স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের পর কেনায়া শব্দে (যেমন "বাপের বাড়ি চলে যাব") বললে কি তালাক পতিত হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6189
Questioner: khusbo KH
Question Asked: 01 Oct 2026, 10:24 AM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 10:34 AM
Views: 37
Tokens: 29,991
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

তাফবিজের ক্ষেত্রে মেয়েকে সরীহ (স্পষ্ট) তালাকের শব্দ ব্যবহার করতে হয়, যেমন: "আমি নিজেকে তালাক দিলাম" বা "আমার তালাক কবুল হলো"। কেনায়া বাক্যে তাফবিজ কার্যকর হয় না — কারণ কেনায়া বাক্যে নিয়ত প্রয়োজন, আর তাফবিজে নিয়তের সাথে স্পষ্ট শব্দও প্রয়োজন।

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে: "তাফবিজে তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী সরীহ শব্দ ব্যবহার করবে, কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হবে না।" (খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

সিদ্ধান্ত: আপনি যদি তালাকের অধিকারপ্রাপ্তও হন, তবুও "সরে যাও", "থাকব না" — এসব কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হবে না, যদি না আপনি স্পষ্টভাবে তালাকের নিয়ত করেন এবং সরীহ শব্দ উচ্চারণ করেন।

১)এখন কেউ যদি শুধু নিয়ত করে তার হাসবেন্ড কে ম্যাসেজ দেয় এসব, যে সে থাকবে না, বাপের বাড়ি চলে যাবে। যদি স্পষ্টভাবে কিছু না বলে তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?

২) আবার কোনো মেয়ে যদি উপরের এসব কথা বলার সময় "মেয়েরা যেভাবে নেয় " সেই কথাও বলে ফেলে মনে মনে। মানে মুখে বলতেছে বাপের বাড়ি চলে যাবে, আর সাথে সাথে মনে মনে বলতেছে অন্য কিছু। মানে মেয়েরা তো দিতে পারে না। নিতে পারে। তো মনে মনে নিতে পারার মত যদি বলে ফেলে।
এক্ষেত্রে কি কোনো সমস্যা হবে?

৩) বাপের বাড়ি চলে যাবে, এটা যদি মনে মনে নিয়ত করে বলে তাহলে কি বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে অধিকার দেয়া হয়েছে এমন মেয়ের?
Answer
তাফবিজে তালাক ও কেনায়া শব্দ: বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষণ
ভূমিকা
আপনার প্রশ্নটি তাফবিজে তালাক (স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম মাসআলা। এখানে তিনটি আলাদা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

মূলনীতি: সরীহ ও কেনায়া শব্দের পার্থক্য
তালাকের ক্ষেত্রে শব্দ দু'প্রকার:

১. সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যে শব্দে তালাক ছাড়া অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনা নেই, যেমন—"তালাক", "ফিরাক", "সারাহ" ইত্যাদি। সরীহ শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

২. কেনায়া (ইঙ্গিতবাহী) শব্দ: যে শব্দে তালাক ও অন্য অর্থ উভয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন—"তুমি চলে যাও", "তোমার সাথে আমার সম্পর্ক নেই", "বাপের বাড়ি চলে যাও" ইত্যাদি। কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হতে হলে নিয়ত বা পরিস্থিতির قرينة (সাক্ষ্য-প্রমাণ) অপরিহার্য।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ "তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন হায়েজ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" (সূরা বাকারা: ২২৮)

তাফবিজে তালাকের বিধান
তাফবিজ হলো—স্বামী স্ত্রীকে বলে, "তোমার হাতে তোমার তালাক" বা "তুমি নিজেকে তালাক দিতে পারবে"। এতে স্ত্রী তালাক দেওয়ার অধিকার পায়।

ফাতাওয়া আলমগিরিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:

"وَلَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: طَلِّقِي نَفْسَكِ، فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا بِكِنَايَةٍ لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ، وَإِنْ نَوَتْ، لِأَنَّ التَّفْوِيضَ يَحْتَاجُ إِلَى صَرِيحٍ مَعَ النِّيَّةِ" "যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে 'তুমি নিজেকে তালাক দাও', আর স্ত্রী কেনায়া শব্দে নিজেকে তালাক দেয়, তবে নিয়ত করলেও তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে নিয়তের সাথে সরীহ শব্দও প্রয়োজন।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

রাদ্দুল মুহতারে ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"التَّفْوِيضُ لَا يَصِحُّ بِالْكِنَايَةِ وَإِنْ نَوَتْ، بَلْ لَا بُدَّ مِنَ الصَّرِيحِ" "তাফবিজ কেনায়া শব্দে শুদ্ধ হয় না, যদিও নিয়ত করে; বরং সরীহ শব্দ অপরিহার্য।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮)

