকের মত হুজুররাও তো জেনারেলদের জন্য কতকিছু করছেন। এরকম বিভেদ তৈরী করেন তারা? গর্তে বসে থাকেন? নিজেরাও কিছু করেনা, অন্যরা করলে সেটা নিয়েও আজেবাজে বলে।" আপু বলেছে ওই মুফতি নাকি ভালো করে লেখাটা পড়েনইনি৷ আপুর তো এগুলোর জন্য গুনাহ হয়েছে, সে কীভাবে মাফ চাইবে?
এখন আমার অনেক ভয় করছে৷ এই সবকিছুর জন্য কি একটা একটা করে মাফ চাইতে হবে? মাফ চাইতে গেলে অনেক ক্লান্ত লাগে, মাফ চাওয়ার সময় যখন অনুতাপের অনুভূতি আনতে চাই অনুভূতি আসেনা তখন আবার ভয় লাগে, মাথায় অনেক চাপ লাগে ব্যথা করে, মাথার শব্দ বাড়তে থাকে, বিদ্রোহী চিন্তা আসতে থাকে আল্লাহর নামে অপবাদ আসে। পরে শেষে এই চিন্তাগুলোর সাথে লড়াই করতে চাই। আল্লাহর নামে ভালো কথা চিন্তা করতে চাই৷ পরে একসম ক্লান্ত হয়ে যাই, পরে মনে হয় শয়তান আমাকে ঘিরে ধরে রেখেছে। একসময় আল্লাহর উপরেই রাগ উঠে যায় আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ। অনেক ক্লান্ত লাগে, অনেক সময় যায় এগুলো নিয়ে ভাবতে গেলে। দেখা যায় দুইঘন্টায় অনেকগুলা গুনাহর জন্য মাফ চাইতে বসলেও মাফ চাওয়া হয়েছে মাত্র একটার জন্য।
একটু জোর করে চিন্তা করতে গেলেই মাথাব্যথা, মাথায় শব্দ বাড়ে। আর আমি এতদিন দুনিয়াবি পড়াশোনার কারণে দ্বীনী ইলম অর্জনের সুযোগ পাইনি, পরিবার থেকে সাপোর্ট ছিলনা। অসুস্থ হওয়ার পরে ফরজ দ্বীন অর্জন করা শুরু করতে পারি। সামায়াত কোর্সের কিছু ক্লাসও করেছিলাম। কিন্তু এরপরে শরীর খারাপ হওয়ায় আর করতে পারিনা, ভয় লাগে মাথায় খারাপ লাগে। আল্লাহর কথা, নবীজির কথা ভাবলেও ভয় লাগে মাঝেমাঝে।
ভয় লাগে দেখে অনেক হতাশ লাগে, মনে হয় মাফ পাবনা৷ আবার যদি জোর করে আল্লাহর কাছে অনুতাপ নিয়ে মাফ চাইতে পারি তাহলে আবার ভিতরে কেমন অহংকারি চিন্তা আসতে থাকে, যে-
"মাফ চেয়ে ফেলেছি এখন আল্লাহ মাফ না করে কোথায় যাবেন?(আস্তাগফিরুল্লাহ)। তখন আবার ভয় লাগে৷এগুলোর জন্য কীভাবে তাওবা করব? আর এখানে কোনগুলো ওয়াসওয়াসা আর কোনগুলো কুফর? কোনগুলো ভুল আকীদা এগুলোও তো আলাদা করতে পারছিনা। আগের খারাপ চিন্তাগুলো এখনও অনেক বেশি আসে। বুঝি যে এগুলো খারাপ, কিন্তু সরাতে পারিনা। এসব চিন্তা মনে এলে কী করা উচিত?
