তিন তালাকের পর স্বামী-স্ত্রীর একসাথে বসবাস, ভরণপোষণ, ঘরের কাজ, এবং ইমান সম্পর্কিত বিধান।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Husband wife dujonoi jane tader somporko haram hoye gese Shudhu soto ekta sonataner jonno tara sobar kase husband wife seje boshobash korse r tara kono saririk somporko korbe na wada korse.
Sontaner ma ke jodi sontaner baba voronposhon dei tate ki dujoner gunnah ba haram hobe?
Iman ki chole jabe?
Sontaner ma jodi tar sabek shamir bashar jabtio sokol kaj ranna banna sontaner babar kapor dhowa tar sabek shamir ma ke.dekha shuna.kore tar sabek shami jodi kapor o onnonano jinish.kine.dei medicine ro onek kisu
Sontaner ma jodi tar sabek. Shamir kase kisu chai
Tahole gunnah hobe r iman ki chole jabe?
Amra kono vabei alada.hote parsi ghorer manush bairer manush sobar kase gopon rekhesi bepar ta
Answer
তিন তালাকের পর একসাথে বসবাস: ইমান ও গুনাহের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
- তিন তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী একসাথে বসবাস করছে, বিষয়টি সন্তানের স্বার্থে সবার কাছে গোপন রেখেছে, শারীরিক সম্পর্ক না করার ওয়াদা করেছে — এতে কি ইমান চলে যাবে?
- সন্তানের মা-কে সন্তানের বাবা ভরণপোষণ দিলে কি উভয়ের গুনাহ হবে? ইমান কি চলে যাবে?
- সন্তানের মা সাবেক স্বামীর ঘরের সমস্ত কাজ (রান্না-বান্না, কাপড় ধোয়া), সাবেক শাশুড়ির দেখাশোনা করছে; সাবেক স্বামী কাপড়, ঔষধ, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিচ্ছে; সন্তানের মা সাবেক স্বামীর কাছে কিছু চাইলে — এতে কি গুনাহ হবে? ইমান কি চলে যাবে?
প্রথম বিষয়: তিন তালাকের পর একসাথে বসবাস
বিধান
তিন তালাক পূর্ণ হলে স্ত্রী স্বামীর উপর চিরতরে হারাম হয়ে যায়। এই অবস্থায় উভয়ের জন্য একত্রে বসবাস করা, নির্জনতা (খালওয়া) করা, বা পর্দা ছাড়া মেলামেশা করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
"অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয় (তৃতীয় তালাক), তবে সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।" — (সূরা বাকারা: ২৩০)
ইমান সম্পর্কে
তিন তালাকের পর একসাথে বসবাস করা বা গোপন রাখা — এতে ইমান চলে যায় না,
যতক্ষণ না তারা তালাককে হালাল মনে করে বা হারামকে হালাল বলে বিশ্বাস করে।
তবে এটি কবিরা গুনাহ এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:
"তিন তালাকের পর স্ত্রী স্বামীর জন্য সম্পূর্ণ হারাম। তাদের একত্রে বসবাস করা, স্পর্শ করা, দেখা-সাক্ষাৎ করা — সবই হারাম।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৬০)
দ্বিতীয় বিষয়: সন্তানের ভরণপোষণ
বিধান
তিন তালাকের পরও সন্তানের ভরণপোষণ (নফকা) পিতার উপর ওয়াজিব থাকে। সন্তান যদি তাদের হয়, তাহলে সন্তানের খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসা — সবই পিতার দায়িত্ব।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"সন্তানের পিতার উপর সন্তানের মায়ের খাদ্য ও পোশাকের দায়িত্ব রয়েছে যথাবিধি।" — (সূরা বাকারা: ২৩৩)