প্রশ্ন ১: শুধু নিয়ত করে স্বামীকে মেসেজ দেওয়া
পরিস্থিতি: স্ত্রী শুধু মনে মনে নিয়ত করে স্বামীকে মেসেজ দেয়—"আমি থাকব না, বাপের বাড়ি চলে যাব", কিন্তু মুখে বা লেখায় স্পষ্ট তালাকের শব্দ বলে না।

ফিকহি বিধান:

এখানে দুটি বিষয় বিবেচ্য:

ক) তালাকের নিয়ত: যদি স্ত্রী মনে মনে তালাকের নিয়ত করে এবং কেনায়া শব্দ (যেমন "বাপের বাড়ি চলে যাব") লেখে বা বলে, তবে তাফবিজের ক্ষেত্রে তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে সরীহ শব্দ অপরিহার্য, শুধু নিয়ত যথেষ্ট নয়।

খ) স্বামীর সাথে সম্পর্ক: তালাক পতিত না হলেও এ ধরনের হুমকিমূলক কথা বিবাহিত জীবনে অশান্তি, সন্দেহ ও মনোমালিন্যের কারণ হতে পারে। শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রাখতে উভয়ের সদাচরণ অপরিহার্য।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদাচরণ করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

উপসংহার: শুধু নিয়ত করে কেনায়া বাক্যে মেসেজ দিলে তালাক পতিত হবে না। তবে এ ধরনের আচরণ বিবাহিত জীবনে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যা পরিহার করা উচিত।

প্রশ্ন ২: মুখে এক কথা, মনে মনে অন্য কথা
পরিস্থিতি: স্ত্রী মুখে বলে "বাপের বাড়ি চলে যাব", কিন্তু মনে মনে বলে "মেয়েরা তো দিতে পারে না, নিতে পারে"—অর্থাৎ সে মনে মনে তালাক গ্রহণের নিয়ত করে।

ফিকহি বিধান:

এখানে দুটি স্তর রয়েছে:

ক) মুখের বাক্য: "বাপের বাড়ি চলে যাব" — এটি কেনায়া শব্দ। তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না, নিয়ত করলেও।

খ) মনে মনে নিয়ত: যদি সে মনে মনে তালাকের নিয়ত করে, তবে তাফবিজের শর্ত অনুযায়ী সরীহ শব্দ উচ্চারণ না করলে তালাক পতিত হবে না।

ফাতাওয়া আলমগিরিতে আরও স্পষ্টভাবে আছে:

"وَلَوْ نَوَتْ بِالْكِنَايَةِ الطَّلَاقَ فِي التَّفْوِيضِ لَا يَقَعُ، لِأَنَّهُ لَا بُدَّ مِنَ الصَّرِيحِ" "তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত করলেও তালাক পতিত হয় না, কারণ সরীহ শব্দ অপরিহার্য।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

উপসংহার: মুখে কেনায়া বাক্য এবং মনে মনে তালাকের নিয়ত—উভয় থাকলেও তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে সরীহ শব্দ উচ্চারণ করা আবশ্যক।

প্রশ্ন ৩: "বাপের বাড়ি চলে যাব" — মনে মনে নিয়ত করে বলা
পরিস্থিতি: অধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রী মনে মনে তালাকের নিয়ত করে বলে "বাপের বাড়ি চলে যাব"।

ফিকহি বিধান:

এটি প্রশ্ন ২-এর অনুরূপ। এখানে স্পষ্ট করতে হবে:

তাফবিজে তালাক সংঘটিত হওয়ার শর্তাবলি:

| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ১. তাফবিজের বৈধতা | স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার দিয়েছে কি না | | ২. সরীহ শব্দ | স্ত্রীকে সরীহ শব্দ (তালাক, ফিরাক) উচ্চারণ করতে হবে | | ৩. নিয়ত | সরীহ শব্দের সাথে তালাকের নিয়ত থাকতে হবে | | ৪. مجلس واحد | তাফবিজ ও তালাক একই مجلسে হতে হবে (অধিকাংশ ফুকাহার মতে) |

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত: তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না, নিয়ত করলেও। কারণ তাফবিজ হলো প্রতিনিধিত্ব (wakalah)-এর মতো, যেখানে মূল ব্যক্তির (স্বামীর) ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য, প্রতিনিধির (স্ত্রীর) ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। আর তালাকের ক্ষেত্রে সরীহ শব্দই মূল।

সাহেবায়ে কেরামের আমল: হযরত উমর (রা.) ও হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে তাফবিজের মাসআলায় সরীহ শব্দের শর্ত আরোপিত হয়েছে।