গতকাল রাতে আমি ২টায় ঘুমাই মুফতির কথাগুলো শোনার পর। আজকে সকালে অনেক খারাপ লাগছিল, অনেককিছু চিন্তা করেছিলাম। সূরা ফাতিহা পড়ার সময় সবকিছু ফিল করে পড়ার পরে মনে হয় যে আল্লাহ আমার অনেক কাছে, তখন অনেক ভয় লাগে। একদমই ভালো লাগেনা। আবার ভিতরে একটা তীব্র ফিল আসে যে আমি আল্লাহর অনেক কাছে চলে গেছি। নবীজি(সা.) এর কাছে ওহী আসার সময়ও তো তাঁর ভয় লাগত এরকমই হয়তো আমারও লাগছে। তখন আবার মনে হয় যে আমি কি অহংকার করছি যে আমিও নবীর মতই বুজূর্গ ভাবছি নিজেকে? তাহলে কি এসব চিন্তা শয়তান দিচ্ছে? তখন তাচ্ছিল্য আসে, যে হয়তো আমি ভাবছি যে আমি আল্লাহর কাছে গেছি কিন্তু আসলে জ্বীনের কাছাকাছি আছি৷ পরে মনে হল যে আমি তো নবীজি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই করছি, তাহলে হয়তো এটা আল্লাহই।
আল্লাহর কাছে দুয়া করি যাতে ভয়টা কমিয়ে দেন৷ তখন মনে হয় যে অনেক সাহসী হয়ে গেছি৷ মনে হয় আল্লাহ এতকিছু দিয়ে দিলেন? তাচ্ছিল্যের অনুভূতি আসে আল্লাহর দিকে৷ মুফতি বলেছিল যে ঈমান থাকবেনা। তখন মনে হয় যে যদি এসব কুফরি নিয়ে বেঈমান হয়ে মারা যাই? তখন একটা লেখার কথা মনে পড়ে যে আল্লাহ কাউকে সাধ্যের বাইরে কিছু চাপাননা৷ তাই অসুখের জন্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা এটাও আল্লাহ বুঝবেন ইনশাআল্লাহ৷ পরে ভয়টা কমে। শেষ বিচারের দিন আল্লাহকে বলব, সঠিকটা পেলে আমি সেটাই করতাম৷ তখন মনে হয় যে সঠিক দ্বীন না পাওয়া মানুষদের যে আল্লাহ আগুনে লাফ দিতে বলবেন তখন যারা লাফ দেবে তারা নাজাত পাবে। তখন আমার মনে হয় যে আমিও লাফ দেব। তখন মনে হয় আমার ঈমানটা জিহাদে যাওয়ার মত শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে। আল্লাহর কাছে দুয়া করি যে আমার পরিপূর্ণ ঈমান থাকা অবস্থায় যাতে মৃত্যু হয়৷ এরপরে মনে হয় যে ঈমানটা অনেক শক্ত হয়ে গেছে, তখন ভয় লাগে যে এখন যদি মারা যাই(ভাবি যে দুয়া কবুল হয়ে গেছে)?
তখন ভয় লাগে যে এখন মরতে চাইনা। তখন আবার মনে হয় যে সূরা বুরুজে যে মহিলা বাচ্চা নিয়ে আগুনে লাফ দিতে চাননি পরে দিয়েছিলেন, আমার তো দ্বিধা তৈরী হয়ে গেছে৷ তাহলে কি আমি দাবী করছি যে সব করতে পারব কিন্তু আসলে পারবনা?
