কোনো পুরুষ কি কামভাব ছাড়া বিনা প্রয়োজনে নারীর দিকে তাকাতে পারবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 690
Questioner: أمة الله
Question Asked: 24 May 2026, 04:56 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 05:03 PM
Views: 83
Tokens: 2,567
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোনো পুরুষ কি কামভাব ছাড়া বিনা প্রয়োজনে নারীর দিকে তাকাতে পারবে? আমি পড়কাম ইমাম আবু হানিফা রহ নাকি এটা জায়েজ বলেছেন। ফেতনার আশংকা না থাকলে কামভাব ছাড়া দেখা যাবে। এটা কি সঠিক?

Answer

উত্তর:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কোনো প্রয়োজন বা শরয়ি কারণ ছাড়া কামভাব না থাকলেও অপরিচিত নারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয়। বরং দৃষ্টি অবশ্যই সংযত রাখতে হবে। এ বিষয়ে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের কিতাবগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।


প্রধান দলিল:

কুরআন:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবগত।" (সূরা আন-নূর, ২৪:৩০)
এ আয়াতে পুরুষদের সাধারণভাবে দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো শর্ত ছাড়া।

হাদিস:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমরা দৃষ্টির যিনা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ দৃষ্টির যিনা চোখের দৃষ্টি।" (বুখারি, মুসলিম)
এ হাদিসে কামভাব বা ফেতনার শর্ত না দিয়ে সাধারণভাবে দৃষ্টিকে "যিনা" বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।


ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতামত:

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন অপবাদ বলা চলে। বাস্তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং তার অনুসারী ফকিহগণ দৃষ্টি সংযত করাকে ফরজ বলেছেন।

  • রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের বিশ্বকোষ)-এ বলা হয়েছে:
    "অপরিচিত নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হারাম, যদিও কামনার আশঙ্কা না থাকে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: 'প্রথম দৃষ্টি মাফ, দ্বিতীয় দৃষ্টি ইচ্ছাকৃত, তাই নিষিদ্ধ'।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৭)

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগিরি)-তে আছে:
    "অপরিচিত নারীর দিকে কামনা-বাসনা ছাড়া তাকানোও জায়েজ নয়, যদি এর মধ্যে ফেতনার আশঙ্কা থাকে বা তা শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণ হয়।"

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভি):
    "ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, অপরিচিত নারীর দিকে কেবল দৃষ্টি দেওয়া হারাম। 'প্রথম দৃষ্টি মাফ' বলতে বুঝানো হয়েছে অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি কখনো জায়েজ নয়।"


সঠিক ব্যাখ্যা:

কেউ কেউ ভুলবশত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নামে বলে থাকেন যে, "ফেতনার আশঙ্কা না থাকলে কামভাব ছাড়া দেখা যাবে।" এটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাবে:

  • প্রথম অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি (যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়) ক্ষমার যোগ্য।
  • ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি (দ্বিতীয় বার) কামনা-বাসনা ছাড়াও হারাম।
  • প্রয়োজন (যেমন চিকিৎসা, বিচার বা কেনাবেচা) ছাড়া কোনো নারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয়।

হানাফি ফকিহদের মতামত:

  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.): দ্বিতীয় দৃষ্টিও নিষিদ্ধ, প্রথম দৃষ্টি শুধু অনিচ্ছাকৃত হলে মাফ।
  • ইবন আবিদিন (রহ.): "অপরিচিত নারীর দিকে ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি দেওয়া হারাম, যদিও ফেতনার আশঙ্কা না থাকে।" (রদ্দুল মুহতার)
  • মুফতি মুহাম্মদ শাফি (রহ.): "দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ সাধারণ, কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই।" (মা’আরিফুল কুরআন)

সতর্কতা:

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া শয়তানের পথে প্রথম পদক্ষেপ। কামনা-বাসনা না থাকলেও অভ্যাসগত দৃষ্টি ধীরে ধীরে পাপের দিকে নিয়ে যায়। তাই হাদিসে দৃষ্টিকে "শয়তানের তীর" বলা হয়েছে। (তিরমিজি)


সারসংক্ষেপ:

  • প্রশ্নে উল্লেখিত মতামতটি ভিত্তিহীন।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে: অপরিচিত নারীর দিকে ইচ্ছাকৃত দৃষ্টি হারাম, তা কামস্পৃহা থাকুক বা না থাকুক।
  • প্রথম অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি ক্ষমাযোগ্য, দ্বিতীয় দৃষ্টি ইচ্ছাকৃত হওয়ায় নিষিদ্ধ।
  • প্রয়োজন (যেমন ডাক্তারি পরীক্ষা, সাক্ষ্য ইত্যাদি) ছাড়া দৃষ্টি সংযত করাই প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দৃষ্টির হেফাজত করার তাওফিক দিন।


রেফারেন্স:

  • কুরআন (সূরা আন-নূর: ৩০)
  • সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২৪৩
  • রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৭
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৪২৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২০৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.