তবে শর্ত
- সন্তানের জন্য খরচ করলে গুনাহ নেই, বরং সওয়াব হবে।
- সন্তানের মায়ের জন্য (যেহেতু সে এখন পরকীয়া) সরাসরি খরচ করা বা তাকে ভরণপোষণ দেওয়া — জায়েজ নয়, কারণ ইদ্দত শেষ হলে সে পরকীয়া।
- তবে সন্তানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সাহায্য করা যেতে পারে, যদি তা সন্তানের প্রয়োজন পূরণের জন্য হয়।
ইমাম তাহতাবী (রহ.) বলেন:
"তালাকের পর সন্তানের নফকা পিতার উপর ওয়াজিব, কিন্তু স্ত্রীর নফকা ওয়াজিব নয় (ইদ্দত শেষ হলে)।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৬১৭)
ইমান সম্পর্কে
সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া বা নেওয়া — এতে ইমান চলে যায় না। এটি গুনাহ নয়। বরং বাবার উপর এটি দায়িত্ব।
তৃতীয় বিষয়: ঘরের কাজ, কাপড় ধোয়া, দেখাশোনা, কেনাকাটা
বিধান
তিন তালাকের পর:
| কাজ | বিধান | |---|---| | সাবেক স্বামীর ঘরের রান্না-বান্না করা | হারাম | | সাবেক স্বামীর কাপড় ধোয়া | হারাম | | সাবেক শাশুড়ির দেখাশোনা করা | জায়েজ (মাহরাম নয়, তবে শাশুড়ি-বউ সম্পর্ক তালাকের পরও থাকে না; তবে সাধারণ সাহায্য করা যেতে পারে) | | সাবেক স্বামী কাপড়, ঔষধ, জিনিস কিনে দেওয়া | হারাম | সাবেক স্বামীর কাছে কিছু চাওয়া | হারাম (যদি স্ত্রী হিসেবে হয়); জায়েজ (যদি সন্তানের জন্য হয়) |
ইমাম সারাখসী (রহ.) বলেন:
"তালাকের পর স্ত্রী পরকীয়া। তার জন্য স্বামীর ঘরে থাকা, তার খিদমত করা, তার কাছ থেকে উপহার নেওয়া — সবই হারাম।" — (আল-মাবসুত, খণ্ড ৬, পৃ. ১৪)
ইমান সম্পর্কে
এই কাজগুলো করলে ইমান চলে যায় না, তবে কবিরা গুনাহ হয়। যদি তারা বিশ্বাস করে যে এটি হালাল, তাহলে কুফরি হবে এবং ইমান চলে যাবে।
করণীয়
- অবিলম্বে পৃথক বাসস্থান গ্রহণ করা। একসাথে বসবাস করা সম্পূর্ণ হারাম।
- সন্তানের ভরণপোষণ পিতার উপর ওয়াজিব — তা সন্তানের মাধ্যমে দেওয়া-নেওয়া করা।
- তাওবা ও ইস্তেগফার করা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
- হালাল উপায় অবলম্বন করা — হয় অন্যত্র বিবাহ, অথবা পৃথক থাকা।
- গোপন রাখা পরিহার করা — কারণ এটি মিথ্যা ও প্রতারণা, যা আরও গুনাহ।
সতর্কতা
তিন তালাকের পর একসাথে বসবাস করা কবিরা গুনাহ। যদি কেউ এটিকে হালাল মনে করে, তাহলে কুফরি হবে এবং ইমান চলে যাবে। কিন্তু শুধু স্বামীর বাসায় বসবাস ও স্বামীর খেদমত/কাজ করলে ইমান যায় না, তবে গুনাহ হয় এবং জাহান্নামের শাস্তির ভয় রয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
"যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।" — (সূরা আহযাব: ৩৬)
রেফারেন্স
- সূরা বাকারা: ২৩০, ২৩৩
- সূরা আহযাব: ৩৬
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৬০, ৬১৭
- আল-মাবসুত, খণ্ড ৬, পৃ. ১৪
- ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ৩৪৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ২৮৯
- বেহেশতী জেওর, খণ্ড ১, পৃ. ২৩০