তাহলে জিহাদ থেকে পলায়নের মত হয়ে গেল(এটা শুনে আপু ধমক দেয় যে মেয়েদের জন্য তো জিহাদ ফরজ না)? কী করব? আমার ঈমান ঠিক আছে?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি দীর্ঘ এবং আপনার ভেতরের অবস্থা বোঝা যাচ্ছে—একজন মানুষ যিনি ঈমান নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তিত, কিন্তু শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও নিজের নফসের খারাপ চিন্তায় জর্জরিত। প্রথমেই একটি মূল কথা বলে নিই: আপনার এই ভয়, কষ্ট, অনুতাপ ও চিন্তা—এগুলোই প্রমাণ যে আপনার অন্তরে ঈমান জীবিত আছে। একজন কাফির কখনো আল্লাহকে নিয়ে ভয় পায় না, মাফ চাইতে চায় না, নিজের চিন্তার জন্য অনুতপ্ত হয় না। সুতরাং ইনশাআল্লাহ আপনি কাফির হয়ে যাননি।
১. মূল নীতি: ওয়াসওয়াসা বনাম কুফর
শরীয়তের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—মনের ভেতরে হঠাৎ আসা খারাপ চিন্তা, যা মানুষ অপছন্দ করে এবং যার বিরুদ্ধে লড়াই করে, তা কুফর নয়। এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা।
হাদিসে এসেছে, সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) নবীজি (সা.)-কে বললেন:
إِنَّا نَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ "আমরা আমাদের অন্তরে এমন কিছু (চিন্তা) পাই, যা মুখে উচ্চারণ করতে আমরা ভয় পাই।" নবীজি (সা.) বললেন: أَوَقَدْ وَجَدْتُمُوهُ؟ "তোমরা কি সত্যিই তা পাও?" তারা বললেন, হ্যাঁ। নবীজি (সা.) বললেন: ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ — "এটাই খাঁটি ঈমানের প্রমাণ।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩২; সহিহ বুখারি, হাদিস ১১৪)
ইমাম নববী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন—শয়তান যখন দেখে মানুষ তার ধোঁকায় পড়ছে না, তখন সে ওয়াসওয়াসা ঢালে; আর মানুষ তা ঘৃণা করে ও প্রতিরোধ করে—এটাই ঈমানের দৃঢ়তার প্রমাণ। (শরহু সহিহ মুসলিম, খণ্ড ২, পৃ. ১৭০)
ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (খণ্ড ১, পৃ. ৪৪৭) ও ফাতাওয়া আলমগিরি-তে (খণ্ড ২, পৃ. ২৭৬) স্পষ্ট করেছেন—মনের ভেতরের ওয়াসওয়াসা যতক্ষণ মুখে উচ্চারণ বা অন্তরে বিশ্বাস হিসেবে স্থির না হয়, ততক্ষণ তা কুফর নয়।
২. আপনার প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
(ক) হাতের সাইন (🤘) ও কুলক্ষণ বিশ্বাস
এটি কুফর নয়, বরং শিরকের একটি প্রকার (শিরকে আসগার) ছিল—যদি আপনি সেগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে ক্ষতিকর/উপকারী মনে করে থাকেন। তবে আপনি তা না জেনে করেছেন এবং পরে তাওবা করেছেন—ইনশাআল্লাহ মাফ হয়ে গেছে।
নবীজি (সা.) বলেছেন:
الطِّيَرَةُ شِرْكٌ — "কুলক্ষণ বিশ্বাস করা শিরক।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৯১০; মুসনাদে আহমাদ)
তবে আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এর মূলনীতি হলো—অজ্ঞতাবশত সংঘটিত শিরক যদি তাওবার মাধ্যমে প্রত্যাহৃত হয়, তবে আল্লাহ ক্ষমা করেন। আল্লাহ বলেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا — "বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন।" (সূরা যুমার: ৫৩)
এখন করণীয়: কুলক্ষণের চিন্তা আসলে সাথে সাথে বলুন—"লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" এবং মনে করুন—এই জামা বা বস্তুর নিজের কোনো ক্ষমতা নেই; সব আল্লাহর হাতে। হাদিসে কুলক্ষণের চিন্তা দূর করার জন্য এই দুয়া শেখানো হয়েছে:
اللَّهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ (মুসনাদে আহমাদ)
(খ) "আল্লাহ আমার কথায় বড় বড় কাজ ঘটান" — এই ভাবনা