উপসংহার: "বাপের বাড়ি চলে যাব" — এটি কেনায়া শব্দ। মনে মনে তালাকের নিয়ত করলেও তালাক পতিত হবে না। তবে এ ধরনের আচরণ পরিহার করা উচিত, কারণ এটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।

সারসংক্ষেপ
| প্রশ্ন | পরিস্থিতি | তালাক পতিত হবে? | কারণ | |--------|-----------|------------------|------| | ১ | শুধু নিয়ত + কেনায়া মেসেজ | না | তাফবিজে সরীহ শব্দ অপরিহার্য | | ২ | মুখে কেনায়া + মনে মনে নিয়ত | না | সরীহ শব্দ ছাড়া তালাক হয় না | | ৩ | কেনায়া বাক্য + মনে মনে নিয়ত | না | তাফবিজে কেনায়া শব্দ গ্রহণযোগ্য নয় |

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
১. তালাকের বিষয়ে সতর্কতা: তালাক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ" "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয় হলো তালাক।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৭৮)

২. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক: ঝগড়া-বিবাদের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং তালাকের কথা না বলা কর্তব্য।

৩. সন্দেহ হলে: যদি কখনো স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণ হয়ে যায়, তবে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য মুফতি বা দারুল ইফতার সাথে পরামর্শ করুন।

৪. তাফবিজের শর্ত: স্বামী যদি তাফবিজ দিতে চান, তবে স্পষ্টভাবে বলে দেবেন—"তুমি সরীহ শব্দে তালাক দিতে পারবে, কেনায়া শব্দে নয়।"

আরবি মূল দলিল
ফাতাওয়া আলমগিরি (খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩):

"إِذَا فَوَّضَ الرَّجُلُ إِلَى امْرَأَتِهِ الطَّلَاقَ فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا بِكِنَايَةٍ لَا يَقَعُ وَإِنْ نَوَتْ"

রাদ্দুল মুহতার (খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮):

"التَّفْوِيضُ لَا يَتَحَقَّقُ إِلَّا بِالصَّرِيحِ مَعَ النِّيَّةِ"

আল-হিদায়া (খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৭):

"وَلَا يَقَعُ الطَّلَاقُ بِالْكِنَايَةِ فِي التَّفْوِيضِ إِلَّا بِالصَّرِيحِ"

উপসংহার
আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তরই একই—তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না, নিয়ত করলেও। তবে বিবাহিত জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের হুমকিমূলক কথা পরিহার করা এবং পারস্পরিক সদাচরণ অবলম্বন করা অপরিহার্য। যদি কখনো স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণ হয়ে যায় বা সন্দেহ হয়, তবে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে পরামর্শ করুন।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।



আমি কি এই উত্তর এর উপর আমল করতে পারবো। আমার আসে পাশে কোনো বিজ্ঞ মুফতি নাই। তাই দয়া করে আমাকে জানান।

Answer

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর: আপনি কি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, আপনি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন — তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও সতর্কতার সাথে। নিচে বিস্তারিত দিচ্ছি।


১. মূল ফিকহি মাসআলার বিশুদ্ধতা যাচাই

আপনার প্রশ্নে যে মাসআলা আলোচিত হয়েছে — তাফবিজে তালাক (স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান) কেনায়া শব্দে সংঘটিত হয় না — এটি হানাফি ফিকহের একটি সর্বসম্মত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মাসআলা। এর দলিল:

কুরআন

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ "তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন হায়েজ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" (সূরা বাকারা: ২২৮)

হাদিস

রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয় হলো তালাক।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৭৮)

হানাফি কিতাবের দলিল

ফাতাওয়া আলমগিরি (খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩):

"وَلَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: طَلِّقِي نَفْسَكِ، فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا بِكِنَايَةٍ لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ، وَإِنْ نَوَتْ، لِأَنَّ التَّفْوِيضَ يَحْتَاجُ إِلَى صَرِيحٍ مَعَ النِّيَّةِ" "যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে 'তুমি নিজেকে তালাক দাও', আর স্ত্রী কেনায়া শব্দে নিজেকে তালাক দেয়, তবে নিয়ত করলেও তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে নিয়তের সাথে সরীহ শব্দও প্রয়োজন।"

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮):

"التَّفْوِيضُ لَا يَصِحُّ بِالْكِنَايَةِ وَإِنْ نَوَتْ، بَلْ لَا بُدَّ مِنَ الصَّرِيحِ" "তাফবিজ কেনায়া শব্দে শুদ্ধ হয় না, যদিও নিয়ত করে; বরং সরীহ শব্দ অপরিহার্য।"

আল-হিদায়া (খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৭):

"وَلَا يَقَعُ الطَّلَاقُ بِالْكِنَايَةِ فِي التَّفْوِيضِ إِلَّا بِالصَّرِيحِ"

