কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার পর মৌখিকভাবে শর্ত আরোপ করা হয় কি না?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6726
Questioner: Md Yousuf Ali
Question Asked: 11 Oct 2026, 07:19 AM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 07:30 AM
Views: 12
Tokens: 6,641
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আপনার কথা অনুযায়ী, আপনার কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার ঘরে “হ্যাঁ” লেখা আছে এবং শর্তের জায়গায় লেখা আছে “দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে”। তো মাঝে মধ্যে আমার স্ত্রী আমাকে বলে যে তুমি যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলে আমি বাবের বাড়ি চলে যাবো, বা তুমি যদি অমুক মেয়ের সাথে কথা বলো আমি রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। তো আমি ভাবতাম, ধারণা ছিল যে ওর অধিকার আছে, দেওয়া আছে এবং সে যদি এইভাবে কোনো কথা বলে আর আমি যদি সে শর্ত না মানতে পারি, আমি যদি ভুল করে কাজটা করে ফেলি তাহলে মনে হয় আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে। আমি এটা ভাবতাম। তো এই জিনিসটা আমি তাকে একদিন আমি ভয় পাই যে এরকম কথা যেন সে ফার্তটা না বলে। সেজন্য আমি যেটা ভাবতাম সে নিয়মটা আমি তাকে বোঝানোর জন্য আমি বলেছিলাম যে তুমি যদি shর্তটা, তুমি যদি এরকম শর্ত দাও, এরকম শর্ত দেওয়া শর্ত যদি আমি ঠিকঠাক পালন করতে না পারি, কাজগুলো করে ফেলি তাহলে হয়তো আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে বা তালাক হয়ে যাবে। এই কথা আমি তাকে বলেছি নিয়মটা বোঝানোর জন্য ইসলামিক যেরকম শাসন বা নিয়ম সেটা বোঝানোর জন্য , তাকে কোনো শর্ত আরোপ করার জন্য আমি এই কথা বলিনি। কিন্তু তার পরেও কি আমার পক্ষ থেকে এটা শর্ত আরোপ করা হয়ে যায়?

Answer

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার ঘরে "হ্যাঁ" লেখা আছে এবং শর্তের জায়গায় লেখা আছে "দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে"। এখন প্রশ্ন হলো—আপনি কি আপনার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে কোনো শর্ত আরোপ করেছেন? আপনি তাকে শুধু নিয়ম বোঝানোর জন্য বলেছিলেন যে, "তুমি যদি এরকম শর্ত দাও এবং আমি তা পালন করতে না পারি, তাহলে হয়তো আমাদের তালাক হয়ে যাবে।" কিন্তু আপনি তাকে কোনো শর্ত আরোপ করার নিয়তে এই কথা বলেননি। তাহলে কি আপনার পক্ষ থেকে শর্ত আরোপ করা হয়ে গেল?


প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়ে যাবেনা।

রাদ্দুল মুহতার* (ইবনে আবিদিন) গ্রন্থে বলা হয়েছে:

"لا بد في التفويض من النية والإرادة" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩২২)

কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার অর্থ হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে এই ক্ষমতা দিয়েছেন যে, স্ত্রী নিজেই নিজের উপর তালাক পতন ঘটাতে পারবে। এটাকে ফিকহের পরিভাষায় "তাফবিজ" বা "তালাক-ই-তাফবিজ" বলা হয়।

আল-হিদায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: "وإذا فوض الرجل إلى امرأته أمر الطلاق فلها أن تطلق نفسها" (আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুত তাফবিজ)

অর্থাৎ, পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে, তাহলে স্ত্রীর জন্য নিজেকে তালাক দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

আপনার বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য

আপনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে শর্ত আরোপ করার নিয়তে কথা বলেননি; বরং তাকে নিয়ম বোঝানোর জন্য বলেছিলেন। ইসলামি ফিকহে "আল-উমুর বি-মাকাসিদিহা" (কাজের মূল্যায়ন তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী) একটি মূলনীতি। তাই আপনার উদ্দেশ্য যেহেতু শর্ত আরোপ করা ছিল না, বরং বোঝানো ছিল, তাই আপনার পক্ষ থেকে শর্ত আরোপ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

উসুল আল-শাশী গ্রন্থে বলা হয়েছে: "الأمور بمقاصدها" (উসুল আল-শাশী, পৃষ্ঠা ১৩)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.