এটি কুফর নয়, বরং এটি ছিল আত্মমুগ্ধতা ও অহংকারের একটি প্রকার, যা মারাত্মক গুনাহ, কিন্তু ঈমান বিনষ্টকারী নয়। তবে এতে রিয়া ও উজবের আশঙ্কা থাকে। ইমাম গাজালি (রহ.) ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন-এ বলেছেন—নিজের আমল বা দুয়ার প্রভাবে আল্লাহ কাজ করেন—এটি বিশ্বাস করা ঠিক আছে, কিন্তু "আমার কথায়" বা "আমার শক্তিতে" ভাবা শিরকের দিকে নিয়ে যায়। আপনি এখন যা বুঝছেন, সেটাই তাওবার পথ।
(গ) "আল্লাহর ইবাদতের দরকার নেই, ফেরেশতাদের ইবাদতই যথেষ্ট" — মুফতির কথার ব্যাপারে
এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল ও কুফরির নিকটবর্তী। আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ — "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (সূরা যারিয়াত: ৫৬)
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ — আল্লাহর ইবাদতের প্রয়োজন নেই—এটি ঠিক, কিন্তু আমাদের ইবাদতের প্রয়োজন আছে এবং তা ফরজ। ফেরেশতাদের ইবাদত আমাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নয়—এটি ইসলামবিরোধী কথা। আপনি এই কথাটি বিশ্বাস করবেন না। এই ধরনের কথা যিনি বলেন, তিনি নিজেই ভ্রান্তির মধ্যে আছেন। আপনার উচিত এই মুফতির এই নির্দিষ্ট কথাটি প্রত্যাখ্যান করা, তবে তার অন্যান্য ভালো কথার ব্যাপারে হক্কানি আলেমের সাথে পরামর্শ করা।
আপনার আপুর "আহলে হাদিস" নিয়ে যে কথা বলেছেন—এটি একটি ফিতনার বিষয়। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদা হলো—চার ইমামের অনুসরণ (তাকলিদ) ফরজ, এবং হানাফি মাযহাব অনুসরণ করা আপনার জন্য কর্তব্য। তবে সাধারণ মুসলিমকে "আহলে হাদিস" বলে তাকফির করা বা ভয় দেখানো ঠিক নয়। আপনি হানাফি হিসেবে থাকুন, ফিকহি মাসআলায় হানাফি মাযহাব মানুন, আকীদায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের (মাতুরিদি) আকীদা মানুন। এটাই নিরাপদ পথ।
(ঘ) "নবীজি (সা.) অহংকারী ছিলেন" — এই চিন্তা
এটি কুফর, যদি আপনি তা বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনি বলছেন—এটি আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আসে, আপনি ঘৃণা করেন। সুতরাং এটি ওয়াসওয়াসা, কুফর নয়। নবীজি (সা.)-কে নিয়ে খারাপ চিন্তা শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আপনি এই চিন্তা আসলে বলুন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ এবং "আমি নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসি, তিনি সর্বোত্তম মানুষ" — এই কথাটি মনে মনে দৃঢ় করুন।
(ঙ) "নবীজি মানুষ, তাঁর কথা কেন মানব?" — এই চিন্তা
এটি কুফরির চিন্তা, যদি তা বিশ্বাসে পরিণত হয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন:
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا — "রাসূল যা দেন, তা গ্রহণ কর; যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক।" (সূরা হাশর: ৭)
مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ — "যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।" (সূরা নিসা: ৮০)
কিন্তু আপনি যেহেতু এই চিন্তাকে ঘৃণা করেন এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করেন—এটি ওয়াসওয়াসা, কুফর নয়। ইমাম তাহাবি (রহ.) আল-আকিদাতুত তাহাবিয়্যাহ-তে বলেছেন—রাসূলের আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্যেরই অংশ; রাসূলকে ভালোবাসা ঈমানের শর্ত।
(চ) "নবীজিকে ভালোবাসলে শিরক হবে না তো?" — এই চিন্তা
এটি শয়তানের ধোঁকা। নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসা ঈমানের সর্বোচ্চ শর্ত। নবীজি (সা.) বলেছেন:
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ — "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।" (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৫)
