হবু স্বামীর সালামের জবাব, তার দেওয়া মোবাইল ফোন ও টাকা ব্যবহারের ইসলামী বিধান।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
প্রশ্ন:১)কোনো মেয়ের যদি বিয়ে ঠিক করা থাকে, আর তার হবু স্বামী মেসেজের মাধ্যমে, "সালাম প্রদান করে, কেমন আছি জিজ্ঞাসা করে।"
তাহলে তার সালামের জবাব দেওয়া যাবে কি?
কনে ডিভোর্সী আর ছেলে অবিবাহিত। কনের মা বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা দ্বীনহীন । তারা চায় কনে , হবু স্বামীর সাথে কথা বলুক। কনে নিজে থেকে হবু স্বামীর সাথে কথা বলেনা, ইসলাম মেনে।
অন্যদিকে হবু স্বামীর দেওয়া ফোন , কনে ব্যবহার করে। হবু স্বামী ফোন দেওয়ার সময় কি হিসেবে ফোনটা দিয়েছে , তা কনে জানেনা। ফোন দেওয়ার পরে , হবু স্বামী মেসেজ দিয়ে বলেছিল "কনে যেন ফোনটা ব্যবহার করে, তাহলে সে (হবু স্বামী) খুশি হবে" । জবাবে কনে বলেছিল "ঠিকআছে ইনশাআল্লাহ" অর্থাৎ ফোনটা কনে ব্যবহার করবে , এটা বুঝিয়েছিল ।
তারপরেও কনে হবু স্বামীর দেওয়া ফোন ব্যবহার করেনি । পরবর্তীতে কয়েক মাস পরে , কনের বাবার দেওয়া মোবাইল, বড় ভাই নিয়ে নেওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে। হবু স্বামীর দেওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেন।
কনে এবং হবো স্বামীর বিয়ে ঠিক যেদিন হয়, সেদিন আখতের মতো করে, একজন ইমাম কে দিয়ে , সাথে উকিল হিসেবে মামাকে রেখে ,ভিডিও কলের মাধ্যমে হবু স্বামীকে কবুল পড়ানো হয়েছিল, এবং কনেকে ও কবুল পড়ানো হয়েছিল।
এ হিসেবে হবু শশুরবাড়ির লোকেরা+ কনের বাড়ির লোকেরা মনে করে যে আখত হয়ে গিয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজের অবস্থা এমন হয়েছে যে,"ভিডিও কলের মাধ্যমে বিবাহ পড়ানো হলেই ,মনে করা হয় যে ছেলে মেয়ে তারা স্বামী স্ত্রী হয়ে গেছে। এবং একে অপরের সাথে কথা বলা শুরু করে।
এখন প্রশ্ন হলো:- হবু স্বামী হাদিয়া হিসেবে ফোনটা দিয়েছে নাকি অন্য কিছু হিসেবে দিয়েছে সেটা কনের জানা নাই।
হবু স্বামীকে মেসেজের মাধ্যমে জানাতে গেলে ও কথা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
প্রশ্ন:২) এই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কি কনের জন্য জায়েজ হবে ?
হবু স্বামী ঈদের সময় বা বাড়িতে টাকা পাঠালে কনের জন্য ও কিছু টাকা তার(হবু স্বামীর) মায়ের মাধ্যমে আমাদের বাসায় পাঠায় । ঐ টাকা কনে নিজের কাছে রেখে দেয় + খরচ করে।
ঐ টাকাটা হবু স্বামী হাদিয়া হিসেবে দিয়েছে ধরে, টাকাটা রাখে। হবু স্বামী কনেকে যে পরিমাণ টাকা পাঠায় , ঠিক একই পরিমানে টাকা তার ভাইয়ের বউদের ও দেয়।
মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে টাকা না রাখলে আবার না জানি কোন জামেলা পেকে যায়, এজন্য রেখে দেয়। কিন্তু যেহেতু হবু স্বামী চায়, কনে তার(হবুর স্বামীর ) সাথে কথা বলুক ।সেহেতু প্রশ্ন জাগে সে হয়তো , কনেকে স্ত্রী হিসেবে ভেবে টাকা পাঠায়।
৩)এখন প্রশ্ন হলো: হবু স্বামীর দেওয়া টাকা কি কনের রাখা জায়েজ হবে? কনে জানেনা হবু স্বামী কি হিসেবে টাকা পাঠায়।
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্ন:১)কোনো মেয়ের যদি বিয়ে ঠিক করা থাকে, আর তার হবু স্বামী মেসেজের মাধ্যমে, "সালাম প্রদান করে, কেমন আছি জিজ্ঞাসা করে।" তাহলে তার সালামের জবাব দেওয়া যাবে কি?
জবাবঃ- জায়েজ নেই।
প্রশ্ন:২) এই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কি কনের জন্য জায়েজ হবে ?
জবাবঃ- বৈধ কাজে ব্যবহার জায়েজ হবে। ফিতনার আশংকা থাকলে তাহা ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা।
৩)এখন প্রশ্ন হলো: হবু স্বামীর দেওয়া টাকা কি কনের রাখা জায়েজ হবে? কনে জানেনা হবু স্বামী কি হিসেবে টাকা পাঠায়।
জবাবঃ- এটি ঘুষ না হলে তাহা রাখা জায়েজ হবে।
★প্রশ্নের বিবরণ মতে তাদের বিবাহ শুদ্ধ হয়নি।
-
হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করা সুন্নত, যদি তা হালাল হয় এবং গ্রহীতার উপর কোনো শর্ত আরোপ না থাকে।
-
কিন্তু শর্তসহ হাদিয়া—যেমন "এই ফোন ব্যবহার করলে আমি খুশি হব"—এটি মূলত একটি প্রেরণা/শর্ত। শরীয়তে হাদিয়া গ্রহণের পর তা ব্যবহার বা না ব্যবহার করা গ্রহীতার ইচ্ছাধীন। তবে শর্ত আরোপ করে হাদিয়া দেওয়া এবং তা পালন না করলে দাতার অসন্তুষ্টি—এটি নৈতিকভাবে অনুচিত হলেও ফোনটি নিজে ব্যবহার করা নিজস্ব মালিকানা হিসেবে জায়েজ।
-
তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে—যেমন দাতা এর মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ নিতে চায়—তাহলে ফোনটি ফেরত দেওয়া বা ব্যবহার না করাই উত্তম।
ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ৩, পৃ. ৪২৭-এ উল্লেখ আছে:
«الهدية إذا كانت مشروطة بشرط لا يلزم الوفاء به إلا إذا كان شرطاً صحيحاً، والهدية تصير ملكاً للمهدى إليه بالقبض»
অর্থ: "শর্তযুক্ত হাদিয়া দিলে সেই শর্ত পালন করা আবশ্যক নয় (যদি শর্তটি শরীয়তসম্মত না হয়), এবং হাদিয়া কবজা করার মাধ্যমে গ্রহীতার মালিকানা হয়ে যায়।"