হালাল আয় রোজগার

Halal and Haram · Maliki

Question No: 68
Questioner: Sabrina Akter
Question Asked: 13 May 2026, 11:34 PM
Reviewed & Published: 14 May 2026, 12:59 AM
Views: 67
Tokens: 1,747
This answer is according to the 'Maliki' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয় হালাল না হলে এইক্ষেত্রে মেয়েদের করনীয় কী?

Answer

উত্তর (মালিকি মাযহাব অনুযায়ী)

প্রশ্ন: পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয় হালাল না হলে এই ক্ষেত্রে মেয়েদের করণীয় কী?

উত্তর:

মালিকি মাযহাব অনুসারে, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি (স্বামী, পিতা, ভাই ইত্যাদি) যদি হারাম উপায়ে অর্থ উপার্জন করে, তবে পরিবারের সদস্যদের (বিশেষত স্ত্রী ও কন্যাদের) জন্য সেই অর্থ গ্রহণ করা ও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (হারাম) নয় যদি তারা জোরপূর্বক বা অজ্ঞাতসারে গ্রহণ করে। তবে যদি তারা জানতে পারে যে আয় হারাম, তাহলে তাদের করণীয় নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর।

১. যদি নারী নিজে উপার্জনক্ষম বা নিজের সম্পদ থাকে:

  • মালিকি মাজহাব অনুসারে, স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ (যেমন মোহরানা, উপহার, বা নিজের উপার্জন) তার মালিকানায় থাকে। স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যের হারাম আয় তাকে নিজের সম্পদ ব্যবহার করতে বাধা দেয় না। তবে পরিবারের হারাম আয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা উচিত।
  • করণীয়: নিজের হালাল সম্পদ থেকে নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন মেটানো। যদি সম্ভব হয়, আলাদা খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। (সূত্র: আল-মুদাওওয়ানা আল-কুবরা, ইমাম মালিক; বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ইবনে রুশদ)

২. যদি নারী সম্পূর্ণরূপে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হয় এবং তার কাছে কোনো বিকল্প না থাকে:

  • যদি নারী বুঝতে পারে যে স্বামী/পিতার আয় হারাম, কিন্তু সে যদি না খেয়ে থাকার মতো অবস্থায় থাকে, তবে কিছু কিছু মালিকি ফকীহ বলেছেন যে, প্রয়োজনের তাগিদে (যা না খেয়ে মারা যাওয়া রোধ করতে) সেই হারাম অর্থ গ্রহণ করা জায়েয, তবে শর্ত হলো- (ক) তা না নিলে তার জীবন বিপন্ন হবে, (খ) অন্য কোনো হালাল উপায় নেই।
  • করণীয়:
    • প্রথমে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হালাল উপার্জনের উপদেশ দেওয়া এবং তাকে হারাম থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা।
    • যদি সে না শোনে, তাহলে যতটা সম্ভব নিজে উপার্জনের চেষ্টা করা (যেমন হালাল কাজ করা, সেলাই, শিক্ষাদান ইত্যাদি)।
    • যদি কোনোভাবেই সম্ভব না হয়, তাহলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনমতো গ্রহণ করা জায়েয, তবে অন্তরে ঘৃণা রাখা। (সূত্র: আল-যাখিরা, আল-কারাফী; হাশিয়াত আল-দাসুকী)

৩. সাধারণ নীতি:

মালিকি ফিক্হে মূলনীতি হলো: হারাম উপার্জন তার (উপার্জনকারীর) জন্যই হারাম, অন্যদের জন্য নয় যদি তারা অজ্ঞ বা জোরপূর্বক গ্রহণ করে।

  • যদি কোনো নারী জানেন যে তার স্বামী হারাম উপায়ে অর্থ আনে, তবে তিনি সেই অর্থ নিজের ইচ্ছায় গ্রহণ করলে গুনাহগার হবেন।
  • মেয়েদের করণীয়:
    • সর্বদা হালাল উপায়ে জীবনযাপনের চেষ্টা করা।
    • উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নসীহত করা।
    • নিজে হালালভাবে উপার্জনের চেষ্টা করা।
    • বিপদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনমত গ্রহণ করা জায়েয।
    • সবচেয়ে ভালো হলো আলাদা থাকার চেষ্টা করা এবং আলাদা হালাল খাবার খাওয়া। (সূত্র: মুয়াত্তা মালিক; আল-রিসালা, ইবনে আবী যাইদ আল-কাইরাওয়ানী)

চূড়ান্ত কথা: মালিকি মাজহাব অনুযায়ী, কোনো নারী যদি নিজের ইচ্ছায় হারাম অর্থ গ্রহণ করে তবে সে গুনাহগার হবে। কিন্তু যদি সে না জানে বা বাধ্য হয় (জীবন বাঁচাতে), তবে তার ওপর গুনাহ নেই। পরিবারের সদস্যদের কর্তব্য হলো যথাসম্ভব হালাল পথে আয় করা এবং আল্লাহকে ভয় করা।


SEO তথ্য:

Meta Description:
মালিকি মাজহাব অনুসারে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আয় হালাল না হলে মেয়েদের করণীয় কী? জানুন কুরআন, সহিহ হাদীস এবং মালিকি ফিকহের আলোকে স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য নির্দেশনা।

SEO Keywords:
হারাম উপার্জন, মালিকি ফিকহ, মেয়েদের করণীয়, হারাম আয় থেকে বাঁচার উপায়, মালিকি মাজহাবের ফতোয়া, স্ত্রীর জন্য হালাল রিজিক, পিতার হারাম আয়, মালিকি ফিকহে নারীর অধিকার

SEO Search Phrases (যা ব্যবহারকারী গুগলে সার্চ করতে পারেন):

  • স্বামীর আয় হারাম হলে স্ত্রীর করণীয় কী
  • পিতার উপার্জন হারাম হলে কন্যা কী করবে
  • হারাম উপার্জনে পরিবার চলে কি
  • মালিকি মাজহাবে হারাম টাকা খাওয়ার বিধান
  • স্ত্রীর জন্য স্বামীর হারাম টাকা খাওয়া কি জায়েজ
  • পরিবারের উপার্জন হালাল না হলে করণীয় ইসলামিক ফতোয়া

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.