প্রাপ্তবয়স্কা নারীর অভিভাবকের অজান্তে বিয়ে, কাজীর মাধ্যমে নিকাহ।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
অভিভাবককে না জানিয়েই একজনের সঙ্গে বিয়ে করি। পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে করতে পারতাম। কিন্তু ছেলের পরিবার থেকে চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না। আর আমাদের দুজনেরই বয়স ২৩ বছর।
এজন্য আমরা বিয়েটা করে রাখি। কারণ, সম্পর্কটা হালাল বানাতে চাচ্ছিলাম। পরে সময়মতো পরিবারের অনুমতি নিয়ে সংসার শুরু করব, ইনশাআল্লাহ।
তো, বিয়েটা আমাদের এক পরিচিত ভাই ছিলেন, উনি করাতে সাহায্য করেন। ওনার এক ফ্রেন্ড ছিলেন, যিনি কাজীর দায়িত্ব পালন করেন। বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়, আমরা সাক্ষর করি।
আর পরিচিত বড় ভাইিট আমাদের বিয়েতে উকিল বাপ এট ভূমিকা পালন করেন। আর সাক্ষী হিসেবে যতজনের প্রয়োজন, তাঁরা বিয়ে পড়ানোর সময় সেখানেই ছিলেন। তাঁরা বিয়ে পড়ানোর সময় সবকিছু দেখেছেন। আর দেনমোহরও ধার্য করা হয় ৩ লাখ ১০১ টাকা।
এখন সমস্যা হচ্ছে, বিয়েতে আলাদাভাবে কবুল বলতে বলা হয়নি বা শেষে দোয়া করা হয়নি।
এতে কি ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়েটা জায়েজ হবে না?
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রশ্নে উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী—আপনাদের উভয়ের সম্মতিতে, অভিভাবকের অজান্তে হলেও, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে, কাজী/উকিলের মাধ্যমে দেনমোহর (৩,১০১ টাকা... সম্ভবত ৩ লক্ষ ১০১ টাকা) নির্ধারণ করে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয়ে সাক্ষর করেছেন। এখন জানতে চাচ্ছেন—আলাদাভাবে "কবুল" বলা হয়নি বা শেষে দোয়া করা হয়নি—এতে কি বিয়ে শরিয়ত মোতাবেক জায়েজ হবে না?
উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত বিবাহে ইজাব কবুল হয়নি,শুধুমাত্র বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে, আপনারা তাতে সাক্ষর করেছেন,শুধু এতটুকুর দ্বারা বিবাহ সম্পন্ন হয়না।
তাই শরীয়ত সম্মত পন্থায় পুনরায় বিবাহ পড়িয়ে নিবেন।
বিয়ে (নিকাহ) সহীহ হওয়ার শর্তসমূহ
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য মূল শর্তগুলো হলো:
- ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) — এক পক্ষ প্রস্তাব দেবে, অন্য পক্ষ গ্রহণ করবে।
- দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান মুসলিম সাক্ষী উপস্থিত থাকা (পুরুষ অথবা এক পুরুষ ও দুই নারী)।
আদ-দুররুল মুখতার (রাদ্দুল মুহতার), খণ্ড ৩, কিতাবুন নিকাহ:
"الإيجاب والقبول ينعقدان بكل ما يدل على الرضا"
অর্থ: ইজাব ও কবুল এমন প্রতিটি বাক্য দ্বারা সম্পন্ন হয় যা সম্মতি প্রকাশ করে।