হায়েজ অবস্থায় শুক্রবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা যাবে কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ অবস্থায় শুক্রবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা যাবে?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) অবস্থায় মহিলাদের জন্য কুরআন তিলাওয়াতের বিধান কী? বিশেষভাবে শুক্রবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করার হুকুম কী? এ বিষয়ে হানাফি মাজহাবের বিস্তারিত বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।
মূল বিধান: হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত
হানাফি মাজহাবের সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রাধান্য বিস্তারকারী মত হলো—হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় মহিলাদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয়। এমনকি এক আয়াতও পড়া জায়েজ নয়।
দলিল
১. হাদিস:
হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
«لَا تَقْرَأِ الْحَائِضُ وَلَا الْجُنُبُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ»
— সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৩১; সুনানে আবু দাউদ; সুনানে ইবনে মাজাহ
(হাদিসটির সনদ নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও হানাফি ফুকাহায়ে কেরাম এর ভিত্তিতে বিধান দিয়েছেন।)
২. ফিকহের মূলনীতি:
- হায়েজ অবস্থায় মহিলা পবিত্র নয়, তাই তার জন্য কুরআন স্পর্শ করা তো দূরের কথা, তিলাওয়াতও নিষিদ্ধ।
- তবে যিকির, দোয়া, দরুদ, তাসবিহ ইত্যাদি পড়া জায়েজ।
হানাফি কিতাবের বক্তব্য
আল-হিদায়া-তে আছে:
«ولا تقرأ الحائض والنفساء القرآن»
— আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি) গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত উল্লেখ করে বলা হয়েছে:
«الحيض يمنع القراءة»
— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৩
ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:
«الحائض لا تقرأ القرآن»
— ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