স্বামী যদি বলেন "ভালো না লাগলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা" — এতে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পায়?
Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi
Question
—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত বুঝিয়েছেন আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।
Answer
উত্তর
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট শরয়ী সিদ্ধান্ত:
স্বামী যদি তাফবীজের (স্ত্রীকে নিজে থেকে তালাক নেওয়ার ক্ষমতা বা অধিকার অর্পণের) নিয়ত ছাড়া উক্ত কথাগুলো বলে থাকেন এবং মূল উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে উপদেশ দেওয়া বা সততার সাথে সংসার করতে বলা, তবে শরীআতের দৃষ্টিতে স্ত্রীর নিকট তালাক গ্রহণের কোনো অধিকার হস্তান্তরিত হয়নি (তাফবীজে তালাক অর্জিত হয়নি) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৮, ৩৯০; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫, ১৫০; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৬৯, ২৭০]।
বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ:
১. তাফবীজে তালাকের মূলনীতি:
ইসলামি ফিকহে স্বামীর দেওয়া তালাকের অধিকার ব্যবহার করে স্ত্রীর নিজের ওপর নিজে তালাক গ্রহণ করার বিধানকে 'তাফবীযে তালাক' (تفويض الطلاق) বলা হয়। এটি কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামী কর্তৃক তাফবীজের সুনির্দিষ্ট নিয়তসহ বা স্পষ্ট শর্তাবলীর মাধ্যমে অধিকার প্রদান করা আবশ্যক [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৬৯]।
২. নিয়ত না থাকার হুকুম:
স্বামী যদি মুখের কথায় বা কেনায়াহ (অস্পষ্ট) শব্দে এ জাতীয় কথা বলেন, কিন্তু অন্তরে তাফবীজের (তালাক অর্পণের) কোনো নিয়ত না থাকে, তবে তা দ্বারা কোনো অবস্থাতেই তাফবীযে তালাক বা অধিকার লাভ হয় না [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০]।
৩. উপদেশ ও তালাক চাওয়ার ফিকহী পার্থক্য:
প্রশ্নোক্ত সুরতে স্বামী স্পষ্ট বুঝিয়েছেন যে—তিনি স্ত্রীকে নিজে নিজে তালাক দেওয়ার কোনো ক্ষমতা দেননি; বরং ভালো হয়ে চলার উপদেশ দিয়েছেন এবং প্রতারণা না করে প্রয়োজনে স্বামীর কাছ থেকে তালাক চেয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। ফিকহের পরিভাষায় স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর কাছে তালাক চাওয়া (তালাক তলব করা বা খোলা করা) এবং স্ত্রীর নিজেকে নিজে তালাক দেওয়া (তাফবীয)—এ দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয় [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৬৯; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫]।
৪. বর্তমান অবস্থা:
অতএব, স্ত্রী নিজে থেকে নিজের ওপর তালাক গ্রহণ করার কোনো শরয়ী অধিকার লাভ করেননি। আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় সম্পূর্ণ বহাল ও নিরাপদ রয়েছে।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮৮: (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক, ৩য় পরিচ্ছেদ: তাফবীযে তালাকের বিবরণ — নিয়ত ব্যতীত অস্পষ্ট বাক্যে তাফবীয বা তালাকের অধিকার অর্জিত না হওয়া) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৮]।
- পৃষ্ঠা: ৩৯০: (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক — তাফবীজের জন্য স্বামীর সুনির্দিষ্ট নিয়ত ও অধিকার অর্পণের শর্তাবলী) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৯০]।
২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৩৫: (অধ্যায়: বাবুত তাফবীয — স্ত্রীর নিকট তালাকের অধিকার অর্পিত হওয়ার শরয়ী শর্ত ও নিয়তের বাধ্যবাধকতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫]।
- পৃষ্ঠা: ১৫০: (অধ্যায়: বাবুত তাফবীয — অস্পষ্ট কথা বা উপদেশসূচক বাক্যে নিয়ত ছাড়া তাফবীয না হওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৩শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০]।
৩. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২৬৯–২৭০: (অধ্যায়: কাবিননামায় তাফবীযে তালাক প্রসঙ্গ — তাফবীজের শরয়ী নিয়ম ও অধিকার হস্তান্তরের ফিকহী নিয়মাবলী) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৬৯, ২৭০]।
আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।