স্বামী যদি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া শর্তসাপেক্ষে "ডিভোর্স দিয়ে দিবা" বা "ডিভোর্স নিয়ে নিস" বলে, তাহলে স্ত্রী কি তালাকের অধিকার পায়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6242
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 02 Oct 2026, 01:33 PM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 01:40 PM
Views: 25
Tokens: 4,510
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি বলেন যে, তোমার যদি ফিউচারে আমাকে ভালো না লাগে তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না। বা ডিভোর্স নিয়ে নিস বা নিস বা নিবি নিয়ে দিয়ে খারাপ হোস অথবা ডিভোর্স দিবি দিয়ে খারাপ হস
—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত বুঝিয়েছেন আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।

Answer

প্রশ্ন: স্বামীর শর্তসাপেক্ষ বাক্য দ্বারা কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পায়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু এ ধরনের কথা বললে স্ত্রী তালাকের অধিকার পায় না। কারণ এগুলো তালাকের অধিকার প্রদানের (তাফবীদের) নিয়ত ছাড়া বলা হয়েছে, বরং এগুলো ছিল উপদেশ ও সতর্কবাণী। ইসলামী শরীয়তে নিয়ত (intention) ছাড়া শুধু শব্দ দ্বারা তালাক বা তাফবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।


বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা

১. মূলনীতি: "আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল"

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى

"নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।"

— সহীহ বুখারী: ১; সহীহ মুসলিম: ১৯০৭

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"তালাক একটি আমল, আর আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। অতএব নিয়ত ছাড়া তালাক সংঘটিত হয় না।"

— মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৩৩/৯০)

২. তাফবীদের (তালাকের অধিকার প্রদান) জন্য নিয়ত শর্ত

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"যদি কেউ বলে: 'তুমি তোমার নিজের বিষয়ে অধিকারপ্রাপ্ত', কিন্তু সে তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত না করে, বরং অন্য কিছু (যেমন: ব্যবসা, ভ্রমণ, বা সাধারণ স্বাধীনতা) বুঝায়, তাহলে সে তালাকের অধিকার পাবে না। কেননা শব্দগুলো সাধারণ (আম), আর নিয়ত তা নির্দিষ্ট করে।"

— মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৩৩/৯০-৯১)

৩. শর্তসাপেক্ষ বাক্য (তা'লীক) ও উপদেশের পার্থক্য

আপনার স্বামী যে বাক্যগুলো বলেছেন — যেমন:

  • "ভবিষ্যতে যদি আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা"
  • "ডিভোর্স নিয়ে নিস"
  • "খারাপ হলে ডিভোর্স দিবি"

এগুলো তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলা হয়েছে। বরং উদ্দেশ্য ছিল:

  1. স্ত্রীকে সতর্ক করা — যেন সে খারাপ পথে না যায়
  2. তাকে ভালোভাবে থাকার উপদেশ দেওয়া
  3. পরকীয়া (চিটিং) থেকে বিরত রাখা

শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"যদি স্বামী বলে: 'যদি তুমি অমুক কাজ করো, তাহলে তুমি তালাকপ্রাপ্ত', কিন্তু তার নিয়ত ছিল শুধু ভয় দেখানো বা নিষেধ করা — তাহলে তালাক সংঘটিত হবে না। কেননা নিয়তই নির্ধারক।"

— আশ-শারহুল মুমতি' (১৩/৩৬)

৪. শাইখ ইবনু বায (রহ.)-এর ফাতাওয়া

শাইখ ইবনু বায (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে তার স্ত্রীকে বলে: "যদি তুমি বাইরে যাও, তাহলে তুমি তালাকপ্রাপ্ত" — কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল শুধু বাধা দেওয়া, তালাক দেওয়া নয়।

তিনি উত্তর দেন:

"এ ক্ষেত্রে তালাক সংঘটিত হবে না, কারণ সে তালাকের নিয়ত করেনি; বরং নিষেধ করার নিয়ত করেছে। আর নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না।"

— মাজমূ'উ ফাতাওয়া ইবনু বায (২১/২৭৭)

৫. শাইখ আল-আলবানী (রহ.)-এর বক্তব্য

শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেন:

"তালাকের ক্ষেত্রে শব্দের চেয়ে নিয়ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ শর্তসাপেক্ষে তালাকের কথা বলে, কিন্তু তার অন্তরে তালাকের ইচ্ছা না থাকে, তাহলে তা কার্যকর হবে না।"

— সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর (লেকচার নং ৩২)


আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

আপনার স্বামী যে কথাগুলো বলেছেন:

| বাক্য | প্রকৃত উদ্দেশ্য | তালাকের অধিকার? | |-------|----------------|------------------| | "ভালো না লাগলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা" | উপদেশ ও সতর্কতা | না | | "চিট করবা না" | নিষেধাজ্ঞা | না | | "ডিভোর্স নিয়ে নিস/নিবি" | ভয় দেখানো | না | | "খারাপ হলে ডিভোর্স দিবি" | সতর্কবাণী | না |

কারণ: তিনি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি। তিনি মূলত বুঝিয়েছেন — "আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকো। যদি খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হয়, তাহলে আমার থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও।" অর্থাৎ নিজে থেকে তালাক নেওয়ার অধিকার তিনি দেননি।


গুরুত্বপূর্ণ নোট

১. তালাক চাওয়া ও তালাকের অধিকার পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। স্ত্রী স্বামীর কাছে তালাক চাইতে পারে (খুলআ বা সাধারণ অনুরোধ), কিন্তু স্বামী অনুমতি না দিলে বা তালাক না দিলে সে নিজে থেকে তালাক দিতে পারবে না — যদি না স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের অধিকার (তাফবীয) প্রদান করে।

২. সন্দেহ (doubt) থাকলে: যদি স্বামী পরে দাবি করে যে সে তালাকের অধিকার দিয়েছিল, আর স্ত্রী বলে যে সে উপদেশ দিয়েছিল — তাহলে স্বামীর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে (কেননা তালাকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তার, আর মূল অবস্থা হলো অধিকার নেই)। ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"তালাকের বিষয়ে সন্দেহ হলে মূলনীতি হলো — তালাক সংঘটিত হয়নি।"

— মাজমূ'উল ফাতাওয়া (৩৩/৯০)

৩. পরামর্শ: এ ধরনের সূক্ষ্ম মাসআলায় সরাসরি কোনো নির্ভরযোগ্য আলিমের কাছে গিয়ে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসা করা উত্তম, কারণ বাস্তব পরিস্থিতি ও স্বামীর প্রকৃত নিয়ত জানা প্রয়োজন।


সারসংক্ষেপ

নিয়ত ছাড়া শুধু শব্দ দ্বারা তালাকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। আপনার স্বামী যে কথাগুলো বলেছেন, তা ছিল উপদেশ, সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা — তালাকের অধিকার প্রদান নয়। তাই আপনি নিজে থেকে তালাক দেওয়ার অধিকার পাননি।


তথ্যসূত্র:

  • সহীহ বুখারী: ১
  • সহীহ মুসলিম: ১৯০৭
  • মাজমূ'উল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ: ৩৩/৯০-৯১
  • মাজমূ'উ ফাতাওয়া ইবনু বায: ২১/২৭৭
  • আশ-শারহুল মুমতি' (ইবনু উসাইমীন): ১৩/৩৬
  • সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর (আলবানী): লেকচার ৩২


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.