Hayez bisoye prosno

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6160
Questioner: Sumaiya akter Kona
Question Asked: 30 Sep 2026, 07:35 PM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 07:50 PM
Views: 43
Tokens: 5,971
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েজ হওয়ার সম্ভাব্য সময়ে প্রথমে ঘোলাটে/রঙিন স্রাব অল্প অল্প করে আসছিল। আমি ৭ দিন নিয়মিত লক্ষ্য করেছি এবং সেটাকেই হায়েজ মনে করেছি। এরপর ২ দিন পরিষ্কার/স্বচ্ছ স্রাব দেখায় ফরজ গোসল করে নামাজ শুরু করি। ৯ম দিনে আবার রক্ত দেখি। তখন ইস্তেহাজা মনে করে নামাজ পড়েছি। কিন্তু এখন যে রক্ত দেখছি, তার ধরন এবং আমার শারীরিক সব লক্ষণ দেখে এটাকে ১০০% হায়েজের মতো মনে হচ্ছে।
এখন আমার confusion হলো—কিছু ফতোয়ায় বলা হয়, হায়েজের সময় স্রাবের রং পরিবর্তন হলেও সেটি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ২–৩ দফায় ঘোলাটে স্রাব এসেছিল, যার মধ্যে একবার টানা ৭ দিন আমি খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করেছি; বাকি সময়গুলো এতটা খেয়াল করিনি। তাহলে কি ওই প্রথম ৭ দিনের ঘোলাটে স্রাবই হায়েজের অংশ ছিল? নাকি এখন যে রক্ত proper period-এর মতো এবং সব শারীরিক লক্ষণও হায়েজের মতো—সেটাকেই হায়েজ ধরা হবে?

Answer

স্পষ্ট শরয়ী সিদ্ধান্ত:

১. আপনার শরয়ী 'হায়েজ' (মাসিক) ছিল ওই ১ম সপ্তাহের (প্রথম ৭ দিনের) ঘোলাটে/রঙিন স্রাবটিই। ২. বর্তমানে যে টাটকা লাল রক্ত দেখতে পাচ্ছেন—তা রঙ বা শারীরিক লক্ষণে যতই হায়েজের মতো মনে হোক না কেন, শরীয়তের পরিভাষায় এটি হায়েজ নয়; বরং এটি 'ইস্তেহাজা' (অসুস্থতাজনিত রক্তপাত) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫, ১৩৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৯]।


কেন প্রথম ৭ দিনের ঘোলাটে স্রাবকেই হায়েজ ধরা হবে?

  • স্রাবের রঙের ফিকহী নিয়ম: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি হলো—হায়েজের সম্ভাব্য সময়সূচীতে নির্গত যেকোনো রঙের স্রাব (যেমন: টিয়া/কমলা, হলুদ, কফি/বাদামি, ময়লা ইত্যাদি) যতক্ষণ না পুরোপুরি সাদা বা স্বচ্ছ হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।
  • ১০ দিনের সীমা অতিক্রম করা: প্রথম দিনের ঘোলাটে স্রাব শুরু হওয়া থেকে নিয়ে বর্তমানে তাজা রক্তপাত পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট সময় ১০ দিন পার হয়ে প্রায় ১৭-১৮ দিনে পৌঁছেছে। ফিকহের নিয়ম হলো—যখন রক্ত/স্রাব ১০ দিনের সীমা পার হয়ে যায়, তখন মহিলাকে তার পূর্বের অভ্যাস বা আদাতে (আপনার ক্ষেত্রে ৭ দিন) ফেরত নেওয়া হয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮]। যেহেতু প্রথম ঘোলাটে স্রাবটি টানা ৭ দিন এসেছিল, তাই প্রথম ৭ দিনেই আপনার এ মাসের হায়েজ পূর্ণ হয়ে গেছে।

কেন বর্তমানের লাল রক্তকে হায়েজ ধরা যাবে না?

ইসলামী শরীআতে একটি অত্যন্ত মৌলিক নিয়ম হলো: এক হায়েজ শেষ হয়ে পরবর্তী হায়েজ শুরু হতে হলে দুটি হায়েজের মাঝখানে কমপক্ষে ১৫ দিনের পূর্ণ পবিত্রতা (তুহর) থাকা আবশ্যক [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।

যেহেতু প্রথম ৭ দিনের পর আপনার মাঝে মাত্র দেড় দিন স্বচ্ছ ছিল (১৫ দিন পার হয়নি), তাই শরীআতের দৃষ্টিতে এই রক্তকে নতুন কোনো হায়েজ বা মূল হায়েজ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। ১০ দিনের সীমা পার হওয়ার কারণে প্রথম ৭ দিনের পরের সবটুকু সময় ইস্তেহাজা হিসেবেই বিবেচিত হবে।


আপনার এখন চূড়ান্ত করণীয়:

১. অনতিবিলম্বে নামায শুরু করা: ১০ দিন পূর্ণ হওয়া বা রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আজই গোসল/ওযূ করে নামায পড়া শুরু করুন [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮, ১৩৯]। ২. কাযা নামায আদায়: দ্বিতীয়বারের তাজা রক্তকে হায়েজ মনে করে যে কয়দিন ভুলবশত নামায পড়েননি, সেই ফরয নামাযগুলোর কাযা আদায় করে নিন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৭]। ৩. ইস্তেহাজার ওযূ: যতদিন এই রক্তপাত থাকবে, আপনি 'মা'যূর' হিসেবে প্রতি ফরয নামাযের ওয়াক্তে একবার ওযূ করবেন এবং সেই ওযূ দিয়ে ওয়াক্তের ফরয ও সুন্নাত নামায পড়তে থাকবেন [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৬]।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হায়েজের রংসমূহ ও সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ মেয়াদ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫]।
  • পৃষ্ঠা: ১৩৮–১৩৯: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ইস্তেহাজার বিবরণ — ১০ দিন পার হলে অভ্যাসে ফেরত যাওয়া এবং দুই হায়েজের মাঝে ১৫ দিন পবিত্রতা থাকার বাধ্যবাধকতা) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৮, ১৩৯]।

২. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৪৭: (পরিচ্ছেদ: হায়েজ ও ইস্তেহাজা — ১০ দিনের সর্বোচ্চ মেয়াদ ও মধ্যবর্তী ১৫ দিনের তুহর/পবিত্রতার বিধান) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০: (অধ্যায়: বাবুল হায়েজ ওয়ানিফাস — রক্ত ১০ দিনের বেশি হলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী হিসাব করা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৯৯, ২০০]।

৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮৬–৩৮৭: (অধ্যায়: মা'যূর ও ইস্তেহাজাওয়ালীর নামাযের পদ্ধতি) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮৬, ৩৮৭]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.