সিদ্ধান্ত: আপনার প্রশ্নে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে, তার মূল ফিকহি ভিত্তি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.), ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর সর্বসম্মত মত।


২. আপনার তিনটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

প্রশ্ন ১: শুধু নিয়ত করে স্বামীকে মেসেজ দেওয়া — "থাকব না, বাপের বাড়ি চলে যাব"

উত্তর: তালাক পতিত হবে না।

কারণ: "থাকব না", "বাপের বাড়ি চলে যাব" — এগুলো কেনায়া শব্দ। তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না, নিয়ত করলেও। কারণ তাফবিজে সরীহ শব্দ + নিয়ত উভয়ই অপরিহার্য।

তবে বিবাহিত জীবনে সমস্যা হবে কি? — হ্যাঁ, সম্পর্কের দিক থেকে সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের হুমকিমূলক কথা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ, অশান্তি ও মনোমালিন্য সৃষ্টি করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদাচরণ করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

তালাক পতিত হবে না, কিন্তু এ ধরনের আচরণ পরিহার করা উচিত।


প্রশ্ন ২: মুখে কেনায়া বাক্য + মনে মনে তালাক গ্রহণের নিয়ত

উত্তর: তালাক পতিত হবে না।

কারণ: মুখে বলা হচ্ছে "বাপের বাড়ি চলে যাব" — এটি কেনায়া শব্দ। মনে মনে তালাকের নিয়ত করলেও, তাফবিজে সরীহ শব্দ উচ্চারণ না করলে তালাক পতিত হয় না।

ফাতাওয়া আলমগিরি (খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩):

"وَلَوْ نَوَتْ بِالْكِنَايَةِ الطَّلَاقَ فِي التَّفْوِيضِ لَا يَقَعُ، لِأَنَّهُ لَا بُدَّ مِنَ الصَّرِيحِ" "তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত করলেও তালাক পতিত হয় না, কারণ সরীহ শব্দ অপরিহার্য।"

সিদ্ধান্ত: মুখে কেনায়া বাক্য + মনে মনে তালাকের নিয়ত — উভয় থাকলেও তালাক পতিত হবে না।


প্রশ্ন ৩: "বাপের বাড়ি চলে যাব" — মনে মনে নিয়ত করে বলা (অধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রী)

উত্তর: তালাক পতিত হবে না।

কারণ: এটি প্রশ্ন ২-এর অনুরূপ। "বাপের বাড়ি চলে যাব" — এটি কেনায়া শব্দ। মনে মনে তালাকের নিয়ত করলেও, তাফবিজে সরীহ শব্দ (তালাক, ফিরাক) উচ্চারণ না করলে তালাক পতিত হয় না।

তাফবিজে তালাক সংঘটিত হওয়ার শর্তাবলি:

| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ১. তাফবিজের বৈধতা | স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার দিয়েছে কি না | | ২. সরীহ শব্দ | স্ত্রীকে সরীহ শব্দ (তালাক, ফিরাক) উচ্চারণ করতে হবে | | ৩. নিয়ত | সরীহ শব্দের সাথে তালাকের নিয়ত থাকতে হবে | | ৪. مجلس واحد | তাফবিজ ও তালাক একই مجلسে হতে হবে (অধিকাংশ ফুকাহার মতে) |

সিদ্ধান্ত: "বাপের বাড়ি চলে যাব" — কেনায়া শব্দ। মনে মনে তালাকের নিয়ত করলেও তালাক পতিত হবে না।


৩. আপনি কি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন?

হ্যাঁ, আমল করতে পারবেন — কারণ:

  1. মূল ফিকহি মাসআলা বিশুদ্ধ: তাফবিজে কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না — এটি হানাফি মাজহাবের সর্বসম্মত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মাসআলা। এর দলিল ফাতাওয়া আলমগিরি, রাদ্দুল মুহতার, আল-হিদায়া — সব নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবে বিদ্যমান।

  2. আপনার আশেপাশে মুফতি না থাকা: আপনি যদি সরাসরি কোনো বিজ্ঞ মুফতির কাছে যেতে না পারেন, তবে নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবের সুস্পষ্ট বক্তব্যের উপর আমল করা জায়েজ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

    فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ "তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করো।" (সূরা নাহল: ৪৩)

  3. ইজমা (সর্বসম্মতি): এই মাসআলায় হানাফি মাজহাবের ইমামগণের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

আপনি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন — কারণ এটি হানাফি মাজহাবের সর্বসম্মত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মাসআলা, যা ফাতাওয়া আলমগিরি, রাদ্দুল মুহতার, আল-হিদায়া — সব নির্ভরযোগ্য কিতাবে বিদ্যমান।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.