তবে নবীজিকে আল্লাহর সমান মনে করা শিরক—এটি আমাদের আকীদা। নবীজি (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ভালোবাসা ও শিরকের মধ্যে পার্থক্য হলো—ভালোবাসা মানে অনুসরণ ও সম্মান; শিরক মানে আল্লাহর গুণাবলি তাকে দেওয়া। আপনি শুধু ভালোবাসুন ও অনুসরণ করুন—এতে শিরক নেই।
(ছ) "আল্লাহ কি তার মত কাউকে সৃষ্টি করতে পারবেন?" — এই প্রশ্ন
এই ধরনের প্রশ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) আল-ফিকহুল আকবার-এ বলেছেন—আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) মাখলুকের সিফাতের মতো নয়; আল্লাহর "কুদরত" (ক্ষমতা) অসীম। "আল্লাহর মত কেউ" —এই কল্পনা করা যায় না, কারণ আল্লাহর কোনো সমতুল্য নেই:
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ — "তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই।" (সূরা শুরা: ১১)
এই প্রশ্ন আসলে উত্তর দিতে যাবেন না; বরং বলুন: "আমি আল্লাহর সিফাতে চিন্তা করব না; আমি তাঁর ইবাদত করব।" নবীজি (সা.) বলেছেন:
تَفَكَّرُوا فِي خَلْقِ اللَّهِ وَلَا تَفَكَّرُوا فِي اللَّهِ — "আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা কর, আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তা করো না।" (মুসনাদে আবু ইয়ালা; মিশকাত, হাদিস ৫০)
(জ) "অন্য জগতের সৃষ্টিকর্তা অন্য কেউ?" — এই চিন্তা
এটি স্পষ্ট কুফর, যদি বিশ্বাস করা হয়। আল্লাহ বলেন:
اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ — "আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা।" (সূরা যুমার: ৬২)
কিন্তু আপনি এই চিন্তাকে ঘৃণা করেন, বিশ্বাস করেন না—এটি ওয়াসওয়াসা। ইমাম তাহাবি (রহ.) বলেছেন—আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এই আকীদা ব্যতীত ঈমান নেই। আপনি এই আকীদায় দৃঢ় থাকুন।
(ঝ) "গুনাহ ছাড়লেই আল্লাহ মাফ করে দেবেন, মাফ চাওয়ার দরকার নেই" — এই চিন্তা
এটি ভুল আকীদা ও অহংকার। তাওবা তিনটি শর্তে হয়: (১) গুনাহ ছাড়া, (২) অনুতাপ, (৩) আর না করার দৃঢ় সংকল্প। ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৪) বলেছেন—তাওবা ব্যতীত গুনাহ মাফ হয় না; আর তাওবার জন্য ইস্তিগফার জরুরি। আল্লাহ বলেন:
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ — "হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর।" (সূরা নূর: ৩১)
আপনার এই চিন্তাটি অহংকারের ছিল—এখন আপনি বুঝেছেন, এটি তাওবার বিষয়। আলহামদুলিল্লাহ, আপনি এখন সঠিক পথে আছেন।
(ঞ) "আল্লাহর উপর রাগ" — এই চিন্তা
এটি কুফর, যদি ইচ্ছাকৃত ও বিশ্বাসসহ হয়। কিন্তু আপনি বলছেন—এটি আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আসে, আপনি "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলেন। এটি ওয়াসওয়াসা। শয়তান চায় মানুষ আল্লাহর প্রতি রাগান্বিত হোক। আপনি এই চিন্তা আসলে বলুন:
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ এবং "আমি আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট, আল্লাহ আমার উপর সন্তুষ্ট" — এই দুয়া পড়ুন।
(ট) "মাফ চেয়ে ফেলেছি, এখন আল্লাহ মাফ না করে কোথায় যাবেন" — এই চিন্তা
এটি অহংকার ও কুফরির নিকটবর্তী চিন্তা, যদি বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু আপনি "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলেছেন—সুতরাং এটি ওয়াসওয়াসা। আল্লাহর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; তিনি দয়া করে মাফ করেন। আপনি এই চিন্তা আসলে বলুন:
**"আল্লাহ দয়ালু, তিনি স্বেচ্ছায় মাফ করে দিবেন।