কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার পর মৌখিকভাবে শর্ত আরোপ করা হয় কি না?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার ঘরে "হ্যাঁ" লেখা আছে এবং শর্তের জায়গায় লেখা আছে "দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে"। এখন প্রশ্ন হলো—আপনি কি আপনার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে কোনো শর্ত আরোপ করেছেন? আপনি তাকে শুধু নিয়ম বোঝানোর জন্য বলেছিলেন যে, "তুমি যদি এরকম শর্ত দাও এবং আমি তা পালন করতে না পারি, তাহলে হয়তো আমাদের তালাক হয়ে যাবে।" কিন্তু আপনি তাকে কোনো শর্ত আরোপ করার নিয়তে এই কথা বলেননি। তাহলে কি আপনার পক্ষ থেকে শর্ত আরোপ করা হয়ে গেল?
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়ে যাবেনা।
রাদ্দুল মুহতার* (ইবনে আবিদিন) গ্রন্থে বলা হয়েছে:
"لا بد في التفويض من النية والإرادة" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩২২)
কাবিননামায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার দেওয়ার অর্থ হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে এই ক্ষমতা দিয়েছেন যে, স্ত্রী নিজেই নিজের উপর তালাক পতন ঘটাতে পারবে। এটাকে ফিকহের পরিভাষায় "তাফবিজ" বা "তালাক-ই-তাফবিজ" বলা হয়।
আল-হিদায়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: "وإذا فوض الرجل إلى امرأته أمر الطلاق فلها أن تطلق نفسها" (আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুত তাফবিজ)
অর্থাৎ, পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে, তাহলে স্ত্রীর জন্য নিজেকে তালাক দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
আপনার বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য
আপনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে শর্ত আরোপ করার নিয়তে কথা বলেননি; বরং তাকে নিয়ম বোঝানোর জন্য বলেছিলেন। ইসলামি ফিকহে "আল-উমুর বি-মাকাসিদিহা" (কাজের মূল্যায়ন তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী) একটি মূলনীতি। তাই আপনার উদ্দেশ্য যেহেতু শর্ত আরোপ করা ছিল না, বরং বোঝানো ছিল, তাই আপনার পক্ষ থেকে শর্ত আরোপ হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
উসুল আল-শাশী গ্রন্থে বলা হয়েছে: "الأمور بمقاصدها" (উসুল আল-শাশী, পৃষ্ঠা ১৩)